সেই মাইকেলের শুধু আফতাব নগরেই আছে ২৯ ফ্ল্যাট!
সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোর চলছে দুদকে,তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাওয়ের সাব রেজিস্ট্রার…
অনুপম দে, বাঘারপাড়া (যশোর): বৈশ্বিক মহামারী করোনার থাবায় যখন সমগ্র দেশ থমকে গিয়েছে,সাধারন নাগরিকের রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, জিবন জিবিকার তাগিদে মানুষ যখন অসহায়ের মতন করোনা যুদ্ধ করে যাচ্ছে।
একদিকে কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা।এমন পরিস্থিতিতে যশোরের বাঘারপাড়া বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ভুতুড়ে বিল তৈরী করেছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল নেয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।সরকারের নির্দেশ বাঘারপাড়া বিদ্যুৎ অফিস মানলেও, অনুমান ভিত্তিক দ্বিগুন বিল বানিয়ে গ্রাহকদের ধরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। মিটারে তাদের ব্যবহৃত ইউনিট কম থাকলেও মাস শেষে দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল। যা প্রদান করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারন গ্রাহকরা।সাধারন জনগন যেখানে স্বাভাবিক জিবনযাপন করতে ব্যর্থ,সেখানে দ্বিগুণ বিল পরিশোধ করা মরার উপরে খাঁড়ার ঘা।
গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, বাঘারপাড়াতে আগের দু’মাসের চেয়ে বর্তমানে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। যে ঘটনায় উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অনেকে বলছেন অফিসে বসে বিল করাতে এ ধরনের ভুতড়ে বিলের সৃষ্টি।গত দু মাসের সাথে বর্তমান মাসের বিলের কোন রকমের সামঞ্জস্য নাই। গ্রামের সাধারণ মানুষের অভিযোগ এ ভাবে বিপদে ফেলার কোন মানে থাকতে পারেনা। গ্রাহকরা বলছেন, গত মার্চ মাস থেকে প্রায় তিন মাস যাবত মিটারম্যানরা তাদের বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে না।তারা অফিসে বসেই আনুমানিক বিল করেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছে পৌছে দিচ্ছেন।লকডাউনের মাঝে তাদের মিটারে যদি একশত ইউনিট বিল উঠে থাকে, তাহলে তারা একশত ইউনিট বিলই পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদেরকে দুইশত ইউনিটের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অথচ মিটারে থাকছে ১শত ইউনিটের ব্যবহার। এমন বিল দেখে গ্রাহকরা বিস্মিত হচ্ছেন। তাদের কোনকিছুই করার থাকছে না। করোনা পরিস্থিতিতে বাঘারপাড়ায় বিদ্যুৎ সেক্টরে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারন মানুষের এমন বাড়তি বিল পরিশোধ করা খুবই কষ্টকর হচ্ছে।
দৈনিক নতুন সময়ের প্রতিবেদকে গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন,“বর্তমান বিদ্যুৎ বিলের কাগজে ঘরের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ করা হয়েছে।বর্তমানে কামাই রোজগার না থাকায় কি দিয়ে এ বিল পরিশোধ করবো জানিনা।’’
পৌরসভার ৬ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা শচীন অধিকারি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান। গত মাসের বিলসহ নেয়া হলে তখন তাকে অফিস থেকে বলা হয় করোনা ভাইরাসের কারণে রিড়িং নেয়া কারনে ভুল হতে পারে।এবং অফিস জানিয়েছে আপনার বিলের রিড়িংটা নিয়ে আসলে আগামী মাসে বিলের সাথে সমন্বয় করা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ধলগ্রামের ব্যবসায়ী মনিসংকর বলেন,এখন লকডাউনে আমার দোকান বন্ধ থাকার পরও ১৫০০ টাকার মতো বিল এসেছে। দোকান খোলা থাকা অবস্থায় বিল আসতো ৭০০/৮০০ টাকা।এখন আমরা কর্মহীন। আমার বাসা-বাড়ির বিলও অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অভিযোগে জানিয়েছেন, তাদের কাছে গত প্রায় দুই মাস যাবৎ ভৌতিক বিল পাঠানো হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বা সরকারি নির্দেশনায় কোন কোন মাসে স্বল্প পরিসরে খোলা হচ্ছে।এ কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের বিদ্যুৎ বিল কম উঠবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। প্রতিমাসেই তাদেরকে অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে হচ্ছে। এ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তারা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডেপেুটি জেনারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকার সবাইকে ঘরে থাকার নিদের্শনা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তারা অফিসে বসেই এপ্রিলের সকল গ্রাহকের বিদ্যুতের আনুমানিক বিল তৈরি করেছেন। এ কাজে কারো হয়তো বিল কম বেশি হতে পারে।তারপরও যদি কারো বিল বেশি হয়ে থাকে,তবে অবশ্যই আগামীতে এ বিল সমন্বয় করে নেয়া হবে। এ নিয়ে বাড়তি কোন ঝামেলা বা সংশয় থাকবে না।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au