নতুন সময়২৪.কম | আপডেট: 4:34 AM, December 5, 2025
কোনাবাড়ী থানা পুলিশের রোষানলে পড়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা!
* পুলিশ, সোর্স, ও কথিত সাংবাদিক মিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মামলায় ফাঁসিয়ে নগদ অর্থ ডাকাতি, জুলাই বিপ্লবের পর বিচারের দাবিতে ক্ষতিপূরণের মামলা করেও হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী!
* ক্ষতিপূরণ, সঠিক তদন্ত, ও বিচারের দাবিতে করা মামলায় চাহিদা মতো ঘুষ না পেয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে অবস্থান পিবিআই’র’ কর্মকর্তা আনোয়ারের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ!
* ৫ লক্ষ টাকা দিবি, না হয় মেরে ফেলবো, ইয়াবা-হেরোইন-ফেনসিডিল অথবা ডাকাতির মামলায় ভরে দেবো!
* গাজীপুর কোনাবাড়ী থানার সাবেক এএসআই লিটন-সোহাগসহ ১১ জনের নামে মামলা!
* বিভাগীয় ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পিবিআইয়ের তদন্তকারি কর্মকর্তাকে মোটা টাকা ঘুষ! মামলায় সঠিক বিচারের দাবি থাকলে টাকার কাছে দূর্বল ভুক্তভোগী জুনায়েদের পরিবার!
গাজীপুর থেকে ফিরে– ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টার সুমাইয়া ইসলাম ও সিনিয়র রিপোর্টার ফিরোজ আহমেদ:-বিএনপি’র সংগঠনকে পছন্দ করা, জুট ব্যবসায়ের সুবাদে পুলিশকে মাসোহারে মোটা অংকের চাঁদা না দেওয়ায় অপরাধে বিগত সরকারের আমলে বারবার হামলা মামলার শিকার হয়েছেন গাজীপুর কোনাবাড়ী এলাকার যুবক মোঃ জুনায়েদ হৃদয়। জুনায়েদ একেবারেই ছোট পরিসরে জুট ব্যবসা মাত্র শুরু করেছেন। সেই সুবাদে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় পুলিশের রোষানলে পড়ে বারবার হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হন তিনি। শুধু হামলা মামলার শিকার নয়- এলাকা ছাড়া হতে হয়েছে ভুক্তভোগের ও তার আপন ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজানকে।
জুনায়েদ জানান, ছোটখাটো জুট ব্যবসা করার সময় চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের চাঁদা না দেওয়ার অপরাধে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে কোনাবাড়ি থানায় কর্মরত তৎকালীন পুলিশের ৩ অসাধু কর্মকর্তা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে বাসা থেকে তুলে নিয়ে একটি নাটক সাজিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় তার ছোট ভাই পুলিশের কাছে জানতে চাই- কেন তার বড় ভাই জুনায়েদকে ধরা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে এক পর্যায়ে জুনায়েদের ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজানকে তখনকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পুলিশ তাঁকেও বিনা অপরাধে ধরে আনেন। এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে ছেড়ে যাওয়া বাবদ মোটা অংকের টাকার দাবি করেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা কিছু না বুঝে উঠেই পুলিশকে কয়েক লাখ টাকাও দেন। কিন্তু টাকা কেউ পুলিশ তাদেরকে ছাড়েনি বরং মিথ্যা একটি চাঁদাবাজের অভিযোগ দিয়ে অজ্ঞাত পুলিশি সোর্স দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা সাজান এবং আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড এর আবেদন করেন। যদিও এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার কিছুই বুঝতে পারছিলেন না কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হলো। পরবর্তীতে জানা যায়- নিয়মিত মাসোহারা ও চাঁদার টাকা না পেয়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশে ফুঁসে উঠেন। তৎকালীন পুলিশ ক্ষমতাধর হওয়ায়–জুনায়েদ ও তার ছোট ভাই মিজানসহ তাদের পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। জুলাই গণউত্থানের পর জুনায়েদ ও তার ছোট ভাই শিক্ষার্থী মিজান অভিযুক্ত পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান লিটন, এস আই সোহাগ চৌধুরী, এএসআই সারোয়ার, এএসআই কামরুল সহ ১১ জন অসাধু পুলিশের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে ঢাকায় সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন। যার মামলা নম্বর-৯৩৩/২০২৪। এছাড়া জুনায়েদ ও তার পরিবারের সঙ্গে পুলিশের ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে যে অনিয়ম, নির্যাতন, নিপীড়ন করা হয়েছিল সেটার বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী জুনায়েদ পুলিশ সদর দপ্তরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার অভিযোগের সিরিয়াল নাম্বার- ৫৭৭।
সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকারের আমলে পুলিশের রোষানালে পড়ে জুনায়েদরা লেখা ছাড়া হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায় যার কারণে আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি হয় তাদের। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর তারা কোনাবাড়ির পারিজাত এলাকায় তাদের বসতবাড়িতে ফিরে আসেন এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দাবি করা অসাধু পুলিশ সদস্যদের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি সহযোগিতা নেন। জানা যায়, জুনায়েদের মামলা ও পুলিশ সদর দপ্তরের অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও তার এবং তার পরিবারের উপর পুলিশের নির্মম নির্যাতন ও অপেশাদার আচরণের তথ্য প্রমাণ পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এএসআই লিটন, সোহাগ, ও এএসআই সারোয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললেও এখনো তাদের চাকরি বহাল রয়েছে।
সেইসঙ্গে জুনায়েদ আদালতে ঘুষের টাকা ও ব্যবসায়ের নগদ টাকা ফেরত এবং অন্যান্য অন্যায়ের বিচারের দাবিতে যে মামলাটি করেছিল সেই মামলার তদন্ত দেওয়া হয় পিবিআইকে। এরপর পিবিআইএর তদন্তকারী কর্মকর্তা (দক্ষিণ কল্যাণপুর- ঢাকা-১২৭) ইন্সপেক্টর মোঃ আনোয়ার হোসেন। আনোয়ার তদন্তের নামে বৈষম্য করেন এবং ভুক্তভোগীকে সহযোগিতা না করে উল্টো তার কাছে মোটা অংকের ঘুষের টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী জুনায়েদ তাকে সামান্য কিছু টাকাও দেন এবং বলেন এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও রিপোর্ট দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আনোয়ার মামলার আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তদন্তকালে গঠনস্থলে সবাইকে আনেন। এরপর মামলার আসামি অর্থাৎ কোনাবাড়ী থানার সাবেক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গোপনীয় মিটিং করেন এবং তাদের মামলার পজেটিভ রিপোর্ট দেবেন এ কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেন। এরপর মামলার বাদি জুনায়েদকে ডেকে নিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করার চাপ প্রয়োগ করেন। অন্যথায় তাকে আবারও মিথ্যা মামলা দিবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে মো: জুনায়েদ হৃদয় ও তার ছোট ভাই মিজান পুলিশ সদরদপ্তরে গাজীপুর কোনাবাড়ী থানার দুই এসআই ও ভুয়া (মার্ডার মামলার) এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। সেখানে ভুক্তভোগী জুনায়েদ জানান, আমি ছোট পরিসরে ঝুট ব্যবসা করতাম। গেল ৩ বছর ধরে এ গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম। কোনাবাড়ী এলাকার মানুষ আমাকে খুব সৎ ও ভালো ছেলে হিসেবে জানে। কিন্তু হঠাৎ করেই ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর পুলিশ ও আওয়ামী নেতাদের রোষানলে পড়েই জীবনে অন্ধকার নেমে আসলো। এ ছাড়া এলাকার নানা উন্নয়নমূলক কাজের সাথেও আমি জড়িত।
তিনি বলেন, ‘আমাকে এবং আমার কলেজ পড়ুয়া ভাইকে মিথ্যা মামলা ও ভুয়া সাংবাদিক দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তারের আগেই ফেসবুকে আমাদের ছবি অপপ্রচার করা হয়। এরপর আওয়ামীপন্থি পুলিশ ও ভুয়া চটকদার সাংবাদিক মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর ও আইজিপি’র কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। এরপর শুনেছি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম আমার তদন্তের যে এসআই আনোয়ার সাহেব ছিলেন তিনি মামলা তদন্তের নামে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে আমার অভিযোগ ও মামলার বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রদান করেছেন। যদিও এসবে কিছু হবেনা আশা করি। তবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
