স্টাফ রিপোর্টার : করোনা (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সীমিত যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় গণপরিবহনগুলোকে। প্রতি দুইটি আসনে একটি আসন ফাঁকা থাকার শর্তে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে বাড়তি ভাড়া বহাল থাকলেও শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই আর নেই রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত গণপরিবহনে দেখা যায় এমন চিত্র। টানা দুই দিন বন্ধের পর প্রথম কর্মদিবসের সকালে অফিসগামী যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল গণপরিবহনে। এই সুযোগে বাসের প্রতিটি আসন তো বটেই এমনকি দাঁড়িয়ে এবং বাদুড় ঝোলা করেও যাত্রী পরিবহন করা হয়। নির্দেশনা মোতাবেক ভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও কোনো কোনো বাসে অবশ্য যাত্রীদের ভাড়া দিতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।
লাব্বাইক পরিবহনে সাইনবোর্ড থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আগের সিটিং গেটলক ভাড়া ছিল ৫০ টাকা। ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়াসহ এই রুটের ভাড়া আসে ৮০ টাকা। তবে যাত্রীদের অভিযোগ ভাড়া নেওয়া হয় ৯০ টাকা পর্যন্ত। আর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে বাসটি আসায় জনপ্রতি আরও ৫টা অতিরিক্ত নেওয়া হয়।
রাসেল নামে বাসটির এক যাত্রী বলেন, সপ্তাহের প্রতিটা দিন এভাবে ঠেলাঠেলি করে, গাদাগাদি করে বাসা থেকে অফিসে যাওয়া আসা করছি। ঝগড়া, প্রতিবাদ প্রতিদিন কারো ভালো লাগে না। এটা ধৈর্যের বাইরে। দাবি একটাই, ৬০ শতাংশ ভাড়া রহিত করে স্বাভাবিক নিয়মে যান চলাচলের নির্দেশনা জারি করা হোক। আমরা করোনার ঝুঁকিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক চরম ঝুঁকিতে পরে গেছি। এভাবে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া আর দেওয়ার মত কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই।
বাসটির হেলপার অবশ্য দুষছেন যাত্রীদেরই। সমুন নামে এক হেলপার বলেন, আজকে তো রোববার। আমার দোষ নাই। যাত্রীরা গেট ঠেইলা উইঠা পড়ে। আর ভাড়া তো এখন রেট করা। ওয়ে বিলে সাইন থাকে। কম নিলে আমার হাজিরা থেকে কাটবো।
প্রায় একই অবস্থা রাজধানীর অন্যান্য রুটের বাসগুলোতেও। মিরপুর ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে আজিমপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে ৩৬ নম্বর বা বিকল্প পরিবহন। এই রুটে যে স্টপেজ থেকে উঠে যে স্টপেজেই নামা হোক না কেন আগের ভাড়া ছিল ২৬ টাকা। এখন সেই ভাড়া ৪০ টাকা। বাসে থাকা এক উঠে ধানমন্ডি ২৭ এ নামি। আমাকেও ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। এই বাসে প্রতি দুই সিটে একজন করেই বসানো হয়েছে তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হয়েছে। তাহলে আর লাভ হল কি?
শ্যাওড়াপাড়ায় ওয়েবিল স্বাক্ষরের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা যখন সাইন করি তখন কোনো যাত্রী দাঁড়ানো থাকে না। পরে হয়তো হেলপার দুই একজনকে উঠায়। দুই একজন উঠিয়ে একটু কিছু ইনকাম হয় তাদের।
মিরপুর ১২ নম্বর থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের চিত্রও একই। এই রুটে আগে সদরঘাট পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২৮ টাকা। এখন সেটা ৫০ টাকা। কিন্তু যাত্রী উঠানো হয় প্রতিটি আসনেই। গণপরিবহনে প্রতিদিন এভাবেই জিম্মি হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।