তিতুমীর কলেজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িততে শিবিরের ব্যানার দিয়ে ডাকতে গেলেই বাঁধা দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাঁধে সংঘর্ষ!

  • >তিতুমীর কলেজে শিবিরের ব্যানার টানাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলেই হামলা, পরে ছাত্রদের রক্ষায় পাশে দাঁড়াইলে ছাত্রদলের সঙ্গে বাঁধে সংঘর্ষ!
  •  > প্রথমে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেয় ছাত্রদল!

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি/রিয়া মনি: গতকাল শনিবার রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ ও একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার আগে সরকারি তিতুমীর কলেজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গ্রাফিতি শিবিরের ব্যানার দিয়ে ডেকে দেওয়া হয়। এতে বাঁদা দেয় কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরা। পরে সাংবাদিক সমিতির সাবেক এক নেতা শিবিরের কর্মী তিনি নিজ হাতে ব্যানার লাগাতে যায় গেলে ফের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাঁধা দেয়, পরে উপস্থিত শিবিরের বেশ কিছু নেতাকর্মীরা কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়, পরে তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে সাহায্য চায় এবং বিচার দেয়। এর কিছু সময় পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কথা বলতে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা পরে পরে ঘটে পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা।

শিবির এককর্মী ও সাংবাদিক সমিতির এক নেতা জানান, সরকারি তিতুমীর কলেজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গ্রাফিতি শিবিরের ব্যানার দিয়ে ডেকে দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলেই তাদের উপর শিবির হামলা করে। এর পরে ঘটে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ। শুরু হয় ব্যানার টানানো নিয়ে দ্বন্দ্ব, পরে সাংবাদিক কমিতি একটি পক্ষ নিয়ে নেয়। আজ রবিবার তিতুমীর কলেজ ও আশেপাশে খোঁজ খবর নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সাধারণ শিক্ষার্থী হাসান আরিফ জানান, গতকাল রাতের ঘটনাটি একেবারেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে গিয়ে শিবির ও সাংবাদিক সমিতির বেশ কিছু নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতা শিবিরের ব্যানার টানানো চেষ্টা করে।

ব্যানার ঝুঁলাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলেই হামলা, পরে ছাত্রদের রক্ষায় পাশে দাঁড়াই ছাত্রদল!

ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজে গভীর রাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল; যাতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরআগে প্রধান ফটকে শিবিরের ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ। আহতদের অধিকাংশই ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মী।

জানতে চাইলে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, এত রাতে ক্যাম্পাসে প্রায় ১২:০০ টায় কি করেন তারা? সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওদের বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা চাইলে বন্ধুরা (ছাত্রদল কর্মীরা) সহযোগিতা করতে আসে। এতে করে ছাত্রদলের উপর দোষ চাপানোর কিছুই নাই। কারণ ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশের সব সময় থাকবে।ছাত্রদলের একাধিক নেতা ও সাধরাণ কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, তিতুমীরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িততে শিবিরের ব্যানার দিয়ে ডাকতে গেলেই বাঁধা দেয় একবারেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরে বাঁধে সংঘর্ষ! সাংবাদিক সমিতির উপর ছাত্রদল নয় শিবির হামলা করেছে। এখানে ছাত্রদলকে জড়ানো কারণ হলো সাংবাদিক সমিতিতে শিবির ও ছাত্রলীগের কর্মীরা রয়েছে একারণে তারা ছাত্রদলকে মিথ্যা অভিযোগে যুক্ত করে। তিনি বলেন, এই ঘটনার আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বেশ কলেকজন দলের নেতাকর্মীরা আহত। তাছাড়া এই ঘটনায় যেসব সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে তারা ছাত্রদলের কাছে নিরাপত্তা ও প্রসাশনের কাছে বিচার চেয়েছেন।

একাধিক দল ও নেতাদের ভাষ্য, “কলেজে অনেক জায়গা থাকার পরেও সেখানে লাগানোর বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিষেধ করলেও তারা শোনেনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কি অ্যালার্জি আছে?’ এরপরেই ধাক্কা দিয়ে তারা একজনকে ফেলে দেয়।” ঘটনার পরে ছাত্রাবাসে খবর গেলে সেখান থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদলের ছেলেরাও আসে।

তবে ঘটনার বর্ণনায় তিতুমীর কলেজ শিবিরের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম সিয়াম বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জানতে তারা বেশ কয়েকটি ব্যানার টাঙালে রাতে ছাত্রদল খুলে ফেলে। রাতে নতুন করে লাগাতে গেলে তারা বাধা দেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ তাদের ৬-৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

তবে সাধারণ ছাত্রদের বাধার পর আপনারা ও সাংবাদিক সমিতি ব্যানার ফের টাঙাতে কেনো যান এমন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি শিবির নেতাদের কাছ থেকে।

###