ঢাকা উত্তর সিটির আবদুল্লাহপুর পার হলেই বৃহত্তর গাজীপুর সিটি। ঢাকা-গাজীপুর এ দুই জেলার সংযোগ সেতু টঙ্গী ব্রিজ। এখান থেকেই শুরু জরাজীর্ণ ও খানা-খন্দেভরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। উত্তরাঞ্চলগামী ২৩ জেলার মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয় রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী থেকে। একদিকে বেহাল দশা টঙ্গী ব্রিজ ও এ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলছে।
অপরদিকে সংকুচিত এ সড়ক দিয়ে চলছে শত শত পণ্যবাহী পরিবহণ ও হাজার হাজার মানুষের পরিবহণের জন্য ব্যক্তিগতসহ বিভিন্ন যানবাহন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থেকে যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়েন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এই চিত্র ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের। তবে বর্তমানে টঙ্গী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা থাকলেও বাকি অংশে তা নেই। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী তুরাগ ব্রিজ থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কপথ।
ওই সড়কে গত কয়েক বছর ধরে বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। যার কারণে ১২ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে এখন সময় লাগে তিন-চার ঘণ্টা। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি। করোনা মহামারি বিধিনিষেধ এবার না থাকায় আগের তুলনায় কয়েকগুণ মানুষ এবার তাদের গ্রামের বাড়ি যাবে। তাই ঈদযাত্রায় এবার চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন ওই পথে চলাচলকারীরা।
তবে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সড়কের কিছু অংশ ভাঙাচোরা। বাকি অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ঈদকে মাথায় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের সড়কের ওপরে উড়ালসড়ক এবং নিচে কার্পেটিং এখনো অনেক জায়গায় শেষ হয়নি। কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের কোথাও তিন লেন কোথাও, কোথাও দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এতে ওই পথে যানবাহন খুবই ধীর গতিতে চলছে। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহনের বেশ জটলা লেগে আছে। সেখানেও বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজের কারনেই যানবাহনগুলো তাদের স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। যার কারণে দুদিকে থেকে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেছে সড়কের মাঝে উড়ালসড়ক তৈরির ব্লক রেখে দেওয়া হয়েছে। এত দুই পাশের সড়ক ছোট হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই এখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ঈদের আগে ব্লকগুলো সরিয়ে দেওয়া হলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারবে।
টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় জামান মোটরসের সামনে কাজ করছেন বিআরটি প্রকল্পের শ্রমিকরা। সেখানে কথা হয় হানিফ শেখ নামে এক নির্মাণশ্রমিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে স্টেশন নির্মাণ ও ওভারপাস তৈরি করা হবে। এর জন্য করা পাইলিং ভাঙার কাজ চলছে। এতে যানবাহন চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। গাজীপুর পরিবহণ শ্রমিক নেতা সুলতান সরকার জানান, প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক, লরি এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। গত দুই বছরের চেয়ে এবার কয়েকগুণ বেশি মানুষ এবার গ্রামের বাড়ি যাবেন। তাই এবার ঈদে ব্যাপক চাপ পড়বে মহাসড়কে। যার কারণে এখন থেকেই মানুষ শঙ্কার মধ্যে আছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এক জরিপে দেখা গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। আর ঈদের আগে এই সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঈদ উপলক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত ১০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হবে। যারা পালা করে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ বলেন, পুরো প্রকল্পের কাজের এখন পযন্ত ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন ঈদযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়েই কাজের গতি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঈদের আগে সড়কে নিচের যে অংশে কার্পেটিং বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি ঈদের যাত্রার আগেই সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তুলা হবে।