রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা ও বন্ধু
মানুষ মানুষকে পণ্য করে
মানুষ মানুষকে জীবিকা করে
পুরানো ইতিহাস ফিরে এলে
লজ্জাকি তুমি পাবেনা ও বন্ধু
বল কি তোমার ক্ষতি
জীবনের অথই নদী
পার হয় তোমাকে ধরে দুর্বল মানুষ যদি
মানুষ যদি না হয় মানুষ, দানব কখনো হয়না মানুষ
যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ
লজ্জাকি তুমি পাবেনা ও বন্ধু!
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা ও বন্ধু!
বিপদেআপদে, যখনই মানবতার সেবা নিয়ে কাজ করতে যাই তখনি প্রয়াত কন্ঠ শিল্পী ভুপেন হাজারিকার গাওয়া বিখ্যাত এই গানটি মনের অজান্তেই বেজে ওঠে মানুষ মানুষের জন্য।
হ্যাঁ প্রিয় পাঠক, ভাই বন্ধুগন আজ আপনাদের সামনে আমার ক্ষুদ্র লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরবো এমন একজন নিবেদিত মানুষকে, আর তিনি হলেন ঃঃঃ-
শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক (রসায়ন) মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
যিনি কয়েক যুগ ধরে এ উপজেলায় শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা করে আসছেন৷ তিনি শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে তিনি উপজেলা বিজ্ঞান প্রযুক্তি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, জেলা-উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতি, রোভার স্কাউটসসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন৷ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন, বর্তমানে দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার শাহরাস্তি উপজেলা প্রতিনিধি , দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন, আমার দেখায় তিনি একজন নির্মোহ ও সাদা মনের মানুষ৷
৬০ এর কাছাকাছি বয়সেও যিনি মনের দিক থেকে একেবারে তরুণ৷ মজার ব্যাপারটি হচ্ছে তিনি চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার সন্তান না হয়েও রাতবিরাত স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই জানেনা উনার বাড়ি এই উপজেলায় নয়, সকলকেই তিনি আপন করে নিয়েছেন।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এর দেশের বাড়ি কুমিল্লা জেলা লাকসাম পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাদ্রা গ্রামে।
গ্রাম লাকসাম হলেও আপন যোগ্যতা আর কর্মদক্ষতা, আচার-আচরণ দিয়ে সকলের তিনি এখন শাহরাস্তি উপজেলার অতি আপনজন। কথায় বলে ঢেকি স্বর্গে গেলেও বারা(ধান) ভাঁদে। তিনিও তাই।
তিনি ১৯৯২ সালের ২০ জুন শিক্ষকতার সুবাদে এসেছেন শাহরাস্তিতে। প্রভাষক হিসাবে সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজের( রসায়ন বিভাগের) শিক্ষকতা শুরু করেন, একি কলেজে ১০ বছর প্রভাষক হিসাবে শিক্ষকতা করার পরে তিনি ২০০২ সালে একি কলেজে একি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে পদউন্নতি পান, এখনো কর্মরত রয়েছেন। শাহরাস্তি উপজেলায় দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত সন্মানের সাথে শিক্ষকতা করছেন।
একি কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত আছেন উনার স্ত্রী মনোয়ারা খানম।
সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম এর দুটি পুত্র সন্তান – বড় সন্তান ডাক্তার মোঃ মুনতাসির কালাম (নাবিল) ছোট ছেলে মোঃ মোবাশ্বির কালাম (নাহিন) শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ে বিবিএ (অনার্স ফাইনাল) ইয়ারের শিক্ষার্থী।
সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় ২০০০ সালে সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজের একটা অনুষ্ঠানে।
এরপর জাতীয় স্যানিটেশন মাস উপলক্ষে উপজেলা জনসাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহযোগিতায় শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যাবহার করার জন্য আমার লেখা নাটিকা প্রত্যাশা উপজেলার স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, হাটে – বাজারে মঞ্চায়ন হয়েছে।
তখন থেকেই তিনি আমায় নানান ভাবে উৎসাহ দিতেন, এরপর শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন,প্রেসক্লাবের সকলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আমায় শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ দেয়া হয়।
আমার পরিবার যতোটা না আমায় উৎসাহ দিয়েছেন তাদের চাইতে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। সাথে ছিলেন মেহের ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠা অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার, মেহের ডিগ্রি কলেজের প্রয়াত শিক্ষক কবিরুল ইসলাম মজুমদার। যাদের কথা ভুলা যাবেনা।
অসংখ্য মানুষ আছেন যাদের আন্তরিক সহযোগিতা আর ভালোবাসা নিয়ে সততা আর ভালো কাজের মাধ্যমে এতোটা পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি।
সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম এর কাছে আমি একজন ছোট ভাই হিসেবে ওনার মাঝে অভিভাবকের স্নেহ, বড় ভাইয়ের আন্তরিকতা ও পরমাত্মীয়ের হৃদ্যতা পেয়েছি৷ আল্লাহর কাছে দোয়া করি উনি সহ উনার পরিবারের সবাইকে সুস্থ ও নেক হায়াত দান করুন।
দুরপ্রবাসে বসে স্বল্প সময়ে অল্প পরিসরে লিখতে গিয়ে লেখায় যদি কোন ভুল হয় সেইজন্য ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই। আবারও সকলের সুস্থ জীবন কামনা করছি। করোনায় আতংকিত না হয়ে সচেতন হবেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই চলুন। মুখে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
লেখক পরিচিতি – সাংবাদিক, নাট্যকার, কবি, লেখক।