আগামী বছরের জন্য ৩৪০ কোটি টাকার বাজেট চায় সংসদ
ঢাকা: নতুন বছরের জন্য ৩৪০ কোটি টাকা বাজেট চায় জাতীয় সংসদ। আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আহুত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩১তম বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। বৈঠকে দায়িত্ব পালনের জন্য ইতোমধ্যে ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এর আগে নমুনা পরীর মাধ্যমে তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হবে। গত বছরের কমিশন বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সংসদের জন্য ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। যা আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি। সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেল মেরামত, সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিবদের গাড়ির রাবেণ ও নতুন গাড়ি ক্রয়সহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থ বছরের বাজেটও কিছুটা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, কমিশন বৈঠকের প্রধান কাজ বাজেট অনুমোদন করা। জাতীয় সংসদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সেখানে উত্থাপনের পর আলোচনা সাপেক্ষে তা অনুমোদন করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদ ও সংসদ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো প্রস্তাব আকারে ওই বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সেই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ বা বাতিল করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রস্তাব বিবেচনাধীনও রাখা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট অনুমোদন ছাড়া কমিশন বৈঠকে বিশেষ কোনো নতুন প্রস্তাব থাকছে না বলে তিনি জানান।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আহুত এই বৈঠক আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ অনুসরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সে জন্য সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত, পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে আগারগাঁওস্থ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়েছে। এর আগে সংসদ সচিবালয় থেকে উদ্যোগ নিয়ে তাদের করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। কমিশন বৈঠক শেষে একই স্থানে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকেও তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এবারের কমিশন বৈঠকে সংসদ সচিবালয়সহ সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। অবশ্য গত কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আর করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে মূল ভবন লকডাউনে আছে। এবারের বৈঠকেও বরাবরের মতো সংসদ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি জট নিয়েও আলোচনা ও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া ভিআইপিদের আপ্যায়ন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য সংসদ সচিবালয় কমিশন বৈঠকে বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এছাড়া কমিশন বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের নতুন পদ সৃষ্টি, প্রকল্প প্রণয়নসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কমিশনের চেয়ারম্যান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইন মন্ত্রী আনিসুল হক ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। সাধারণত বছরে একবার (বাজেট অধিবেশনের আগে) এই কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।