অভিযোগকারী জানান, বিশেষ করে পুলিশের লিটন, সোহাগ, ও সারোয়ার এই ৩ কর্মকর্তা ও ভুয়া সাংবাদিক মোকলেছুর রহমান ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে মামলায় জড়িয়ে দেয় এবং তারা আমার বাবাকে ও মাকে মারধর করেন ও নানা ভাবে অপমান করেন। আমি রাষ্ট্রের কাছে এই ঘটনার সুষ্ট বিচার ও তদন্ত চাই।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গেল ২০২৩ সালের দিকে জুনায়েদ কাশিমপুরের একটি ফ্যাক্টরি থেকে ঝুটের মালামাল কিনতে যান। সেখানে সাংবাদিক পরিচয় দেন মোকলেছুর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তি। হঠাৎ তিনি জুনায়েদকে মাল কিনতে বাধা দেন। একই সাথে তাকে মাল কিনতে সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করতে থাকেন। পরবর্তীতে জানা যায়- মোখলেসুর রহমান নামমাত্র সাংবাদিক। সে সাবেক আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ব্যক্তিগত কাজে বিভিন্ন সময় টাকা ও ধান্দা তৈরি করে পুলিশকে ব্যবহার করতেন। তাছাড়া মোখলেছুর, এসআই লিটন, সোহাগ, ও এএসআই সারোয়ার পার্টনার হিসেবে জুট ব্যবসা করতেন। এবং তার মদত জোগানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতো এবং তারা একে অপরে মিলেমিশে একাকার ছিল। মূলত পুলিশ সাংবাদিক মিলে অর্থনৈতিক ধান্দা করার ছিল এই অসাধু ব্যক্তিদের কাজ।
জুনায়েদ জানান, বিভিন্ন ঝামেলার কারণে আমি মাল কিনতে রাজি না হওয়ায়, বিভিন্নভাবে হুমকি এবং এক পর্যায়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। ভুয়া সংবাদিক মোখলেছুর। কিছু সময় পর আমি এলাকায় প্রবেশ করলে মোখলেসুর কোনাবাড়ী থানার এসআই লিটন, সোহাগ, ও এএসআই সারোয়ারকে কল করে বলেন- আপনাদের এলাকার একজন ব্যবসায়ী পেয়েছি সে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়মিত মাসোহারা (চাঁদা) দেয় না। তার খুটির জোর কোথায় তাকে সাইজ করতে হবে। এরপর অসাধু কিছু পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চলাফেরা করতে থাকি। কিন্তু এক পর্যায়ে তাদের রোষানালে পড়ে ৩ টা মিথ্যা মামলা সহ সামাজিক পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে হেইপ্রতিপূর্ণ হতে থাকি। অন্ধকার ও নেমে আসে আমার মা বাবা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর।
ভুক্তভোগী জুনায়েদ অভিযোগ করে জানান, পুলিশের লিটন, সোহাগ সারোয়ার, কামরুল সহ অন্যরা আমাকে প্রথম মামলা দেওয়ার আগে মাসোহারা একটা চাঁদার দাবি করেন আমি তাতেও রাজি না হওয়ায়, আমাকে দেখে নেওয়া জন্য আরো কঠোর হুমকি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আমার জীবন শেষ হতে থাকে। পুলিশের এমন রক্তচক্ষু আমার উপর গুরুতর হতে থাকে।
তিনি বলেন, পুলিশের এমন আচরণের কারণে যেদিন মাল কিনতে গিয়েছিলাম ঐই দিন মাল না কিনে ব্যবসায়ী স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে ভুয়া সাংবাদিক, মোকলেছুর রহমান কোনাবাড়ী থানার দুই এসআইয়ের (এসআই মোঃ লিটন ও এসআই সোহাগ চৌধুরী) সহযোগিতায় আমার নামে সাজানো মামলা দায়ের করেন। প্রথম মামলা দায়ের হয় ২০২৩ সালের ১৯ মে। এই মামলার আগেই এসআই লিটন কোনো নোটিশ ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে আমাকে রাস্তা থেকে থানায় তুলে নেন এবং প্রস্তুতিমূলক ডাকাতি মামলার অভিযোগে চালান করেন। সে যাত্রায়, ১ম মামলার জামিন হয় ২০২৩ সালের ১১ জুন। এরপরও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়ায় আমার জীবনে দুর্বিষহ অভিশাপ নেমে আসে। আমার কাছে চাঁদা দাবি সহ ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিতে থাকে দুই এসআই। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উপর মহলে অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলন করার কথা বললেই তাদের ক্ষোভ আরো বেড়ে যায় হাজার গুণে। এরপর ডেকে নিয়ে ফের আমার নামে আবারও ২য় দফা সাজানো আরেকটি মামলা দেন- এসআই লিটন। এদিন আমি মসজিদ থেকে রমজানের মধ্যে তারাবি নামাজ শেষে বাড়িতে আসার পথে আমাকে তুলে থানায় নেওয়া হয়। পরে পুলিশ বলে আমি এবং আমার আপন ভাই ভুয়া ডিবি বা অনেক অপরাধ করছি। এরপরে আমাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলার দায়ের হয় ২০২৪ সালের ২২ মার্চ। এবং আমার ২য় মামলার জামিন হয় ২৪ মার্চ। আদালত আমাকে খালাস দিয়ে দেন। এদিকে দ্বিতীয় দফায় ফের মামলায় থানায় নেওয়ার পর এসআই লিটন ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে অন্যথায় প্রাণ নাশের হুমকি সহ ভুয়া মাদক, হেরোইন, ডাকাতি সহ নানা মামলা দেওয়ার ভয় দেখান। