আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কদর বেড়েই চলছে। অন্যান্য স্থানের মতো ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেও দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন পর হলেও একত্র হতে পেরে আনন্দিত তৃণমূলের নেতারা। সেই সঙ্গে দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগার ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ত্যাগী ও পরিশ্রমীদের নৌকার প্রার্থী মনোনীত করার দাবি তুলছেন তারা।
অপরদিকে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু তার ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে, ফুফাতো ভাই, ভাইয়ের শালাসহ অনুপ্রবেশকারী ও একাধিক মামলার আসামিসহ বিতর্কিত দেড় ডজন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন জোগাড় করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন- উথুরা ইউনিয়নে সদ্য দলে যোগ দেয়া বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও এমপির দ্বিতীয় বিয়ের ঘটক ইসাহাক আলী, মেদুয়ারী ইউনিয়নে বড় ভাইয়ের শালা আকতার হোসেন সরকার, ভরাডোবা ইউনিয়নে ভাতিজির জামাই বিএনপি পরিবারের সন্তান মোস্তাফিজুর রহমান, ধীতপুর ইউনিয়নে আত্মীয় ও বিএনপির দাতা সার্জেন্ট (অব.) তোফাজ্জল হোসেন, বিরুনিয়া ইউনিয়নে ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন ঢালী, ভালুকা ইউনিয়নে ভাগিনা নুরে আলম সিদ্দিকী এবং অপহরণ, নারী নির্যাতন অর্থ আত্মসাৎসহ দুই ডজন মামলার আসামি ভূমি দালাল আমান উল্লাহ খান মাখন, ওমর হায়াত খান মাখন, মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে ভাই জসিম উদ্দিন আহমেদ, ভাতিজা হাবিবুল্লাহ সবুজ, ডাকাতিয়া ইউনিয়নে জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক মনি, বিতর্কিত ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হারুন-অর রশিদ, কাচিনা ইউনিয়নে বিতর্কিত হিমেল তালুকদার, হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ছোট বোন রহিমা আফরোজ শেফালী ও মনিরুজ্জামান মামুন, রাজৈ ইউনিয়নে মীর এমরান হাসানকে নৌকার প্রার্থী করার চেষ্টা করছেন।
অথচ এসব প্রার্থী অতীতে কখনো নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিনা সন্দেহ আছে। নৌকাবিরোধী প্রার্থী নিয়ে কাজ করায় এলাকায় তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে। এমপির এসব কাজ-কর্মে আওয়ামী লীগে বিভাজন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়ন বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের দাবি- দীর্ঘ ১৮ বছর আগের কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কাজ চললেও তৃণমূলে রয়েছে অনেক যোগ্য, ত্যাগী পরিশ্রমী নেতাকর্মী। অনুপ্রবেশকারী বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন চান তৃণমূলের নেতারা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে কারা হচ্ছেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে হাট-বাজারে, চা-স্টলে, মোড়ে মোড়ে ও চা আড্ডায় চলছে মুখরোচক আলোচনা। আবার নেতাকর্মীরাও প্রার্থী নিয়ে করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নাম প্রকাশ না করে ভালুকার একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, এক সময় যারা নৌকাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শবিরোধী ছিল তারা কীভাবে দলে ঢুকে এখন মনোনয়ন দৌড়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়? ৬নং ভালুকা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিল, সংগঠনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করব। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, নৌকার বিরোধিতা করবেন, আবার নৌকা চাইবেন তা হবে না।
দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হবে। উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শওকত আলী জানান, দল ঠিক রাখতে হলে দলের জন্য যারা কাজ করে তাদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হবে। হাইব্রিডদের জন্য সুপারিশ করলে দল ধ্বংস হয়ে যাবে। তৃণমূল থেকে যেভাবে নাম আসবে, আমরা সেভাবেই কেন্দ্রে তালিকা পাঠাব। কেন্দ্র যাকে ইচ্ছা মনোনয়ন দেবে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনুর বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে, পরে কথা বলবেন জানিয়ে সংযোগটি কেটে দেন।