সেই মাইকেলের শুধু আফতাব নগরেই আছে ২৯ ফ্ল্যাট!
সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোর চলছে দুদকে,তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাওয়ের সাব রেজিস্ট্রার…
ঢাকা: ওমর ফারুক নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে প্রথমে পরিচিত হোন তিনি। এরপর শুরু করেন কথাবার্তা। এভাবেই কিছুদিন চলার পর একদিন হজির হয়ে যান টার্গেট নারীর বাসায়।
বিভিন্ন ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে মিষ্টি কথা বলে টার্গেট নারী ও তার বাসার লোকজনের মন জয় করার চেষ্ট করেন। তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা তৈরির চেষ্টা করেন।
এক পর্যায়ে টার্গেট নারীকে দেন বিয়ের প্রস্তাব। যেহেতু আগেই টার্গেট নারীর পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করেছেন সেহেতু কেউ অমতও করেন না। যথারীতি বিয়েও হয়। এরপর শুরু করেন ব্যবসা বা প্রয়োজনের কথা বলে টাকা নেওয়া। হাতিয়েও নেন। কিন্তু কিছুদিন সংসারের পরই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী নারীরা।
এভাবেই ওমর ফারুকের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অন্তত পাঁচজন নারী। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। প্রতারণার শিকার নারীদের কেউ কেউ প্রতারক ওমর ফারুকের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ করেছেন। আবার কেউ নীরবে তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। তবে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি ধামকি দেন ফারুক। এমনটি বন্ধুদের দিয়েও ভুক্তভোগী নারীদের ফোন দিয়ে হুমকি দেওয়ান।
সম্প্রতি প্রতারণার শিকার একজন নারী দেনমোহর ও খোরপোষের দাবীতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন। এছাড়া হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ১০৭ ধারায় আদালতে আরও একটি মামলা করেছেন। সেই সঙ্গে ভরণপোষণের দাবি করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ১৯৯৪ সালে এসএসসি’র শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে একটি গ্রæপ রয়েছে। সেই গ্রপে ওমরও যুক্ত ছিলো। ওই গ্রæপের মাধ্যমেই ভুক্তভোগীর সঙ্গে ওমর ফারুকের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে অনলাইনে ও ফোনে বিভিন্ন কথাবার্তা হতো। ওই সময় নিজেকে ওমর ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন।
ওমর জানান, মিরপুরে তার পাঞ্জাবীওয়ালা নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এভাবেই চলতে থাকে কর্থাবার্তা। এক পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীর নারী বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিষ্টি কথা বলে বিশ্বস্ততা তৈরি করেন। এরই মধ্যে ভুক্তভোগীকে দেন বিয়ের প্রস্তাব। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।
এরপর কিছুদিন সংসার ভাল চলেলেও এক পর্যায়ে ব্যবসাসহ নানা অযুহাতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করেন। এভাবেই ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত চার লাখ টাকা হাতিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে ভুক্তভোগী স্বামীর দেওয়া মিরপুরের ঠিকানায় গিয়ে তাকে পাননি।

প্রতারণাই তার পেশা!
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওমর ফারুক সম্পর্ক রাখতে পারবেন না বলে জানিয়ে বিভিন্ন হুমকি দেন। এছাড়া বন্ধুদের দিয়েও ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়ান। পরে এ ঘটনায় তিনি বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া দেনমোহর ও ভোরণপোষণের খরচের দাবিতে পারবারিক আদালতে মামলা করেন। সেই সঙ্গে হুমকির বিষয়ে ১০৭ ধারায় আদালতে আরেকটি মামলা করেন।
ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন ওমর ফারুক আরও অন্তত চারজন নারীর সঙ্গে একইভাবে প্রতারণা করেছেন। ওমর মূলত ডিভোর্সী ও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী নারীদের টার্গেট করেন। মিষ্টি কথা বলে সম্পর্ক স্থাপন করেন। তার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কেউ কেউ ওমর ফারুকের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন। প্রতারণা করে ওমর ফারুক ভুক্তভোগী নারীদের কাছ থেকে অন্তত অর্ধকোটি টাকা হাতিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
বনানী থানায় হওয়া সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের ঠিকানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফোনে যোগাযোগ করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে খোঁজা হচ্ছে।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au