বাজে ফর্মের কারণে শুধু সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়কত্বই হারাননি, একাদশ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে। আর এক মাস পার করতেই এই অসি তারকা দেখালেন, এখনো ফুরিয়ে যাননি তিনি। আইপিএল ভেন্যুতেই বিশ্বকাপ মঞ্চে বিশ্বকে দেখিয়ে দিলেন নিজের পারফরম্যান্স। ফর্মহীনতার জন্য যেখানে একাদশে ঠাঁই পাওয়াটাই ছিল অবাক বিষয়, সেখানে হলেন টুনামেন্ট সেরা। আর অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক নাকি আগে থেকেই জানতেন, ওয়ার্নার বিশ্বকাপে দারুণ খেলে সেরা হবেন।
কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে নাকি আগেই এ কথা জানিয়েছিলেন ফিঞ্চ। ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, ‘আপনারা কেউই নিশ্চয়ই আশা করেননি যে ওয়ার্নার টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হবে? আমি কিন্তু জানতাম ও-ই হবে টুর্নামেন্টসেরা। বিশ্বাস করুন, আমি সত্যি বলছি। কয়েক মাস আগে আমি জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে কল দিয়ে বলেছিলাম যে “ডেভিকে নিয়ে চিন্তা করো না, সে এই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হবে।”’
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ খেলে ৪৮.১৬ গড়ে ২৮৯ রান করেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৭০। এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেনের বিশ্বকাপে গড়া একটি রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ওয়ার্নার। ২০০৭ বিশ্বকাপে ২৬৫ রান করে এক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অসিদের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন হেইডেন। এবার এই রেকর্ডের মালিক ওয়ার্নার।
অন্যদিকে বাবরের সঙ্গে অন্যায় করেছে আইসিসি উক্তি শোয়েব আখতারের
এবারের বিশ্বকাপ আসরে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন অসি তারকা ডেভিড ওয়ার্নার। এতে অনেকটাই মনক্ষুণ্ন পাকিস্তান দলের সমর্থকরা। কারণ ৬ ইনিংসে ৪ হাফসেঞ্চুরিসহ ৬০.৬০ গড়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের সংগ্রহ ৩০৩ রান। আর ডেভিড ওয়ার্নার ৭ ইনিংসে করেছেন ২৮৯ রান। তার গড় মাত্র ৪৮.১৬। এ পরিসংখ্যান সামনে রেখে ওয়ার্নারের পুরস্কারকে আইসিসির পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন পাক সমর্থকরা। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা সমালোচনামুখর। আর সেই সমালোচনায় যোগ দিলেন পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতারও।

তার মতে, বাবর আজমের সঙ্গে অন্যায় করেছে আইসিসি। এবারের বিশ্বকাপ সেরা বাবর আজমই। ওয়ার্নারকে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট দেওয়ায় টুইটারে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শোয়েব। লেখেন— ‘বাবর আজমের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কোনো সন্দেহ নেই, অন্যায় সিদ্ধান্ত (ওয়ার্নারের সেরা হওয়া)।’ শোয়েবের এমন অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, দল ফাইনালে উঠতে পারেনি সেখান থেকে সিরিজ সেরা কীভাবে বেছে নেওয়া যায়!

সেই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে না উঠেও টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার নজির আছে। ২০১২ বিশ্বকাপে শেন ওয়াটসন ও ২০১৬ সালে বিরাট কোহলির এ কীর্তি আছে। ২০১২ বিশ্বকাপে ১৫০ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ রান ছিল ওয়াটসনের। বোলিংয়েও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ওয়াটসন। তার দল ফাইনালে না উঠলেও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হন তিনি।