ভারত: উদার গণতন্ত্রের তীর্থভূমি মহান ভারতবর্ষের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অলঙ্কার বাংলার অহঙ্কার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদারতা আর দাঙ্গাহাঙ্গামা প্রিয় দুষ্কৃতিবাজদের সমিতি তথা বিজেপির অলঙ্কার গুজরাট দাঙ্গার মহানায়ক দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নরেন্দ্র মোদির নিঠুরতা মিলিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের জনগণ তাদের রায় চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। আসছে ২০২১-এ দাঙ্গাবাজদের সমুচিত দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্যও বাংলার জনগণও প্রস্তুত রয়েছেন।
দাঙ্গাবাজ বিজেপির অলঙ্কার নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেটবন্দি করে সাধারণ মানুষ হত্যা, ধর্মের নামে হিংসা সৃষ্টি করে হত্যা, দুর্নীতিবাজদের বিদেশ পালাতে সহায়তা করা, পিএম কেয়ার ফান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে তামাশা, সীমান্তে সেনা জওয়ানদের রক্ত ঝড়ানো এবং তাদের হারানোর হিসেবে ভারতবর্ষের জনগণ ইতিমধ্যেই নেয়া যেমন শুরু করে দিয়েছেন, তেমনি বাংলার মানুষও হিসেব কষছে। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলার কিছ মানুষ বিভ্রান্ত হলেও তারা এখন অনুশোচনাবোধ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তলে সমবেত হচ্ছেন। এই মিছিলে আরও মানুষ শামিল হচ্ছেন। বাংলায় সুর উঠেছে-‘দোল দোল দোলোনি, গুজরাটি মাথায় চিরুনি, নির্বাচন সামনে এলে সীমান্তে বিজেপি বাজায় ঝুনঝুনানি।’
দেশবাসীর সাথে বাংলার মানুষও হিসেবে মিলিয়ে নিচ্ছেন গত ৭০ বছরে সীমান্তে যত সেনা জওয়ানকে করে হারাতে হয়েছে তার চেয়ে বেশি হারাতে হয়েছে এই বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই সময়ে। বিগত ৭০ বছরে দেশ যতটা এগিয়েছে এই মোদিজীর আমলে তাঁর চেয়ে বেশি পিছিয়েছে। এই মহামারির সময়ে বিজেপি নেতাদের মহালুটের হিসেব কষছে। এই মহামারিতে সীমান্ত সিল না করে বাংলাকে করোনা আক্রান্তের যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে তার সমুচিত জবাব জবাব দেয়ার হিসেবে কষছে বাংলার জনগণ। এই করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে গরীব কল্যাণ যোজনা সূচনা করলেও তা থেকে বাংলাকে বাদ দিয়েছেন। বাংলা থেকে দুইটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেয়ার জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলার জনগণ।
এনআরসি/সিএএ’র নামে বাঙালীদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে সেটাও মনে রেখেছে বাংলার জনগণ। ‘গরুর দুধে সোনা’ ‘গরুর মুতে যায় করোনা’, ‘দুই টাকা কিলো চাল কুকুর ছাগল খায়’ এসব অর্বাচীন মন্তব্যও বিবেচনায় রেখে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বাংলার জনগণ।
গরীবের রেশন চোর, ত্রিপল চোর, চাল চোর, এ্যাম্বুলেন্স চোর, নারী পাচার, শিশু চোরদের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে বাংলার জনগণ। দেশের মানুষের সাথে বাংলার মানুষও আজ ঐক্যবদ্ধ। সবাই বলছে, যতদিন দুস্কৃতিবাজদের সমিতি তথা বিজেপির অলঙ্কার নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ততদিন সীমান্তে জোয়ানরা শত্রুপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারাবে। এটা দেশের মানুষ কখনওই মেনে নেবে না।
বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের মা, মানবতার মা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলেছে। সীমান্তে চীনা সেনাদের কাপুরুষি হামলায় আমাদের সেনা জওয়ানরা শহিদ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যে বৈঠক ডেকেছেন সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায় দেশের স্বার্থে চীনাদের সমুচিত জবাব দিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন। শহিদ সেনা জওয়ান পরিবারের সদস্যদের ২৪ঘন্টার মধ্যে নগদ অর্থ এবং চাকুরির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
শুধু কি তাই ? কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, গীতাঞ্জলি, সমব্যথী, কৃষক বন্ধু, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, রূপশ্রী, জল ধরো জল ভরো, দু টাকা কিলো চাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, আই.টি.আই কলেজ, খাদ্য সাথী, স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী, উৎকর্ষ বাংলা, গতিধারা, সেফ লাইফ সেভ ড্রাইভ প্রভৃতি প্রকল্পের মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে বাংলার সকল মানুষের কাছে যে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন তাতে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণতন্ত্রের মা, মানবতার মা হিসেবে সকলের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’, ‘বাংলার যুব শক্তি’ ‘কল্পতরু’ প্রভৃতি প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলা কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে আর বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে কারণ বাংলায় মোদি নেই। বাংলায় বিজেপি দাঙ্গাবাজদের প্রতিনিধিত্ব নেই। হালুয়া-রুটির লোভে যারা দুস্কৃতিবাজদের পেইড এজেন্ট হয়ে এই সোনার বাংলায় যারা মালিক বিহীন রাস্তার কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করছেন তারা আগামী ২০২১-এ জনতার তীব্র স্রোতে সিন্ধু নদের জলে পতিত হবেন।
বাংলা এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাংলায় মমতা বন্দোপাধ্যায় আছেন। মা মাটি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামের গৌরবজ্জ্বল নেতৃত্বের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে রয়েছেন অমিত মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, সুজিত বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শুভেন্দু অধিকারী, রেজ্জাক মোল্লা, সাধন পান্ডে, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক, জাবেদ খান, বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, সৌমেন মহাপাত্র, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপন দেবনাথ, চন্দ্রনাথ সিনহা, ডক্টর আশিস ব্যানার্জী, শ্যামলা সাত্রা, শতাব্দী রায় যুব সমাজের অলংকার অহংকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আরও আছেন শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ রায়। আরো আছে বাংলার যুব সমাজের অহংকার অহংকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, বীরভূমে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত হাতিয়ার নেতা তৈরীর কারিগর অনুব্রত মন্ডল, কাজল সেখ, নৈহাটিতে যুব তারকা পার্থ ভৌমিক চট্টোপাধ্যায়। এই মানুষগুলোর মাধ্যমে বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাকে শান্তির আবাসভূমি যেমন গড়ে তুলেছে আগামীতেও এই পরিবেশ ধরে রাখবে। বাংলার মানুষ ২০২১-এ ২৯৪টি বিধানসভায় মমতার উদারতা আর মোদির নিঠুরতার চূড়ান্ত রায় দেয়ার অপেক্ষায় উদগ্রীব হয়ে আছেন।
জয় বাংলা, জয় হিন্দ, মমতা বন্দোপাধ্যায় জিন্দাবাদ।
লেখক : শিল্পী মুরারই, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী
নতুন সময়/টিআই