হোম কোয়ারিন্টেনে থেকেই চিকিৎসা নেবেন খালেদা জিয়ার
ঢাকা: বিএনপি নেতারা এক সময় তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জোর দাবি জানালেও মহামারীর মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘আপাতত’ তাকে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
তার বোন সেলিমা ইসলাম শুক্রবার একটি গণমাধ্যমকে জানান, ‘দেশের বর্তমান যে সার্বিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক যে অবস্থা, এখন তো সেটা তো সম্ভব নয়। সেজন্য তাকে বাসায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আর যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই টিমে যারা সদস্য, তারা সকলে এক্সপার্ট ফিজিশিয়ান।’
দলীয় প্রধানের চিকিৎসার ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘ম্যাডামের চিকিৎসা নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেটা বলবেন সেটাই সঠিক।’
বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি ছিলো দলের পক্ষ থেকে এখন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাসাতেই হবে বলে তার বোন জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সে সময় তো নরমাল সিচুয়েশন ছিলো সেটা আপনারা সবাই জানেন। এখন তো সেই সিচুয়েশন নেই। আমরা বিদেশ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছিলাম কিন্তু সে অনুমতি দেয়া হয় নাই। এখন এই যে করোনা পরিস্থিতি তাতে ওনার বাসার থেকে বের হওয়া বিপজ্জনক। তাই হোমকোয়ারিন্টেনে থেকেই চিকিৎসা নেবেন তিনি।’
বাসায় ফেরার পর থেকে চিকিৎসকদের একটি দলের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। কয়েক সাপ্তাহ পরপর তারা এসে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে যান। সর্বশেষ গত সাপ্তাহেও তারা ফিরোজায় গিয়েছিলেন।
পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসায় খালেদা জিয়ার সময় কাটে ইবাদত-বন্দেগিতে। মাঝে মাঝে টেলিফোনে দুই ছেলের স্ত্রী ও নাতনীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও লন্ডন থেকে চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান।
গুলশানে খালেদা জিয়ার ভাড়া বাড়ি ‘ফিরোজা’র নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বাসায় প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসক দলের সদস্য আর কয়েকজন নিকট আত্মীয় ছাড়া আর কারও ঢোকার অনুমতি নেই।
নতুন সময়/টিআই