অবস্থান হারালেন সাকিব আল হাসান, শীর্ষে বহাল চিত্রনায়িকা পরীমণি
বিনোদন: বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান এবং সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির তারকা চিত্রনায়িকা পরীমণি―দু’জন দুই অঙ্গনের তারকা। ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তারা কাজ করলেও দু’জনই একটি…
নতুন সময় ডেস্ক : ক্রিকেট খেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ আম্পায়ার। বলা যায় সম্পূর্ণ খেলা তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। কাঠফাটা রোদ বা হাড় কাঁপানো শীত, সবসময় নীরবে সবুজ মাঠে কাজ করে যান তারা। ব্যাটসম্যান বোলার সবাই তার কথা মেনে চলতে বাধ্য। আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের গতিপথ!
সাধারণত তারকা খেলোয়াড়দের নিয়েই সবার আগ্রহ বেশি থাকে। তবে আম্পায়ারিংয়ের মাধ্যমেও অনেকে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে যান, পান তারকাখ্যাতি। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া পাঁচ আম্পায়ারের গল্প।
১. আলিম দার
বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের কাছে আলিম দার বেশ পরিচিত এক নাম। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করা এই আম্পায়ার দীর্ঘসময় ধরে আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে আছেন। আম্পায়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার মাত্র ছয় মাসের মাথায় এলিট প্যানেলে জায়গা পান তিনি।
২০০০ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে গুজরানওয়ালায় প্রথম আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলিম দার। এখন পর্যন্ত ১২৮টি টেস্ট, ২০৬টি ওয়ানডে এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এই পাকিস্তানি আম্পায়ার প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য ৩০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ২২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০০০ ডলার করে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। গড়ে প্রতি বছর ৪৫,০০০ ডলার উপার্জন করেন আলিম দার।
২. বিলি বাউডেন
আম্পায়ার হিসেবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেশ ওপরের দিকে থাকবেন নিউজিল্যান্ডের বিলি বাউডেন। মূলত একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হবেন, তবে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে তার আঙুল বেঁকে যায়। ফলে বিলির ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে ক্রিকেটার না হতে পারলেও আম্পায়ার হিসেবে ঠিকই দারুণ এক ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি।
১৯৯৫ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেব বিলি। ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করার আগে ৮৪টি টেস্ট, ২০০টি ওয়ানডে এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চার বা ছক্কার পর বিলি বাউডেনের বিশেষ ভঙ্গির সংকেত প্রদান সারাবিশ্বেই ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।
নিউজিল্যান্ডের এই আম্পায়ার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়ার দিক থেকে আলিম দারের সঙ্গেই আছেন। প্রতিটি ম্যাচে আলিম দারের মতো সমান পারিশ্রমিক নিয়েছেন তিনি।
৩. নাইজেল লং
ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন নাইজেল লং। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০০৫ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লং।
গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মোট ৬২টি টেস্ট, ১৩০টি ওয়ানডে এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন নাইজেল লং। আইসিসির র্যাং কিংয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া আম্পায়ারদের মাঝে তিনি তৃতীয়। অবশ্য পারিশ্রমিক হিসেবে উপরোক্ত দুই আম্পায়ারদের সমান অর্থ পেয়ে থাকেন তিনি।
৪. পল রেইফেল
অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার পল রেইফেল জাতীয় দলের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯২ সালে অজিদের হয়ে তার অভিষেক হয়। ক্রিকেটার হিসেবে ১২৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে ১৪৫৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২১০ উইকেট শিকার করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
২০০৪-০৫ মৌসুমে মেলবোর্ন গ্রেড ক্রিকেটে আম্পায়ারিং শুরু করেন রেইফেল। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে তার অভিষেক হয়। এখন পর্যন্ত ৪৩টি টেস্ট, ৬৮টি ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন পল রেইফেল।
প্রতিটি টেস্ট ম্যাচে ৩০০০ ডলার, ওয়ানডে ম্যাচে ২২০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০০০ ডলার করে পান রেইফেল। এই অজি আম্পায়ারও বছরে গড়ে ৪৫,০০০ ডলার আয় করেন।
৫. ব্রুস অক্সেনফোর্ড
অস্ট্রেলিয়ার আরেক বিখ্যাত আম্পায়ার ব্রুস অক্সেনফোর্ড। তিনি জাতীয় দলে না খেললেও দীর্ঘদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। আম্পায়ারদের প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামের প্রচারক হিসেবে বেশ পরিচিত ব্রুস। সদাহাস্য এই আম্পায়ার সারাবিশ্ব জুড়েই নানা সিরিজে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
২০০৬ সালে আম্পায়ার হিসেবে ব্রুস অক্সেনফোর্ডের অভিষেক হয়। এই ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৫৮টি টেস্ট, ৯৬টি ওয়ানডে এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১২ সালে আইসিসির এলিট প্যানেলে যোগ দেয়া অক্সেনফোর্ড প্রতি বছর গড়ে ৩৫,০০০ ডলার আয় করেন।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au