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় থানার মধ্যে ওসিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন এসআই লিটন ও তার অন্যান্য সহযোগী পুলিশ সদস্যরা।
‘পুলিশ সামান্য ভুল ও পূর্বের রোষানলের জেরে আমার ও আমাদের পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে। ওই রাতেই আমার পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে থানায় গেলে, এসআই লিটন আমার বাবা সহ পরিবারের সকলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বের করে দেন। পরের দিন এসআই লিটন চালান করার আগে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং মামলা হালকা করার অজুহাতে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করলে আমার বাবা ১ লক্ষ টাকা দেন। একই সাথে রিমান্ড বাঁচাতে ফের টাকা দাবি করলে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর আমাকে কোর্টে চালান করা হয়। আমরা দু-ভাই জড়াজড়ি করে কাঁদতে থাকি। এবং চিৎকার করে বলতে থাকি এদেশে কি আইন নেই–! কোর্টে আমার নামে হওয়া সাজানো মামলার বাদী হাজির হয়। কিন্তু বাদী আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি বলে কোর্টে স্পষ্ট করেন আমিও তাকে চিনি না এবং এসআই তার সই করা একটি কাগজে ভয় দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করেন বলে বাদি জানান। মিথ্যা মামলার সুবাদে কোর্ট আমার জামিন মঞ্জুর করেন। এমতাবস্থায় আমার পরিবার এসআই লিটন ও এসআই সোহাগ চৌধুরীর ভয়ে কোনাবাড়ী থেকে আমাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ চলে যান। ভয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে থাকি। বাড়িতে কিছুদিন পর পর আর্থিক সংকটে পড়তে থাকি আমি ও আমার পরিবার। ফলে আমার ব্যবসা এবং জীবনের তাগিদে আবার (২ এপ্রিল ২০২৪) কোনাবাড়ী ফিরে আসি। তার দু-দিন পর আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে আটক করে এবং ৩য় মামলা দায়ের করেন ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল। বেশ কিছু দিন জেলে থাকার পর ৩য় মামলার জামিন হয় ২৪ সালের ২ জুলাই।
জুনায়েদ অভিযোগ করেন, জামিনের পর ও কোনাবাড়ী ফিরে আসার ২ দিন পরই এসআই লিটন, এসআই সোহাগ, এএসআই সারোয়ার সহ কয়েকজন আমার বাড়িতে ঢুকে আমাকে তুলে নেয় এবং একই দিনে আমার আপন ছোট ভাই মিজানুর রহমানকে (শিক্ষার্থী) আমার ঝুটের গোডাউন থেকে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে থানায় ওসি ডাকছে বলে তুলে নেয়। থানায় নিয়ে আমাদের দুই ভাইকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এসআই লিটন, এসআই সোহাগ ও এএসআই সারোয়ার। টানা ৩ ঘন্টা পশুর মত নির্যাতন করতে থাকে আমাদের উপর এবং আমাদের বলতে থাকে “তোদের বলছিলাম কোনাবাড়িতে আর আসবি না, ব্যবসা করবি না। আবার আসছোস, তোদের এত সাহস কিভাবে হয়? অমানুষের বাচ্চা, আমাদের নামে পুলিশ কমিশনার ও আইজিপির কাছে বিচার দিবি? আমরা ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি পুলিশে এসেছি– এখন যা বিচার দে- বাকি জীবন জেলে কর– তোর এবং তোর ছোট ভাইয়ের জীবন শেষ করে দেব। “আমরাই কোনাবাড়ীর আইন, আমরা যা বলবো তাই হবে” তোদের যা স্বীকার করতে বলবো, যদি স্বীকার না করিস, আর না হয় মামলা দিয়ে জীবন শেষ করে দেব। এরপর আমাদের দুই ভাইকে কোর্টে চালান করা হয়। আমি তাদের পা ধরে ছোট ভাইয়ের জন্য কান্নাকাটি করি। তাদের বলি, আমার ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাকে যেন ছেড়ে দেন, তবে কোনোভাবে মন গলেনি তাদের। প্রায় ৪ মাস ধরে মিথ্যা মামলার জেল খাটার পর আমরা জামিনে বের হয়। আমার ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার হলে বসতে পারেনি, পরীক্ষা চলমান থাকলেই কেউ আমাদের বিপদে এগিয়ে আসেনি। তার শিক্ষা জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে পুলিশ নামের গুন্ডা দুই এসআইসহ অন্যরা।
