প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয় : রাজশাহীতে করোনার কারণে দ্রব্যমূলহারে নাজেহাল মানুষ। তার উপর এবার রাজশাহীর ওয়াসার পানির দাম তিনগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পানির দাম বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষ বলছে তাদের উপর ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ সৃষ্টি করা হলো। ইতোমধ্যে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ওয়াসা থেকে জানানো হয়েছিল। দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের পর সাধারণ মানুষ এটাকে প্রত্যাখান করে আন্দোলনে নামে। একই সাথে ওয়াসার সামনে পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াসা কর্তৃপক্ষের মতামতই বলবাদ থাকলো।
যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে নতুন নির্ধারত দাম অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় এক লিটার পানি পেতে হলে গুনতে হবে ৬টাকা ৮১পয়সা, বাণিজ্যিকে ১৩ টাকা ৬২ পায়সা, যা আগে ছিল ২টাকা ২৭ পয়সা ও ৪ টাকা ৪৫ পয়সা। তিনগুন পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোস দেখা দিয়েছে। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, পানির দাম বাড়ানোর পরও এটি দেশের অনেক শহরের চেয়ে অনেক কম। তবে এই দাম পুণবিবেচনা করা দরকার বলেও মনে করছেন নগরীর সচেতন মানুষ।
রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, পানির দাম তিন গুণ বাড়ানো হলেও তা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম। বর্তমানে এক হাজার লিটার পানি উৎপাদনে তাদের খরচ হয় ৮ টাকা ৯০ পয়সা। আর তিনগুণ বাড়ানোর পরও আবাসিক এলাকার গ্রাহক পর্যায়ে পরিশোধ করতে হবে ৬ টাকা ৮১ পয়সা। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সমপরিমাণ পানির জন্য দিতে হবে ১৩ টাকা ৬২ পয়সা। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এই দাম বেশি নয়। এর আগে রাজশাহীতে আবাসিক সংযোগে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ধরা হতো ২ টাকা ২৭ পয়সা। এছাড়া বাণিজ্যিকে ছিল ৪ টাকা ৫৪ পয়সা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাইপের ব্যাস ও ভবনের তলার ভিত্তিতেও নতুন মূল্য নির্ধারণের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংক্রম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ওয়াসার পানি সব সময় ঠিকমতো পাওয়া যায় না। ফলে এই করোনাকালিন পরিস্থিতিতে পানির দাম না বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। নগরীর উপশহর বসবাসকারি আজমাল হোসেন বলেন, দুই টাকার যায়গায় তিন টাকা হতে পারে কিন্তু ছয় টাকা হয় কি করে। আমাদের তো আয় বাড়েনি। তবে পানির দাম এতো বাড়বে কেন? এটা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকীর হোসেন বলেন, ওয়াসার পরিধি দিন দিন বাড়ছে। সাথে খরচ ও বেড়েছে।
এছাড়াও বেড়েছে জীবন জীবিকার মান। ফলে পানির দাম বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর পানির দাম বাড়ানোর পরও এটি দেশের অনেক শহরের চেয়ে কম। সবশেষ ২০১৪ সালে ওয়াসা এক দফা পানির দাম বাড়িয়েছিল। প্রায় আট বছর পর সেটি বাড়ানো হল। তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখাকে আলাদা করে ২০১০ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় রাজশাহী ওয়াসা। বর্তমানে ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। নগরীতে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার।
তবে ওয়াসা ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ পানি নগরীতে সরবরাহ করা হয়। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে ওয়াসার পানির কোনো মান নেই এমন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সময় মত পানি পাওয়া যায় না এই অভিযোগ অতি পরিচিত। তার উপর দাম বাড়ার পর পানির সরবরাহ কতটা নিশ্চিত হবে তা নিয়ে প্রশান দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ওয়াসার পানিতে রয়েছে বিষাক্ত ব্যাক্টেরিয়া। যা পাণের একেবারে অনুপযোগি। এসব বিষয় না দেখেই ওয়াসা মনগড়াভাবে পানির দাম বাড়িয়েছে বলেও মনে করছেন নগরবাসী।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au