সরাসরি মাঠের জনসেবা চালু করলেন দক্ষিণের কাউন্সিলর রতন
সাকিল আহমেদ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন সত্যকারের জনসেবা কার্যক্রম চালু করেছেন।
জানা যায়, সাধারণ মানুষের অনেক অভিযোগ সঠিক মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনে কার্যরত ব্যক্তিরা কাজ করে না, তারা ফাঁকি দেয়।
সাধারণ মানুষের আরও অভিযোগ, মশা স্প্রে কারীরা এলাকার বিভিন্ন অলিতে গলিতে যান না, সঠিক মতো স্প্রে না করেই তারা চলে যান।
মানুষের এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন এলাকায় মশা নিধন কর্মীদের কাজের সিস্টেম একটু ভিন্ন রকম করেন।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ এলাকায় মশা নিধন কর্মীদের ৮ ধাপে (কাজের সিস্টেম) বিভক্ত করে দিয়েছেন কাউন্সিলর রতন। মশা নিধন কারীদের কাজের এলাকা ও ভাগ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে ইচ্ছা করলেও তারা আর এ কাজে ফাঁকি দিতে পারছেন না।
জানা যায়, প্রতিদিন বিভক্ত এলাকায় স্প্রে করতে যাওয়া মশা নিধন কারীদের নির্ধারিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাক্ষর আনতে হয়।
এদিকে আরেকটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এমন কার্যক্রমে মশা নিধন কর্মীরা প্রথমে নারাজ এরপর জনপ্রতিনিধির জন্য এমন দাায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। মশা নিধন কর্মীরা প্রতিদিনই এলাকার বিভিন্ন নির্ধারিত জায়গায় মশা নিধন করতে গিয়ে স্পট হতে ১৫-২০ জন সাধারণ মানুষের স্বাক্ষর আনেন।
কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনের এমন কার্যক্রমকে স্বাগতম জানিয়েছেন এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষেরা। তাদের দাবি এটা একটি সরাসরি জনসেবা মূলক র্কাযক্রম। এজন্য অনেকেই তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এলাকার দোকানদার হাবিব বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে মশার খুব যন্ত্রণা ছিলো। এখন মশা নিধন কর্মীরা এলাকা ঘুরে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে যায় এ সুযোগে আমরাও একটু পরিমানে বেশি তাদের কাজে লাগায়।
সেগুনবাগিচার কলিম সরকার বলেন, কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন মশা দমন করতে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেটা প্রশংসনীয়।
বিজয় নগরের বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, কাউন্সিলর রতন ভাই এলাকায় উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছে।
এলাকায় বসবাসরত মিন্টু মোল্যা বলেন, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার থেকে সেগুনবাগিচা এলাকা একটি অন্যতম উন্নয়নমূলক এলাকা।
তিনি বলেন, আমার মতে একজন জনসেবক হয়ে কাউন্সিলর রতন সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, এটা প্রশাংসার বিষয়। সে আসলেই একজন সত্যকারের জন সেবক। এজন্য জন্য তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।
তথ্য মতে, শুধু মশা নয়, ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন করোনা ভাইসার সংক্রমন রোধে ১২ হাজারেরও অর্ধিক পরিবারের পাশে থেকে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন রতন বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় অভিযোগ করে, যে তাদের এলাকায় মশা নিধন কর্মীরা সঠিক মত যায় না, বা স্প্রে করে না। এমন অভিযোগ আমি আমলে নিয়েই বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ণ মূলক কাজ করে যাচ্ছি।
রতন আরো বলেন, যেমন নির্বাচনের সময় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছিলাম ঠিক তেমন ভাবে তাদের সুবিধা অসুবিধা আমলে নিয়ে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমার ওর্য়াডে রেলওয়ে কলোনি,বঙ্গবাজার, আনন্দবাজার, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া টেম্পু স্টেশন পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেব। আমি তার দেওয়া গাইডলাইন মেনে এলাকায় উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, তাছাড়া বতর্মান মেয়র সাহেব আসার পরে কাজের গতি অনেক বেড়ে গেয়েছে। মেয়র সাহেব লোক সংখ্যা ও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ৬ জন কর্মীরা কাজ করতো এখন ২০ জনে কাজ করে। আগে ফগার মেশিন ছিলো ৪ টা এখন হয়েছে ১০ টা, স্প্রে ছিলো সকালে ৩ টা এখন হয়েছে ১০ টা, বিকালে ফগার ছিলো ৪ টা এখন হয়েছে ১০টা, জনবল ২০ জন , মেশিন ও ২০ সুতারাং এখন আর কাউকে কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নাই।
তিনি বলেন, জনবল ও চাহিদা অনুযায়ী মেশিন ও স্প্রের সংখ্যা মাননীয় মেয়র সাহেব বাড়িয়ে দিয়েছেন। সব মিলে কাজের গতি ও বেড়ি গিয়েছে মানুষের অভিযোগ ও কমছে। এজন্য মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। ইনশাআল্লাহ তার নেতৃত্বে সকালের আগেই পরিষ্কার ঢাকা দেখবে নগরবাসী।
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন আরো বলেন, মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিশ্রুতি নয়, উন্নত নাগরিক সেবার মডেল ওয়ার্ড হিসেবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডকে গঠন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অতীতে যেমন কাজ করেছি একসঙ্গে, সবাই মিলে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, আমি করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে সাধারণ মানুষের পাশে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পালন করছি।
রতন বলেন, বিগত সময়ে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছিলো। কিন্তু সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এতে খুবই কম আক্রান্ত হয়েছেন। এডিস মশার লার্ভাও সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে এ এলাকায়। আর এটা সম্ভব হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কারণে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, করোনা মোকাবেলায় আমরা সফল হব ইনশাল্লাহ।
নতুন সময়/সাকিল