মিউজিক ভিডিও'র মডেল বাউল সেলিম সিরিয়াল খুনি: র্যাব
ঢাকা: পরপর তিনটি খুন। পরে নারী নির্যাতন। একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার পর ছদ্মবেশে চলাফেরা শুরু করেন বিভিন্ন স্টেশনে। ২০১৬ সালে একটি মিউজিক ভিডিওতে মডেলও হন তিনি। সেটিই কাল হয় বগুড়ায় খুনি ‘বাউল সেলিমের’। ভৈরব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
মিউজিক ভিডিওর গানে মডেল হিসেবে অংশ নেওয়া বাউল সেলিম একজন সিরিয়াল খুনি। এমন তথ্য দিচ্ছে র্যাব। ভৈরব থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
র্যাব জানায়, ১৯৯৭ সালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিঞ্চু নামে একজনকে খুন করে বাউল সেলিম। ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় আসামিও সে। ২০০৬ সালে করে আরেকটি খুন। পরে নারী নির্যাতনের মামলায়ও পড়ে সে। একটি মামলায় যাবজ্জীবন হওয়ার পর শুরু হয় ছদ্মজীবন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হেলাল হোসেন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। তাকে কেউ সেলিম ফকির বলে। কেউবা বাউল সেলিম বলে। এলাকায় তাকে খুনি হেলালও বলা হয়। সিরিয়াল কিলার বলা হয়েছে, কারণ ২১ থেকে ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত এই আট বছরে সে তিনটি হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
২০১৬ সালে মডেল হিসেবে একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে এই দুর্ধর্ষ খুনি।
খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এই গানটি মূলত দেখতে পায়। তারাই আমাদেরকে প্রাথমিকভাবে জানায়। তাদের তথ্যমতে সে নারায়ণগঞ্জ বা ঢাকার স্টেশনে ৬ মাস থাকে। তারপরই তার ব্যাপারে নিশ্চিত হই আমরা।
র্যাব জানায়, প্রায় চার বছর ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনেই একটি মহিলার সঙ্গে সংসার করে আসছিলো সে। বাউলগান করেই চলতো তার জীবিকা।