জিল্লুর রহমান জয়: প্রেমিকার উপর অভিযান করে প্রেমিকদের অনেক আত্মত্যাগের কাহিনী সেই প্রচীনকাল থেকে বিদ্যমান। কিন্তু এবার রাজশাহীতে প্রেমিকার উপর অভিমান করে তার সামনে নিজের বুকে ছুরি মেরে ও বিষপান করে প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার মাস্টার শেফ বাংলা রেস্তোরাঁর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রেমিকের নাম বুলবুল আহমেদ (২৬)। তিনি পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তবে এঘটনায় দুই তরুণীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে এক যুবক এবং দুই তরুণী লক্ষীপুরের মাস্টারশেফ বাংলা রেস্তোরাঁ থেকে কাচ্চি বিরিয়ানি পার্সেল নিয়ে বাইরে বের হন।
এ সময় ওই তরুণীর সঙ্গে নিহত যুবকের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে যুবক নিজেই নিজের বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তার সামনে সে বিষপান করে। এসময় আশেপাশের লোকজন জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, বুলবুল অবিবাহিত ছিলেন। তবে তুলি বিবাহিত। তাঁর সন্তানও আছে। পুলিশের ধারণা, তুলির সঙ্গে বুলবুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তুলির বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে। বাবার নাম আবদুর রহিম। আর জেমি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। তারা দুজনেই রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুজনকেই পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তবে তার সাথে থাকা যুবক জানিয়েছেন তরুনীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশের হেফাজতে নেয়ার আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তুলি কোন কথা বলতে চাননি। তবে তুলির বান্ধবী জেমি জানিয়েছেন, রেস্তোরাঁয় প্রথমে বুলবুল কীটনাশক পান করেন। এরপর নিজের বুকে নিজেই ছুরি বসান।
এরপর তারা তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলবুলকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। ওই তিনজন রেস্তোরাঁয় বসে আছেন এমন ফুটেজ দেখা গেছে। তবে সিসি ক্যামেরার কিছু অংশের ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
তাই ঘটনার সময়ের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ক্যামেরার ডিভিআর জব্দ করেছে। রেস্তোরাঁটির মালিক এসএম শিহাব উদ্দিন বলেন, তাদের সিসি ক্যামেরা ঠিকঠাক মতো সব সময় কাজ করে না। তাই সবকিছু ধারণ হয়নি। শিহাব বলেন, ঘটনার সময় তিনি রেস্তোরাঁয় ছিলেন না। তবে কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই ধরনের কোন ঘটনা তারা দেখেননি।
বরং, ওই তিনজন খাবার পার্সেল নিয়েছেন এবং বুলবুল বিল পরিশোধ করেছেন। রেস্তোরাঁয় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিল পরিশোধ হতো না। নিহত প্রেমিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।