আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লঞ্চের কেবিনের আগাম টিকিট আগামী বুধবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিক্রি করা হবে। ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) অবস্থিত লঞ্চ কাউন্টার থেকে এসব টিকিট বিক্রি করা হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হবে। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত লঞ্চের ঈদের স্পেশাল সার্ভিস চলবে।
রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সভায় যাত্রীদের নিরাপদে লঞ্চে উঠার স্বার্থে ফ্লোটিং রেলিং বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। লঞ্চ মালিকেরা রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় হকার ও গাড়ি পার্কিং বন্ধ, মাঝপথে লঞ্চ থামিয়ে চেকিং না করাসহ বিভিন্ন দাবি তোলেন।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে সংস্থাটির ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থার সহসভাপতি মো. আবুল কালাম খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে আগামী ২০ এপ্রিল লঞ্চের কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে। অনলাইন ও সদরঘাট কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে।
সভার কার্যপত্রে বলা হয়, প্রতি বছর ঈদুল ফিতরে অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এবারো ঈদে একই সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করবেন। অভ্যন্তরীণ নৌপথে সুষ্ঠু ও নিরাপদ যাত্রী পরিবহণ করাই সরকারের লক্ষ্য। সভায় সদরঘাট থেকে বাহাদুরশাহ পার্ক পর্যন্ত রাস্তা যানজটমুক্ত এবং সদরঘাট টার্মিনাল ও লঞ্চগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লঞ্চঘাটে ইজারাদাররা যাতে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় না করে সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।
ঈদের পাঁচ দিন আগ থেকে লঞ্চে মালামাল ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। লঞ্চে ওভারলোড বন্ধে বিআইডব্লিউটিএ, ম্যাজিস্ট্রেট, নৌপুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় অংশ নেওয়া বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া সবাইকে বৈশাখী ঝড়ের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তায় সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।