এমএলএসের টুর্নামেন্ট সেরা মেসি, গড়েছেন শিরোপা জয়ের রেকর্ড
খেলা: ‘এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন।’ এর আগেও বহুবার এই বাক্যটা ব্যবহার হয়েছে বহু নামের সাথে। তবে মেসির মতো পেরেছেন ক’জন? যিনি শুধু জয় করেননি,…
সেতাউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী ব্রেকিং শহরে রেল বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার সময় বিভিন্ন কালারফুল ড্রিংকস তৈরি করার কারখানায় গিয়েছিলাম। একেবারে বাড়ির ভিতরে পারিবারিকভাবে প্যাকেটজাত হচ্ছে এসব ড্রিংকস আর চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলার আনাচে কানাচে সব জায়গায়৷
এগুলো একবার দোকানে চলে গেলে ধরবার উপায় নেই যে এগুলো আমাদের আশেপাশেই তৈরি হচ্ছে। কারন এগুলোর প্যাকেট অবিকল প্রাণের রোবো ড্রিংকস এর মতো। প্যাকেটের গায়ে উপাদান, পুষ্টি তথ্য, ও ঠিকানাও দেয়া আছে কিন্তু সবকিছুই ভুয়া।
এই ড্রিংকস মোড়ক রেডিমেইড কিনা হয়েছে। আর ঘনচিনি, সাইট্রিক এসিড, স্যাকারিন, সিএমসি, ফ্লেভার ও রঙ সবই মুদি দোকান থেকে কেনা। এই উপাদানের মধ্যে ঘনচিনি ব্যবহার ও আমদানি করা নিষিদ্ধ। সাইট্রিক এসিড এর ব্যবহার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোড মেনে ব্যবহার করতে হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে যার জন্য এক্সপার্ট লাগবে। অন্যান্য উপাদানের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রযোজ্য। টেক্সটাইল রঙ মিশিয়ে ফ্লেভার দিয়ে প্যাকেট করলেই হয়ে গেল সবার প্রিয় ড্রিংকস।
এসব ড্রিংকস পানে মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে। টেক্সটাইল কালারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় আমাদের লিভার, কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জার। এগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের বেলায় নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি, তরুণ-তরুণীদের কিছুটা দেরিতে। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষতি হয়, গর্ভস্থ ভ্রূণেরও। আজকাল আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিওর, হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানি ও বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।
সব বয়সী লোকজনই এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও বাচ্চারা। এসবের মূলে রয়েছে আমাদের খাদ্যে ব্যাপক হারে ভেজাল মেশানোর সমস্যা, যার মধ্যে টেক্সটাইল কালারের ব্যবহার অন্যতম।
এসব ড্রিংকস উৎপাদনকারীকে ৩,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সতর্ক করা হয়। এছাড়া এসব ড্রিংকস উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান বিক্রিকারী একটি দোকানকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই অবৈধ মালামাল আটক ও ধ্বংস করা হয়।
কি এবার সচেতন হবেন তো নয়তো বা মৃত্যুর মুখে ফেরেশতার মতো শিশুরা।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au