অসহায় ঢাকাবাসির কাছে ইশরাকই এখন মেয়র; নতুন উপাধি জনতার মেয়র
ঢাকা: করোনায় লকড ডাউনের কারণে নগরীর দিন মজুর এবং খেটেঁ খাওয়া অসহায় হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পাশে যেন অশীর্বাদ হয়ে দাড়িয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সিটি নির্বাচনের পর থেকেই ঢাকাবাসির জন্য নিরলসভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।এরইমধ্যে ঢাকার অসহায় বিপদগ্রস্থ যে কোন মানুষের কাছেই শান্তির নীড়ে পরিনত হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাকের গোপীবাগের বাসভবনটি।
দেশে করোনার আঘাতের শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নগরবাসির পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। সিটিগুলো লকড ডাউন করার সাথে সাথেই ঢাকার দুস্থ পরিবারগুলোর জন্য ঘোষণা করেছেন প্রজেক্ট ঢাকা এইড কর্মসূচি।
যার উদ্দেশ্য হলো নগরীর কমপক্ষে ১০ হাজার অসহায় পরিবারের পাশে দাড়ানো। গত ২৮ এপ্রিল সাদেক হোসেন খোকা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় এই কর্মসূচির। আরো বেশি মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য ঘোষণা দেওয়া হয় একটি তহবিল গঠনেরও। এরইমধ্যে ঢাকার ১০ হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ইশরাকের ঘোষিত ঢাকা এইডের ১০ হাজার খাবার সামগ্রীর প্যাকেট।
যদিও ১০ দিন ব্যাপী তহবিল গঠনের এ কর্মসূচি থেকে এসেছে মোট সাড়ে ৯ লাখ টাকা। যা দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ হাজার প্যাকেট আর ৮ হাজার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাকের নিজস্ব অর্থায়নে। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত অবধি নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছুটে চলছে ইশরাকের ত্রানভর্তি গাড়ি।এমনকী বৃষ্টিতে, রাতের আধারেও দুস্থদের বাসায় বাসায় পৌছে দেওয়া হয়েছে ইশরাকের খাবার সামগ্রী।
অসহায় মানুষগুলো বলছে, এখন তাদের জন্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনই তাদের মেয়র।অনেকেই আবার ইঞ্জিনিয়ার ইশরাককে নাম দিয়েছেন জনতার মেয়র। নগরবাসির মধ্যে ব্যাপক প্রশংশিত হয়েছে ইশরাকের প্রজেক্ট ঢাকা এইড” কর্মসূচিটি।
এরইমধ্যে শেষ হয়েছে তহবিল সংগ্রহের নির্ধারিত ১০ দিন।এখন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর কোন ডোনেশন গ্রহণ করা হচ্ছেনা বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ সংক্রান্ত ঘোষণায় এখনও যারা ডোনেট করতে আগ্রত প্রকাশ করছেন তাদের প্রতি পরবর্তী এমন মহতী উদ্যোগে পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা: ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১০ দিনে ফাউন্ডেশনের তহবিলে খাবার সামগ্রীসহ মোট ডোনেশন এসেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। আর শুধু টাকার পরিমাণ এসেছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৬শ ৭৫ টাকা।
সরাসরি ফাউন্ডেশনের বিকাশ একাউন্টে ডোনেট করেছেন মোট ৫৬ জন ব্যাক্তি।যা টাকার পরিমাণ হিসেবে দাড়িয়েছ ১ লাখ ৪ হাজার ১’শ ৭৫ টাকা।
আর বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং শুভকাংখিরা সরাসরি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের কাছে ডোনেশন পাঠিয়েছেন ৬লাখ ৭ হাজার ৫’শ টাকা। যারা সরাসরি ডোনেশন পাঠিয়েছেন তারা হলেন- ফাউন্ডেশনের শুভকাংখি মরহুম সাদেক হোসেন খোকার বন্ধু ৩ লাখ টাকা, ব্যবসায়ী আশরাফুল আমীন ১ লাখ টাকা, মরহুম সাদেক হোসেন খোকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছোট বোন নার্গিস বেগম ১ লাখ টাকা, আরেক ছোট বোন মানসুরা বেগম ৫০ হাজার টাকা, দুই ভাগ্নি ২৫ হাজার টাকা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সিনিয়র প্রেস ইউং মেম্বার শামসুদ্দীন চৌধুরীর দিদার ৫০ হাজার টাকা এবং মরহুম সাদেক হোসেন খোকার অন্যান্য আত্মীয় স্বজন মিলে সরাসরি ডোনেট করেছে ৪৬ হাজার ৫শ টাকা।
ফাউন্ডেশনের বিকাশ একাউন্টে যেসব ডোনেশন এসেছে এর মধ্যে সর্ব নিম্ন ডোনেশন এসেছে ১০ বছরের এক বাচ্চার দেওয়া ১০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ডোনেশন এসেছে ডেকো লিগাসি গ্রুপের পক্ষ থেকে বিকাশ খরচসহ ৫১ হাজার টাকা।এছাড়াও “প্রজেক্ট ঢাকা এইড ” কর্মসূচির ৫ম দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পরাণ চৌধুরী এবং সামী মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ৫০ বস্তা (আড়াই টন ) চাল, ২০ বস্তা (১ টন) ছোলা এবং ১৭ বস্তা ( ৪২৫ কেজি) পেয়াজ দান করেছেন।চকবাজার থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল সাদেক হোসেন খোকা ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে চকবাজার এলাকার দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন ৫’শ প্যাকেট খাবার সামগ্রী।সেইসাথে ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল বিকাশ নম্বরে ফোন করে সর্বদা পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন অনেকেই।
তহবিল সংগ্রহ বিষয়ক- প্রতিদিনকার কার্যক্রম সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য-উপাত্য এবং হিসেব ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট www.shkfoundation.org এ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন সময়/টিআই