অন্যান্য এলাকার বসবাসরতরা ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিকের বাসার সামনে খাদ্যের অপেক্ষায়
বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষেরা আজিমপুরে ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান মানিকের বাসার সামনে এসে ত্রাণ নেওয়ার জন্য ভিড় করে। সরেজমিনে বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করা গেছে তারা এ এলাকার জনতার কাউন্সিলর আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান মানিকের বাসার নিচেই দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য নেওয়ার অপেক্ষায় ভিড় জমান।
অন্যান্য ওয়ার্ডের বসবাসরতদের অভিযোগ, তারা সঠিক মতো তাদের এলাকায় ত্রাণ পাচ্ছেন না। এজন্য তারা কাউন্সিলর মানিকের বাসার সামনে এসে প্রতিদিন ত্রাণের অপেক্ষায় থাকেন। তার কারণ হলো মানিক কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না প্রতিদিন তিনি উপস্থিত সকলকেই প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দেখা গেছে, মানিকের আশেপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ ও ভাসমান মানুষেরা এখানে এসে প্রতিদিন ভিড় জমায়। এসমস্ত বেশিরভাগ মানুষ হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বেশকিছু ওয়ার্ডের, নবাবগঞ্জ, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, মৌলভীবাজার, শহীদ নগর, শাহবাগ, এরশাদ কলোনি, প্রমুখ এলাকার মানুষের ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিকের বাসার সামনে এসে ত্রাণ নেওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকেন।
কথা হয় রকেয়া বেগমের সঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার কাউন্সিলর ভোটার না হওয়ার শর্তে আমাদেরকে ত্রাণ দেয় না। বেশ কিছুদিন এলাকার মানুষের কাছে ঘুরে ত্রাণ না পেয়ে এখানে এসেছি।
নীলু রায় বলেন, শুনেছি কাউন্সিলর মানিক তার বাসার সামনে থাকা মানুষদের প্রতিদিন খাদ্যসামগ্রী দেয় এজন্য আমি এখানে এসে প্রতিদিনের খাবার নিয়ে যায়।
শাপলা বেগম বলেন, আমি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি কিন্তু কোথাও খাদ্যদ্রব্য পাইনা এজন্য কয়েকদিন যাবৎ এখানে বসে থেকে বাসার খাবার নিয়ে যায়।
রহিম বলেন, সারাদিন আমি ফুটপাতে থাকি কেউ খোঁজ খবর নেয় না সন্ধ্যার পর অথবা আগে মানিক ভাইয়ের এখানে আসি কিছু খাবার নিয়ে আমরা রান্না করে খায়।
কথা হয় নবাবগঞ্জের রাশেদা বেগমের সঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার ভোটার না হওয়ার শর্তে কেউ ত্রাণ দেয় না প্রতিদিন এখানে আসি এবং প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যদ্রব্য বাসার উদ্দেশ্য নিয়ে যায়।
প্রতিদিন কি কাউন্সিলর মানিক আপনাদের খাদ্যদ্রব্য দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, প্রতিদিন অনেক মানুষ কাউন্সিলরের বাসার সামনে এসে ভিড় করে এজন্য আজ আমি এসেছি খাদ্য সামগ্রী নেওয়ার জন্য।
শাহবাগ এলাকায় বসবাসরত রিকশাচালক সমীর রায় বলেন, আমরা ঐই এলাকার ভোটার না এজন্য আমাদের ত্রাণ দেয় না। তাই প্রায়ই যেদিন খাবারের সংকট থাকে সেদিন আজিমপুরে চলে আসি এবং এখান থেকে ত্রাণ নিয়ে যাই।
প্রতিদিন আপনারা এই বাসার সামনে এসে ভিড় করেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি প্রতিদিন আসি না মাঝে মাঝে আসি। যেদিন বাসায় খাবারের সংকট থাকে সেই দিন। করোনা ভাইরাসের কারণে আয়-রোজগার কম এ কারণে লালবাগ থেকে আমি মানিক ভাইয়ের দেওয়া খাবার নিয়ে বাসায় যায়।
ফাইজুল ফিরোজ বসবাস করেন মৌলভীবাজার তিনি বলেন, মুখ চিনে আমাদের এলাকার কাউন্সিলরা ত্রাণ দেয়। এখানে বেশ কয়েকদিন ধরে আসছি কিন্তু এখানে মুখ না চিনেই মানিক ভাই আমাদের প্রতিদিন কমবেশি কিছু খাদ্যদ্রব্য দেয়। এবং তিনি এটা ত্রাণ নয় এটা প্রধানমন্ত্রীর উপহারবলে আমাদের মাঝে বিতরণ করে এটা ভালো লাগে।

