জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন জেলেনস্কি
সারাবিশ্ব: সদস্য না হয়েও বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব সেভেনের (জি-৭) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জাপানের হিরোশিমায় শুক্রবার (১৯…
জিল্লুর রহমান জয় (রাজশাহী) : প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে অপশক্তির হন্তাকারক দুর্গা বিদায় নিয়ে এক বছরের জন্য চলে গেলেন মর্ত্য ছেড়ে। বিজয়ার শোভা যাত্রায় ঢাক- ঢোল, শাঁক, করতাল, আর সানাইয়ের করুন সুর এবং ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রু বিষর্জনের মাধ্যমে দূর্গাদেবীকে নদীর ঘাটে বিসর্জন দিয়ে ঘরে ফিরে ভক্তরা।
সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতেও দুর্গাকে বিদায় জানানো হয় ভাব গম্ভীর আর উৎসব-উদ্দীপণার সকল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমী। ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবীর দেবালয়ে ফেরার দিন। ঢাকের তালে চোখের জলে অকৃত্রিম ভালোবাসায় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনেই সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে রাজশাহী নগরের পদ্মাপাড়ে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার প্রশাসনের নির্দেশনা থাকায় সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন শেষ করা হয়। চণ্ডীপাঠ, বোধন ও দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সোমবার ছিল বিজয়া দশমী।

ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেই বন্দনার শেষ হয়েছে। এবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা বা গান-বাজনায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু দেবী দুর্গার উৎসবে মনে রং না লাগিয়ে কী থাকা যায়! তাই তো সেই রংয়ে রাঙা হলো দেবী দুর্গার মুখও। মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের পর হয় ‘সিঁদুর বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে।
বিদায়ের সময় নগরের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় ঘাটে। সেই ট্রাকে ওঠেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় চোখে পড়েছে। রাজশাহী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, এ বছর করোনার জন্য আমরা উৎসবের আয়োজনগুলোকে সীমিত করেছি।
এছাড়া ও রাজশাহী মহানগর আ’লীগের কর্মী অমরিতা রাণী শান্তা বলেন, আনন্দ উদযাপন একটু এবার কম করোনার কারণে তাই আমরা সীমিত ভাবে আনন্দর মাঝেই সিমাবদ্ধ আছি। সেভাবে আনন্দ উদযাপনের কোনো রেশ নেই। মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমরা আগামীবার একটি সুন্দর উৎসব উদযাপন করতে পারি। আগামী বছর দেবী দুর্গা নিশ্চয় আসবেন এক শান্ত পৃথিবীতে। এবার রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলে ৪৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে জেলায় ৪০৮টি ও মহানগরে ৭০টি পূজামণ্ডপ ছিল।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au