অবস্থান হারালেন সাকিব আল হাসান, শীর্ষে বহাল চিত্রনায়িকা পরীমণি
বিনোদন: বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান এবং সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির তারকা চিত্রনায়িকা পরীমণি―দু’জন দুই অঙ্গনের তারকা। ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারা কাজ করলেও দু’জনই একটি…
ঢাকা: তিনি যখন অভিনয় শুরু করেছিলেন, তখন বাংলাদেশ নামে কোনো দেশের অস্তিত্ব ছিল না পৃথিবীর মানচিত্রে। তিনি অভিনয় করেছেন বাংলা, উর্দু ও পশতু ভাষার সিনেমায়। সিনে পর্দার রঙ যখন সাদাকালো, তখন তার দারুণ জনপ্রিয়তা। তিনি রহমান। বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালি সময়ের বরেণ্য অভিনেতা।
আজ রহমানের চলে যাওয়ার দিন। ২০০৫ সালের ১৮ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে রইল শ্রদ্ধা।
রহমানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে। তার পুরো নাম আবদুর রহমান। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান তিনি। তাই সিনেমার জগতে আসা সেই সময়ে তার জন্য ছিল অকল্পনীয় একটা স্বপ্ন। কিন্তু রহমান মনের ভেতর অভিনয়ের বিজ বুনে ফেলেছেন। তাই বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে আসেন ঢাকায়।
ঢাকায় এসে রহমান সুযোগ পান কালজয়ী নির্মাতা এহতেশামের সিনেমায় কাজ করার। ১৯৫৮ সালের সেই সিনেমার নাম ‘এ দেশ তোমার আমার’। এরপর ধীরে ধীরে তিনি ‘উত্তরণ’, ‘তালাশ’, ‘চান্দা’, ‘জোয়ার ভাটা’, ‘হারানো দিন’ ও ‘দেবদাস’ ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় করেন।
একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রহমান পাকিস্তানের বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে ‘চাহাত’, ‘দোরাহা’ ও ‘লাগান’ সিনেমাগুলো উল্লেখযোগ্য। এরপর রহমান আবার ঢাকায় ফিরে আসেন এবং এখানেই শেষ পর্যন্ত অভিনয় চালিয়ে যান। রহমান অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ছিল অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘আমার সংসার’। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮২ সালে।
রহমান দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু অভিনেত্রীর সঙ্গেই জুটি বেঁধে কাজ করেছেন। তবে তিনি সর্বাধিক জুটি বেঁধেছেন শবনমের সঙ্গে। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে রহমান-শবনম জুটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে রয়েছে।
নির্মাতা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন রহমান। বাংলা সিনেমায় তিনিই প্রথম নায়ক, যিনি পরিচালনায় আসেন। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ছিল ‘দরশন’। উর্দু ভাষার এই সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। এরপর তিনি উর্দু ভাষায় ‘কঙ্গন’ ও ‘যাহা বাজে সেহনাই’ এবং বাংলা ভাষায় ‘নিকাহ’ সিনেমাগুলো নির্মাণ করেন।
ক্যারিয়ারে অভিনেতা রহমান জিতেছেন নিগার পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার-সহ বিভিন্ন সম্মাননা। তবে বাংলা সিনেমার রূপালি সময়ের দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর নিজের অভিনীত সিনেমাগুলোর মাধ্যমেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au