মুসলমানরাই করোনা ছড়াচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় ফেসবুকে প্রচারণা
ঢাকা: শ্রীলঙ্কায় মুসলিমরা করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্জনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো কথাই বলছে না। উপরন্তু সরকারের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, এই করোনাভাইরাস বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান।
শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বললেই চলে। আর এখন কোভিড-১৯ মহামারিকে সরকার ব্যবহার করছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে লঙ্ঘন করতে।
এর ফলে অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের কাছে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি লিখেছে। তাতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর মার্চে সরকার একটি নির্দেশনা প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের সবার দেহ পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যা ইসলামিক রীতির বিরুদ্ধ। সরকারগুলো যাতে এই কাজ না করে সেজন্য সুপারিশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে এ কাজের কড়া সমালোচনা করেন জাতিসংঘের চার স্পেশাল র্যাপোর্টিউর। তাতে বলা হয়, এটা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
মৃতদেহ কবর দেওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ফেসবুকে আর্জি জানিয়েছিলেন সরকারের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা রামজি রাজিক। এ অপরাধে তাকে ৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। এখনও তিনি জেলে আছেন।
এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বেশ কিছু আবেদন জমা রয়েছে আদালতে। শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমুলক আচরণের অভিযোগ করে সরকারের কাছে চিঠি লিখেছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন।