করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে মানুষের পাশে আছি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা পালন করছি: কাউন্সিলর রতন
কে এম আবু : মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকা কর্মহীন, অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন। এজন্য এলাকার বসবাসরত মানুষেরা তাকে মানবিক কাউন্সিলর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জানা যায়, সংক্রমন রোধে দক্ষিণের এই মানবিক কাউন্সিলর অসংখ্য অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে করোনায় মধ্যবিত্ত যেসব পরিবার প্রকাশ্যে ত্রাণ নিতে পারেন না রাতের আধারে তাদের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সূত্রমতে কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন সংক্রমন শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে আছেন। শুধু করোনাভাইরাস সংক্রমন নয়, প্রতিটি সংকটে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সূত্রটি জানাই, রতনের এই মানবিক কাযর্ক্রমের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাকে পুরুষ্কার দেয়া হতে পারে।
এ এলাকার বসবাসরত ছালেমা বেগম বলেন, রতন ভাই সবসময় আমাদের পাশে আছেন। বিপদে আপদে আমরা সব সময় তাকে পাই।
সাব্বির মিয়া নামের আরেকজন বলেন, করোনাভাইরাসের শুরু থেকে তিনি আমাদের পাশে আছেন। তার মত যদি অন্যান্য কাউন্সিলররা জনসেবায় এগিয়ে আসতো তাহলে মানুষের খাবারের সমস্যা হতো না। তিনি বলেন, যখন আমাদের বাসায় খাবার ছিলো না তখন রতন ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম তিনি বাসায় খাবার পৌছেঁ দিয়েছিলেন।
হালিমা বেগম নামের বয়স্ক এক মহিলা বলেন, আমি এলাকার ভোটার না। তবে যে কয়দিন রতন ভাইয়ের অফিসে গিয়েছিলাম খালি হাতে ফিরে আসি নাই।

করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে মানুষের পাশে আছি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা পালন করছি: কাউন্সিলর রতন
দেখা গেছে, করোনা সংক্রমন রোধে অনেক কাউন্সিলর মাঠে না গিয়ে থেকে ফোনে ফোনেই সেবা দিয়েছেন কিন্তু কাউন্সিলর রতন ফোনের মাধ্যমে সেবা দেয়াসহ নিজ কার্যালয়ে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনেই জনসেবায় লিপ্ত ছিলেন।
কাউন্সিলর অফিসের তথ্য মতে, ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন সংক্রমন রোধে ১২ হাজারেরও অর্ধিক পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন নিউজজিকে বলেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, উন্নত নাগরিক সেবার মডেল ওয়ার্ড হিসেবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডকে গঠন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অতীতে যেমন কাজ করেছি, এবারো একসঙ্গে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, আমি করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে সাধারণ মানুষের পাশে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পালন করছি।
রতন বলেন, বিগত সময়ে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এতে খুবই কম আক্রান্ত হয়েছেন। এডিস মশার লার্ভাও সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে এ এলাকায়। আর এটা সম্ভব হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কারণে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও করোনা মোকাবেলায় আমরা সফল হব ইনশাল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, আমার ওয়ার্ডে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছে যারা মহাসংকটেও চক্ষুলজ্জায় সামনাসামনি এসে খাদ্যসহায়তা নিতে পারেন না। এ ধরনের পরিবারগুলো খোঁজখবর নিয়ে নির্ভয়ে তাদের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে সংক্রমন ঠেকাতে সরকারি ছুটির শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে ২০ নং ওয়ার্ডের প্রায় সব জায়গায় (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ওসমানী উদ্যান, রমনা পার্ক, উদীচী, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, কেন্দ্রীয় কচিকাচার আসর, এশিয়াটিক সোসাইটি, পরিসংখ্যান বুরো, টেনিস কোর্ট, ঢাকা ক্লাব, প্রেসক্লাব, সচিবালয়, সেগুনবগিচা, তোপখানা রোড, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও রেস্ট হাউজ, টিবি ক্লিনিক এলাকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা, হাই কোর্ট স্টাফ কোয়ার্টার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলবাড়িয়া স্টেশন পূর্ব এলাকা, ফুলবাড়িয়া পশ্চিম ও সেক্রেটারিয়েট রোড, আব্দুল গনি রোড ও সচিবালয় স্টাফ কোয়ার্টার, পুরাতন রেলওয়ে কলোনি পশ্চিম, রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ও টয়েনবি সার্কুলার রোড, রমনা গ্রিন হাউজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা, নজরুল ইসলাম হল, আহসান উল্লাহ হল, তীতুমীর হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস (ফজলে রাব্বি হল), শেরে বাংলা হল (প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সোহরাওয়ার্দী হল (প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), শহিদুল্লাহ হল, ফজলুল হক হল, ড. এম এ রশীদ হল, শহীদ স্মৃতি হল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হল) সহ এর আশপাশের এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দুঃস্থ এবং ছিন্নমূল মানুষের কাছে এ খাদ্য সহয়তা পৌঁছে দেন তিনি।
নতুন সময়/টিআই