এমপির নাম ভাঙিয়ে নূরপুরে শিপন বাহিনীর তাণ্ডব: ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের নূরপুর রিকাবী বাজার এলাকায় নব্য এক সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে শিপন জমিদার ও তার দলবল এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে একটি হাউজিং প্রকল্প শুরু করেন। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই শিপন জমিদার (৪৯), রিপন (৪৬), এমরান, রনি (৩৫), মোঃ সুমন মিয়া (৪৫), সাজ্জাদ হোসেন লুড (৫০) ও মোঃ টরিন মিয়া (২৮) গং ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।

আনোয়ার হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পচু ব্যাপারী মাঠ সংলগ্ন প্রকল্পে হামলা চালায় শিপন বাহিনী। তারা হাউজিংয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেয়। ভুক্তভোগীর দাবি, শিপন তাকে হুমকি দিয়ে বলেছে— “সাত দিনের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা না দিলে তোর লাশ পদ্মা নদীতে ভাসবে। মনে রাখবি, রতন এমপি মানে আমিই এমপি।”

স্থানীয়দের তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শিপন জমিদার বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তার বর্তমান ক্যাডার বাহিনীতে রয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, “শিপন এমপি সাহেবের নাম ভাঙিয়ে এসব করছে। সম্ভবত এমপি সাহেব বিষয়টি জানেনই না। কিন্তু সাবেক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে সে নতুন গ্যাং তৈরি করেছে।”

এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় যার নম্বর ৮৪২ তারিখ: ১০/০২/২০২৬ইং। এ বিষয়ে থানা সরাসরি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে উল্লিখিত ৭ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে প্রাণভয়ে আনোয়ার হোসেন গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি অবিলম্বে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।