ইতালিতে ২৫ হাজার ছাড়াল করোনায় মৃত্যু
আন্তর্জাতিক: দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। মহামারী এই ভাইরাসে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। ইউরোপে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ইতালির। দেশটিতে পরিস্থিতি দিনদিন আরও অবনতি হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৫৪৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৪৬৪ জন।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালির অবস্থান তিন নম্বরে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৪৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫৭ হাজার ৫৭৬ জন।
এছাড়া ইতালিতে বর্তমানে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৪৮ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ২ হাজার ২৬৭ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।
ইতালিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা লোম্বার্দি অঞ্চলে। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৯৪০ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজার ১৬৫ জন।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার কিছুটা কমে আসায় আগামী ৪ মে থেকে ইতালিতে লকডাউন শিথিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্তে। তবে একবারে পুরোপুরি না তুলে পরিকল্পনামাফিক ধীরে ধীরে তুলে নেয়া হবে এসব নিষেধাজ্ঞা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি যদি বলতে পারতাম, সব খুলে দেয়া হোক। কাল সকাল থেকেই আমরা শুরু করব। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত হবে দায়িত্বহীন। এতে সংক্রমণের হার অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়বে এবং এ পর্যন্ত আমরা যত চেষ্টা করেছি সব বৃথা হয়ে যাবে। আমাদের অবশ্যই জাতীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে উপযুক্ত গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে। কিছু সংখ্যক লোককে খুশি করার জন্য নয়, উৎপাদক, কোনও প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের বিশেষ অনুরোধেও নয়।’
কন্তে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণও বাড়বে। আমাদের অবশ্যই এটিকে সর্বনিম্ন ও সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এর জন্য প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো বটেই, পিক আওয়ারে গণপরিবহনের ভিড়ের বিষয়টি বিবেচনা করে পরিকল্পনা করতে হবে।’
করোনা সংক্রমণের কারণে গত ৯ মার্চ থেকে লকডাউন চলছে ইতালিতে। দেশটিতে বন্ধ রয়েছে অনাবশ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, চলাচলে রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। কেবলমাত্র জরুরি নিত্যপণ্য কিনতে বাইরে যেতে পারছেন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে গত ডিসেম্বরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এরপর চার মাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৬১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ লাখ ২৬ হাজার ৭৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ হাজার ৪৩৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৯২ জন।
বর্তমানে বিশ্বে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৯২ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৫ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৫৮ হাজার ৭২৭ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।
ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭০৯, মারা গেছে ৫০ হাজার ২৪৩ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।
এছাড়া স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ১৩ হাজার ২০৪, মারা গেছে ২২ হাজার ১৫৭ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৩, মারা গেছে ২৫ হাজার ৫৪৯ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৮৩, মারা গেছে ২১ হাজার ৮৫৬ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ১২৯, মারা গেছে ৫ হাজার ৫৭৫ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮, মারা গেছে ১৮ হাজার ৭৩৮ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ১ হাজার ৭৯০, মারা গেছে ২ হাজার ৪৯১ জন। ইরানে আক্রান্ত ৮৭ হাজার ২৬, মারা গেছে ৫ হাজার ৪৮১ জন। চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৮০৪, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩২ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৫০ হাজার ৩৬, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩১ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৭৯৭, মারা গেছে ৬ হাজার ৪৯০ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৪২ হাজার ১১০, মারা গেছে ২ হাজার ১৪৭ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৭২৯, মারা গেছে ৪ হাজার ১ ৭৭ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৮ হাজার ৪৯৬, মারা গেছে ১ হাজার ৫৪৯ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ১৬ হাজার ৭৫৫, মারা গেছে ২ হাজার ২১ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ১১ হাজার ৬৩৩, মারা গেছে ১ হাজার ৬৯ জন।
ভারতে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৫০২, মারা গেছে ৭২২ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ১১ হাজার ১৫৫, মারা গেছে ২৩৭ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৪ হাজার ১৮৬, মারা গেছে ১২৭ জন।
এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, এর কারণে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিও কাজ না করতে পারে তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।