যুক্তরাষ্ট্রে ৭ম দিনে বিক্ষোভ, আরও সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেন থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর ফলে দেশব্যাপী আরও সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন। খবর সিএনএন।
একইসাথে নিজেকে আইনের শাসনের সর্বময় অধিকারী এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের মিত্র হিসেবে ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেছেন, রাজপথে এই বিশৃঙ্খলা দমনে মার্কিন সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে যেহেতু স্থানীয় সরকার ব্যর্থ হচ্ছে, তাই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীকেই ডাকতে হবে।
এর আগে, ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় নেমে আসা হাজারো বিক্ষোভকারী ন্যায়বিচারের দাবিতে হোয়াইট হাউজের সামনে অবস্থান নেন। তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, ফ্ল্যাশ গ্রেনেড, রাবার বুলেট ছোড়ে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি অবকাঠামো ও একটি চার্চে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ করে।
সোমবার ওই চার্চ পরিদর্শনে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে একটি বাইবেল হাতে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা দুনিয়ার অন্যতম সেরা দেশের নাগরিক। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব আমি পেয়েছি, তার সর্বোত্তম প্রতিদান নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে তার প্রশাসন। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চার্চ থেকে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের কিছুক্ষুণের মধ্যেই কয়েকটি সেনাবাহিনীর কনভয় পেনসিলভেনিয়ার দিকে যাত্রা করে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪০ শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ ২৪ অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে পাঁচ সহস্রাধিক ন্যাশনাল গার্ডের (রিজার্ভ সেনা) সদস্য। নিউইয়র্কে কারফিউয়ের মেয়াদ বেড়েছে মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত। ওয়াশিংটনে কারফিউ বলবৎ থাকবে আরও দুই দিন।