চিঠি পাঠালো বিএসএমএমইউ, ফের আশার আলো দেখছে গণস্বাস্থ্য
ঢাকা: কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এ চিঠি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
এ ব্যাপারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটা সরকারি খরচ। এটা জমা দিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। দুপুর ২টায় চিঠি হাতে পাওয়ায় আজ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারিনি। আগামীকাল জমা দেবো।’
এদিকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রেস সমন্বয়ক জাহাঙ্গীল আলম মিন্টু মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্যের কাছে ২০০ কিট চেয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে সেই কিট পৌঁছে দেয়া হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে দেশবাসীর কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অপারগতার জন্য ক্ষমা চান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি নিজেদের তৈরি ‘জিআর র্যাপিড ডট ব্লট’ কিট দিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য সরকারকে সাময়িক সনদপত্র দেয়ার আহ্বান জানান।
ওই আহ্বানের মাত্র একদিনের মাথায় কিট দেয়া ও ব্যাংকে খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেয়ার চিঠি পেলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের থেকে বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআরবি’তে ওই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমিত দেয়া হয়। গত ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।
ওইদিন কমিটির একজন সদস্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আজই হয়তো লিখিত অফিস অর্ডার হয়ে যাবে। এরপরই আমরা চূড়ান্তভাবে কিটের কার্যকারিতা যাচাইয়ে কাজ শুরু করবো।’
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আমাদের কাছে চিঠি লিখে অনুমতি চেয়েছিল কিট ট্রায়ালের। আমরা আজ অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। যদিও এটার জন্য অনুমতি লাগার কথা না। গণস্বাস্থ্য আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র-বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) অথবা বিএসএমএমইউ’তে তাদের উদ্ভাবিত কিটের ট্রায়াল করতে পারবে।’