করোনার মহামারীতে থেমে নেই প্রকৌশলী জ্যোতি ঘোষ
রাজিব: করোনা প্রাদুর্ভাবে সবাই দিশেহারা। এর ওপর আবার এক নতুন আতঙ্ক বন্যা। চলছে বর্ষাকাল। এবার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নদীগুলো থেকে প্রবলবেগে আগত পানির চাপ বেশি থাকায় এবং অতি বর্ষণের ফলে দেশের উত্তরের প্রায় সকল নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ। বলতে দ্বিধা নেই, অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন প্রকৌশলী। কাজ পাগল প্রকৌশলী। কাজ বোঝেন, কাজ করেন এবং কাজ কে ভালোবাসেন। তিনি তার কর্মজীবনের শুরু থেকেই তার দায়িত্বরত সকল সাইট নিজে পরিদর্শন করতেন ঠিকাদারদের পরামর্শ দিতেন, এবং উৎকৃষ্ট মানের কাজ করিয়ে নিতেন এবং তিনি বরাবরই ছোট ঠিকাদারদের সুযোগ দিতেন কাজ করার। বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর আসনে অধিষ্ঠিত হবার পরও তিনি তার দায়িত্বরত ছোট বড় সকল সাইট নিজেই পরিদর্শন এবং তত্ত্বাবধান করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাকরি মানেই বন্যার সাথে যুদ্ধ। কিন্তু প্রকৌশলী জ্যোতি কেমন যেন এই যুদ্ধ জয়ের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়।
তিনি বলেন, বন্যায় বানভাসি মানুষের যে আর্তনাদ তোকে না দেখলে কি উপলব্ধি করতে পারবে না। তাই যখন নদীর আগ্রাসন থেকে বাঁধ গুলিকে রক্ষা করে গ্রামগুলিকে গ্রামের মানুষ গুলিকে স্বস্তি দিতে পারি সেই সুখ যেন স্বর্গের।
১৫ জুলাই মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদসহ গাইবান্ধার নদীর বিভিন্ন ভাঙ্গন প্রবন এলাকা পরিদর্শন করছিলেন হঠাৎ তার কাছে খবর এলো গাইবান্ধার ফুলছুরী উপজেলায় কন্চিপাড়া ইউনিয়ন বিআরই বাঁধে ভাংগন দেখা দিয়েছে। তিনি সেই সময়ই রওনা হলেন সেই সাইটের উদ্দেশ্য। দুপুরের আহার এবং বিশ্রাম যেন ভুলেই গেলেন। বাঁধের Top Width ২০ ফুটের মধ্যে ৪/৫ ফুট অবশিষ্ট আছে। বাকি টুকু ভেংগে গেছে। লোকজনের চোখে মুখে আতংক। তিনি যেন গিয়েই কাজে নেমে পরলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবশেষে সন্ধ্যা নাগাদ ভাংগন ঠেকালেন। এদিকে যে গোটা দিন না খাওয়া, তার কিছুই মনে ছিল না তার।
এরকম অনেক মানুষ নীরবে নিভৃতে কাজ করে চলছেন। রাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদেরকে স্বস্তিতে রাখতে দেশকে রক্ষা করতে প্রতিনিয়তই কাজ করে চলছেন নিরবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অবিরাম।
নতুন সময়/টিআই