কেরানীগঞ্জে কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনায় ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে খেটে খাওয়া শ্রমিকের লম্বা ছুটি ঢাকা ছেড়েছে অনেক মানুষ। কেরানীগঞ্জ লকডাউন থাকায় প্রাণের ভয়ে শ্রমিকেরাও গৃহবন্দী। শ্রমিক সংকটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে কৃষকের পাশে দাড়ানোর। ধান কেটে পাকা ধান উঠিয়ে দেশের মানুষের খাদ্য সংকটময় করার আহবান জানান তার নিজের গঠন করা সংগঠন ছাত্রলীগকে ।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ক’দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলতি মৌসুমের আগাম ইরি-বোরো ধান কাটায় সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন প্রাচীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুধু ধান কাটাই নয়, ধান মাড়াই থেকে শুরু করে কৃষকদের ঘরে পর্যন্ত ধান পৌঁছে দিবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক।
আজ ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড়ের নতুন বাক্তারচর গ্রামের
মৃত কৃষক রুহুল আমিনের স্ত্রী নাজমা বেগমের ৪ বিঘা জমির পাকা ধান সেচ্ছাশ্রমে কেটে ঘরে তোলার মধ্যে দিয়ে অনানুষ্ঠানিক ধান কাটার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ও কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এসময় ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক বলেন, দেশের যেকোন দুর্যোগ এবং ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। এবারও করোনা মোকাবিলায় অসহায় কর্মহীনদের এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের পাশে থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজ বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে কোন্ডা ইউনিয়নে ৪ বিঘা ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে পৌছে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসময় দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আসাদুজ্জান রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা জসিম নিরব, আল আমিন, দুলাল মন্ডল, মিলন, মাহাবুব, অমিত হাসান সহ অর্ধ শতাধিক কোন্ডা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মিরা অংশগ্রহণ করে।
অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ নেতা রাসেল বলেন, ‘সারাদেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপদগ্রস্ত। এই সংক্রমণ প্রতিরোধে চলছে লকডাউন। এতে শ্রমিক সংকটে কৃষকরা জমির পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের ধান কেটে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা ঢাকা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ধান কাটায় এগিয়ে এসেছি। যে কৃষক আমাদের ধান কেটে দিতে বলবে আমরা তার জমিতে গিয়ে ধান কেটে দিয়ে আসবো।’
এব্যাপারে কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরীর বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় অসহায় কৃষকরা লোকবল না থাকায় বিপাকে পড়েছিলো।
এমন মহৎ কাজকে তিনি প্রসংশা করে বলন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ তায়া’লা আরো হায়াত দারাজ করুন তিনি এ মহামারী খাদ্য সংকটময় করতে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কৃষক রুহুল আমিনের স্ত্রী মোসাঃ নাজমা বেগম বলেন,আমার ভাবতে অবাক লাগে এক একটা ছেলে দেখলে মনে হয় জীবনে কোন দিন মাঠ কাজ করেনি। শিক্ষিত বাবারা আমার ধান কেটে মাথায় নিয়ে যাচ্ছে। সুখের অশ্রুতে দুচোখে জ্বল পড়ছে তার। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, হে মহান আল্লাহ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আরো বাচিয়ে রাখো আমাদের কৃষকের জন্য।
নতুন সময়/টিআই