ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব:
প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে আর মুক্তির মিছিলে শামিল হতে কাটিয়েছিলাম নির্ঘুম দু রাত ! লুটিয়ে পড়েছিলাম মাটিতে!……….
“আজ ১১ সেপ্টেম্বর” বড্ডো বেশি মনে পড়ছে সেই দিনটির কথা। মমতাময়ী মা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসের মহেন্দ্রক্ষণটির কথা।
সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে আর মুক্তির মিছিলে শামিল হতে দু রাত দুদিন নির্ঘুম কাটানোর পর সংসদ ভবনের সাব জেলে হাজির হয়েছিলাম।
সীমাহীন বর্বরতা ও সকল ষড়যন্ত্র ছেদ করে মাথা উঁচু করে যখন নেত্রী বেরিয়ে আসলেন, মুহূর্তেই যেন পুরো সংসদ এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নিল! সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে গগনবিদারী আওয়াজ উঠল” জিয়া-খালেদা, জিয়া-খালেদা”।
ইচ্ছে ছিল মিছিলের শেষ পর্যন্ত থাকবো, কিন্তু না পারিনি, এতো মানুষের সঙ্গে শক্তির লড়াই নিজেকে কুলিয়ে উঠতে পারিনি! অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েছিলাম মাটিতে।
অসুস্থ হওয়ার পর সহযোদ্ধারা যখন আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল ঠিক তখন প্রিয় নেত্রী শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করে চলে গেলেন পিজি হাসপাতালের দিকে।
সেখানে অপেক্ষা করছে, এ যেন ক্ষুধার্ত হায়নার কবল থেকে জীবন রক্ষা পাওয়া প্রিয় সন্তানেরা! যে কিনা সেখানে লড়াই করছে পঙ্গুত্বের সাথে।
ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত অবৈধ মঈন-ফখরুদ্দীনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রের কারাগার থেকে ২০০৮ সালের এ দিনে আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছিলেন।
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে তার তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ ৩৭২ দিন কারাগারে আটকে রাখা হয়। সংসদ ভবন এলাকার একটি বাড়িকে সাব জেল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়।
শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য তার দুই ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে তাদের ওপর সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে তারা দেশনেত্রীকে সপরিবারে দেশত্যাগে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু সব ধরনের অন্যায় চাপকে উপেক্ষা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘এদেশ ছাড়া আমার আর কোথাও কোনো ঠিকানা নেই।’ পাশাপাশি দেশত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।
তার আপষহীনতায় এবং জনগণের চাপে পিছু হটেছিল সেই অবৈধ সরকার এবং ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
জনগণের নেত্রী জনগণের মাঝে ফিরে এসে বিদ্যমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং জনগণের অধিকারের প্রশ্নে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন আজও। সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আজও বন্দি করে রাখা হয়েছে তাকে।
আর এই সুযোগেই তারা দুর্নীতি অরাজগতা আর দুঃশাসনে দেশব্যাপী চালাচ্ছে নারকীয় তান্ডব। একই সঙ্গে চলছে গুপ্ত হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার রক্তশ্রোতে দেশে বইছে রক্তগঙ্গা। ….
তাইতো পুরো দেশ আজ মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে, অপেক্ষা করছে প্রিয় নেত্রীর জন্য। সাথে সাথে অপেক্ষার প্রহর গুনছি আমরাও……।
লিখাটি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর জেলার ৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জি: টিএস আইয়ুবের ফেসবুক থেকে নেওয়া।
নতুন সময়/ টিআই