“৫ আগষ্টের আগে আমরা দুই ভাই ও আমার পরিবার পুলিশের নির্যাতনের ভয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে পালিয়ে ছিলাম। জুলাই আগস্টের পর এলাকায় প্রবেশ করি এরপর এলাকার মানুষ আমাদের মানুষিক ভাবে সাপোর্ট দেন। আমার দুঃখ হলো আমাকে দেওয়া মামলায় যাদের বাদী করা হলো তাদের কাউকে আমরা চিনি না। আমরা আইনের সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের মত কেউ যেন খারাপ পুলিশের রক্তচোষার কবলে না পড়ে। তবে দেশে এখন সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে এজন্য ঢাকার আদালতে ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অপরাধে যুক্ত থাকা পুলিশের কয়েকজন সদস্য ও ভুয়া সাংবাদিক মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে মামলা করেছি। এবং পুলিশ সদরদপ্তর ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি করছি। অন্যথায় আমার মত অনেকেই সামান্য বিষয় নিয়ে পুলিশের রোষানলে পড়ে ধ্বংস হতে পারে।
“সর্বশেষ বলতে চাই আমরা দুই ভাই দেশবাসীর কাছে অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা, ভুয়া সাংবাদিকসহ অসাধু সিন্ডিকেট ও অপেশাদার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা। এবং দেশের মাটিতে সকল শ্রেণীর মিথ্যা মামলা, হামলা, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করছি। যাতে আমাদের মত কারো জীবন শেষ না হয়।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ি থানার সাবেক (অসাধু কর্মকর্তা) এসআই কামরুজ্জামান লিটন জানান, পুলিশের সঙ্গে লাগতে আসবেন না। ভুক্তভোগীদের বললেন ফের ধরে এনে মামলা দায়ের করা হবে। আইন এবং বিচার বিভাগ সব সময় আমাদের পক্ষে। তাছাড়া যারা তদন্ত করবে তারা ও আমাদের পুলিশ সদস্য। কাজেই পুলিশ পুলিশের বিপক্ষে যেতে পারে না। এসময় তিনি এই প্রতিবেদককে মামলা তুলে নিতে হুমকিও দেন।
জানতে চাইলে কোনাবাড়ি থানার সাবেক আরেক (অসাধু কর্মকর্তা) এসআই সোহাগ চৌধুরী (গাজী) জানান, পুলিশ যেটাই করে সেটাই আইন, কাজেই দরকার হলে অন্য কিছু হবে।
জানতে চাইলে কোনাবাড়ি থানার সাবেক (অসাধু কর্মকর্তা) এসআই সারোয়ার হোসেন জানান, এটা অন্য ঘটনা ছিল। ওসি সাহেবের নির্দেশনায় মামলা করতে চাপ দেওয়া হয়।
গাজীপুর কোনাবাড়ি এলাকার ভুয়া সাংবাদিক (নামধারী প্রতিনিধি) ৫ আগস্টে হৃদয় হত্যা (মার্ডার) মামলার আসামি পলাতক কথিত সাংবাদিক মোখলেসুর রহমান বলেন, আমি তেমন কিছু বলতে পারবো না। তবে সব কিছু পুলিশের কাজ। পুলিশ সোর্স দিয়ে ও এস আই সোহাগ ও এস আই লিটন হয়তো ভুক্তভোগীর বাসা থেকে বেশ কিছু টাকা নেন এবং সেটা ওসিসহ সবাই ভাগ বন্টন করে নেয়।
জানতে চাইলে আদালতে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে ফেলতে বলেছি। তারা মিলে গেলে তো সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। আপনি তদন্তের প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার জন্য বিবাদীর কাজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার দাবি করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ টাকা খেলে কি কোনো প্রমাণ আছে। কাজেই এসব কোন কথা নয়। ভুক্তভোগীরা অপরাধী নয়, তারপর ও আমাদের পুলিশের পক্ষে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। সেটা না হলে মানুষ পুলিশকে ভুল বুঝতে পারে।
সূত্রমতে জানা গেছে, সর্বশেষ এই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন মাননীয় আদালতের সন্দেহ হলে। আদালত পুনরায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদনে রিপোর্ট আদালতে দাখিল করতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন। যদিও এখনো গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার ফাইনাল তদন্তের রিপোর্ট আদালতের জমা দেননি। তবে, অত্র এলাকার একাধিক শ্রেণীর ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের সম্পন্ন হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়। যার সঠিক বিচারের দাবি এলাকাবাসীর।
নতুন সময়/আইভী