অন্যান্য এলাকার বসবাসরতরা ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিকের বাসার সামনে খাদ্যের অপেক্ষায়
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে শুরু থেকেই আমি মাঠে আছি। সংক্রমণ রোধে মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও মেয়রের উপদেশ যথাযথ পালন করার চেষ্টা করছি। আমি নিজ দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর উপহার (খাদ্য সামগ্রী) আমার ওয়ার্ডের বসবাসরত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। ত্রাণ নিতে অনেকে সংকোচ বোধ করতে পারে এজন্য আমি সকলকে বলছি এটা ত্রাণ নয় এটা প্রধানমন্ত্রীর উপহার।
প্রতিদিন আপনার বাসার সামনে বহিরাগত অর্থাৎ ওয়ার্ডের বাইরের লোকজন ভিড় জমায় বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক বলেন, দেখুন রিজিকের মালিক আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর উপহার আমি সাধারণ মানুষের মাঝে পৌছে দিচ্ছি অন্যান্য ওয়ার্ডের বসবাসরত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে তারা ত্রাণ না পেয়ে আমার এখানে প্রায় প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। আমি তাদেরকে আমার সাধ্য মতো প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। সে আমার ওয়ার্ডের ভোটার হোক বা না হোক তাদেরকে দিতে পেরে আমার নিজের কাছে ভালো লাগে।তবে আমার কষ্ট হয় তারপরও আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
হাসিবুর রহমান মানিক আরো বলেন, প্রতিদিন আমি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষকে আমার বাসার সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপর তুলে দিয়ে থাকি। অনেক মানুষ প্রতিদিন আমার বাসার সামনে এসে তারা ভিড় জমায় তারা নিচ থেকে আমাকে ডাকে মানিক মানিক ভাই আমাদের কিছু খাবার দাবার দেন আসলেই তাদের যদি খাবারের ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা আমার এখানে ভিড় জমাতো না।এটা মানবিক এজন্য আমি কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দি না সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর উপর খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, তারা বারবার আমাকে ডাকেন এখন কি করবো বাধ্য হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর উপহার তাদেরকে প্রদান করি। অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিজ দায়িত্ব পালন করত তাহলে প্রায় সবাই প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেতো। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল দুপুর রাত পর্যন্ত অনেকে বসে থাকেন দিনে দুই-তিনবার তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে থাকি অনেকে আবার দুবার করে নেই। তাছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত যারা বসে থাকে তাদের কে ও খাদ্য সামগ্রী দিতে হয়। অনেক নতুন নতুন মানুষ এসে বাসার সামনে রাত বারোটা একটা দুইটা পর্যন্ত বসে থাকে নিজের কাছে খারাপ লাগে।
জনতার এ কাউন্সিলর বলেন, যখন রাত গভীর হয় এখন আমার স্ত্রী আমাকে বলে অনেক মানুষ বাসার সামনে তাদেরকে কিছু খাবার দাবার দিয়ে দাও। মানুষের এই আনাগোনা দেখে আমি আমার সাধ্যমত প্রধানমন্ত্রীর উপর তাদের মাঝে বিতরণ করে থাকে। তিনি বলেন, সংক্রমণ রোধে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমি সেটি পালন করার চেষ্টা করছি এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ যতদিন না শেষ হবে ততদিন আমি মানুষের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
নতুন সময়/টিআই