মাহবুব আলম: পুলিশ, র্যাব, সিআইডি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আসা বিভিন্ন অভিযোগ বলছে, ই-কমার্সের নামে গ্রাহকের পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে আনন্দের বাজার, কিউকমসহ এক ডজন প্রতিষ্ঠান। এদিকে, ডেসটিনির উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহজে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গ্রাহকের সাড়ে তিনশো কোটি টাকা নিয়ে পণ্য দেয়নি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আনন্দের বাজার ডটকম। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যান কোম্পানিটির এমডি খন্দকার মিঠু। গত এক মাসে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকমসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার করা হয়েছে এসব কোম্পানির মালিক ও কর্মকর্তাদের।
সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গ্রাহকের কী পরিমাণ অর্থ আটকে আছে তার সরকারি তথ্য পাওয়া না গেলেও পুলিশ, র্যাব, সিআইডি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আসা বিভিন্ন অভিযোগ বলছে, ১২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ গ্রাহকের কেনা পণ্য দিচ্ছে না আবার টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না।
এর মধ্যে ই-অরেঞ্জ গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ধামাকা শপিং ৮০৩ কোটি টাকা, ইভ্যালি ১ হাজার কোটি টাকা, আনন্দের বাজার ৩শ ৫০ কোটি টাকা, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ২শ ৬৮ কোটি টাকা এবং কিউকম ২শ ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া, সিরাজগঞ্জ শপ, নিরাপদ ডটকমসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকের পাওনা আরো প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। সব মিলে ১২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকের পাওনা দাঁড়ায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এসব অর্থ সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে ফেরত পাওয়া একটু কঠিনই মনে করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব এর সভাপতি এবং দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ খুব সহজেই অর্থ ফেরত পাবে সেটা বলা যাচ্ছে না। যুবক বা ডেসটিনি থেকেও মানুষ টাকা ফেরত পায়নি।
তবে টাকা দেশে থাকলে ফেরত পাওয়া সম্ভব মনে করে ই-কমার্স এসোসিয়েশন। ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এর সভাপতি শমী কায়সার বলেন, এই অর্থগুলো পাওয়ার জন্য আমরা বাণিজ্যমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলছি। আমরা চাই মানুষ যেন তাদের পাওনা টাকা ফেরত পায়। এদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থ ফেরতের গ্যারান্টি আপাতত সরকার দিতে পারছে না।
নতুন সময়/মাহাবুব