পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে ত্যাগী ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের অনশন!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সংগঠনটির ত্যাগী পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। এতে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন তারা।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা।
অনশনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুতাছিম বিল্লাহ আজ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসময় তারা জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা না হলে ওই দিনই বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন পদপ্রত্যাশীরা।
আন্দোলনরতদের তথ্য মতে , দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর তিনমাস পর ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর ছাত্রদলের ৬০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
আন্দোলনরতরা বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এই দাবিতে গত ২১ জানুয়ারি ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। এতে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে ত্যাগী ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের অনশন!
জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে পদপ্রত্যাশীদের স্মারকলিপি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে এরপর ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবকের সঙ্গে ভার্চুয়ালি আলোচনা করেন সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা। সেখানে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কিন্তু সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও মহানগর ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। কারণ এসব ইউনিট কমিটি থেকে বিভিন্ন কারণে যারা বাদ পড়বেন, যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের অনেককে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে ওইসব কমিটি গঠনের প্রচেষ্টাও অনেকটা থমকে আছে। কবে এসব কমিটি চূড়ান্ত করা হবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। এতে নতুন করে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা যেকোনো সময় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অনশনে উপস্থিত ছিলেন- পদপ্রত্যাশী নেতা শেখ আল ফয়সাল, ঝলক মিয়া, মুতাছিম বিল্লাহ, ইবরাহিম খলিল ফিরোজ, শাহ আলম, জাকিউল ইসলাম শাহিন, সাইদ আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএম মুসা, ওয়াসিম খান মুক্ত, গাজী মোহাম্মদ হারুনুজ্জামান, রোকনুজ্জামান, শাহরিয়ার ইমন, সাজিদ হাসান, মহসীন ভূঁইয়া, শরিফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহাউদ্দীন সোহেল, আতাউর রহমান বুলেট, মহিউদ্দিন ইকবালসহ ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুলের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকর্মী।
নতুন সময়/টিআই