“না পারছে সরকারি দল, না পারছে বিরোধী দল। আর জাতীয় পার্টিতো প্রশ্নই আসে না। জাতীয় পার্টি শুধু ঢাকায় বসে বসে ফেসবুকে বিবৃতি দেয়।‘‘ বিদিশা এরশাদ বলেন, এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক নয়। স্বাধীনতার পর যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, সবই রাজনৈতিক কারণে। “রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যালঘুদেরকে ফুটবলের মতো ব্যবহার করছে। তাদের শুধু ভোটের সময় ব্যবহার করা হয়।”
কেবল এরশাদের শাসনামলে এদেশে ‘হিন্দুরা ভালো কিছু পেয়েছে’ বলে দাবি করে প্রয়াত এই সামরিক শাসকের স্ত্রী বলেন, “১৯৮৯ সালে দেশে প্রথম জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। তিনি (এরশাদ) জন্মাষ্টমীর দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। করেছিলেন হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট। মন্দির নির্মাণ-সংস্কারে পল্লীবন্ধুর সহায়তা ছিল।” অথচ ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূল নীতি ধরে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর তার উল্টোদিকে যাত্রা শুরু হয় এবং সেই যাত্রার সফল সমাপ্তি হয় সামরিক শাসক এরশাদের হাত ধরেই।
তিনিই ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন; সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী এনে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেন। এরপর সংবিধান অনেকবার সংশোধন হলেও রাষ্ট্রধর্মের বিধানটি রয়েই গেছে। বিদিশা এরশাদ শনিবার সকালে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে নিজের সংহতিও সভা থেকে জানান। পুলিশ প্রশাসন ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় সাম্প্রদায়িক হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি পুর্নগঠন প্রক্রিয়ার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ।
দুপুরে নগরীর লেডিস ক্লাবে ‘জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া-চট্টগ্রাম‘ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা। জাতীয় পার্টি পুর্নগঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক আসিফ আহমেদ মৃধার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ, নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট সমন্বয়ক সোয়েব আহমেদ, শিকদার আনিস, কাজী রুবাইয়াত হাসান, ওয়াদুদ দিদার ও শাহজাহান সিরাজ বক্তব্য দেন।