লকডাউনের মধ্যে ও ঈদযাত্রায় ঝড়েছে ১৬৮ প্রাণ
ঢাকা: করোনা ভাইরাসে কারণে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যেই এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৯টি। এসব দুর্ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২৮৩ জন।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন ২০২০’-তে এ হিসাব দিয়েছে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, সড়ক, রেল ও নৌ পথে সম্মিলিতভাবে ১৫৬টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ২৮৩ জন আহত হয়েছে।
সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
সেখানে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
প্রতিবেদন প্রকাশকালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘সাধারণ ছুটি বা লকডাউনে দেশে গণপরিবহন বন্ধ ছিল, ৯০ শতাংশ যাত্রীর যাতায়াত বন্ধ থাকলেও সেই তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এখন ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহনকে বিকশিত করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনাকেও মহামারীর মতো গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর কারণে এ বছর গণপরিহন বন্ধ থাকায় ঈদযাত্রা ব্যক্তিগত পরিবহনে সীমিত থাকলেও ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা ছিল অতীতের তুলনায় বেশি। ১৯ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১৩ দিনে ১৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৮ জন নিহত ও ২৮৩ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে ১টি ঘটনায় কোন হতাহত হয়নি। একই সময়ে নৌ-পথে ৬টি ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৪৫ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ২৫ মে, ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটে ২৪ মে, ৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২ আহত হয়। এই সময় একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয় ১৯ মে, ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়।
একদিনে সর্বোচ্চ মটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে ঈদের দিন ২৫ মে, ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়।
এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৪৫ চালক, ৩৩ নারী, ২৮ পথচারী, ২৭ পরিবহন শ্রমিক, ২৪ শিশু, ১৯ শিক্ষার্থী, ৫ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ৩ শিক্ষক, ৩ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ সাংবাদিক ও ১ প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে।
নিহতের মধ্যে আছে ৩ পুলিশ সদস্য, ১৮ নারী, ১২ শিশু, ১৪ শিক্ষার্থী, ৩ শিক্ষক, ৩২ চালক, ৭ পরিবহন শ্রমিক, ১ প্রকৌশলী ও ৩ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।