জিল্লুর রহমান জয় : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বে-সরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে দালাল চক্রের ১৫ সদস্যকে আটক করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুসের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, রাজশাহীর তানোর থানার তেলুপাড়া ঝুমারপাড়া গ্রামের মৃত ফাইজুদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল খালেক গত ৬ নভেম্বর সকাল ১০ টায় শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যাথা ও জ্বরে আক্রান্ত মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তার মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করেন।
আব্দুল খালেক তার স্ত্রী ও মেয়েকে সাথে নিয়ে বহিঃবিভাগে গিয়ে শ্লিপ জমা দেয়। সেখানে কয়েকজন দালাল জানান, তার মেয়েকে অনেকগুলো পরীক্ষা করাতে হবে। তারপর বহিঃবিভাগ হতে তাকে নিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার মেয়ের রক্ত পরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে করে। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের চিকিৎসার শ্লিপে চিকিৎসক কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন নাই।
তারপরও দালালচক্রের সদস্যরা পরীক্ষার নামে আব্দুল খালেকের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং রিপোর্ট প্রদানের জন্য আরো ২ হাজার টাকা দাবি করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে খালেকের স্ত্রী ও মেয়েকে অপহরণ করে গুম করাসহ ভয়ভীতি দেখায়। পরে দালাল চক্রের হাতে-পায়ে ধরে কোন মতে রিপোর্ট না নিয়ে সেখান থেকে তার মেয়েকে নিয়ে ফিরে যান।
আব্দুল খালেক তার মেয়ের চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মহানগর ডিবি অফিসে গিয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার এ অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।
আটককৃতরা হলো, শাহজাহান আলী (২৮), খাতিজা তিশা (২৫), আব্দুল হান্নান (৫০), শামসুজ্জোহা ভুট্টু (৪৫), জিম (২০), সুমন (২৫), হাদিউল ইসলাম (৩৫), নাইম হোসেন (৩২), প্রিয়া (৩৫), তাহমিনা বেগম (৩৭), আসমা (৪৫), রিতা (৩২), মুকুল হোসেন (৪০), সোহানুর রহমান (২৫) ও পলাশ (৫০)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।