গোলাম রসুল,দুর্গাপুর : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে ও বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নিজদলে ও বিএনপির নিজ দলের দু’গ্রুপের মধ্যে বেশ শক্ত অবস্থান দেখা গেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন প্রার্থী দেয়াকে ঘিরে পুরো দুর্গাপুর উপজেলাজুড়ে চলছে চরম অস্থিরতা। তবে এই অস্থিরা মূলত আওয়ামীলীগের ভেতরে। এই উপজেলা ৭টি ইউনিয়েন আওয়ামীলীগ হতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চান প্রায় ৭১জন। ইতি মধ্যে কেন্দ্রে ৭১জনের নাম পাঠিয়েছে আওয়ামীলী।
তবে বিএনপিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যেতে চায়না বিএনপির নেতা ও কর্মীরা। তাদের একাধিক নেতারা জানিয়েছেন ইউনিয়ন নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করছেন না। আওয়ামীলীগে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমান মাঠ পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে বর্তমান এমপি প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান গ্রুপ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তার সাথে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন গ্রুপ।
এসব গ্রুপিংয়ের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনকি সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন। তারা কার কাছে যাবেন এমটাই ভাবনার মধ্যে পড়েছে। এমপির কাছে, নাকি সভাপতি-সম্পাদকের কাছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। যারা চেয়ারম্যান পদে ভোট করতে ইচ্ছুক তারা দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছে। সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যাকে ইচ্ছে তাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন।
কিন্তু মাঠের চিত্র একেবারে উল্টো। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ করছেন এমপি, ও সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে। এদিকে বিএনপির তিন ভাগের বিভক্ত হলেন তারার তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে গত দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। এবার তৃতীয়তম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ। বিগত বছরগুলোর দিকে দেখলে দেখা যায়, দলীয় মনোনয়ন যাকেই দেয়া হয়েছে সেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রিয়তা থাক বা নাক থাক সেটির কোনো বিষয় ছিল না।
বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা চারগুন বেশি। কারণ জনমত থাক বা না থাক, দলীয় মনোনয়ন পেলেই তিনি চেয়ারম্যান। এই ধারণা থেকে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছড়াছড়ি।
বর্তমান চেয়ারম্যান পদে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৭১জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশিরা কেউ এমপির লোক, কেউ বা উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পদকের লোক।
দলীয় মনোনয়ন পেতেও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কেউ যাচ্ছেন এমপির কাছে, আবার কেউ বা ধরণা দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে, এমপি তার মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করছেন,
তেমনি আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদক তার লোককে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। আর কিছু চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ছুটে চলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে। যার ফলে এই চতুরমুখি দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ।