ঘটনা প্রবাহ

কালিয়ার ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা অনিয়ম দুর্ণীতির বরপুত্র! অপসারনের দাবিতে ইউনিয়নবাসীর লিখিত অভিযোগ

  • 1:30 pm - May 30, 2021

কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধিঃ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সেবা প্রার্থীরা ১৬ মার্চ ওই কর্মকর্তার দূর্ণীতির চিত্র তুলে ধরে নড়াইল জেলা প্রশাসাক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। পহরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসী ওই কর্মকর্তার অপসারন দাবি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার অনিয়ম, দুর্ণীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। তিনি প্রায় এক বছরের অধিককাল পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তা ভুমি অফিসে আসার পর ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়না। মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন বাহিরে আছি আপনি সন্ধার পর মিরাজের বাড়িতে আসেন।

সাক্ষাতের পর পূর্বের দাখিলা দেখালে তিনি তার কোন মুল্যায়ন না করে বলেন, এ দাখিলা সঠিক নিয়মে কাঁটা হয়নি এবং পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিভাবে দিয়েছে সেটা তার ব্যাপার। আমার কাছ থেকে নিতে হলে গোড়া থেকে খাজনা পরিশোধ করতে হবে বলে অতিরিক্ত টাকার হিসাব দেন এবং ওই টাকার আংশিক দাখিলায় তুলে বাকীটা নিজেই আত্মসাৎ করেন।

দাখিলায় কম টাকা উঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আপনাকে অল্পের ভিতরে হিসাব দিয়েছি, অতিরিক্ত টাকা অডিট খরচ বাবদ রাখছি। এছাড়া ভুমি দস্যুদের সাথে আতাৎ করে সরকারী জমির মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার নামে। জমির নামজারী করার নিয়ম জানতে গেলে ওই কর্মকর্তা ভূমি মালিকদের তার সাথে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন এবং বলেন আমার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নামজারী হবেনা। এভাবে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব চাপিয়ে দেন।

অবশেষে সেবা প্রার্থীরা জমি ঠিক করার জন্য ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীরা উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার যোগসাজসে সরকারী গাছ কেঁটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যা ৪০/৫০ হাজার টাকা দাবী করে এবং বিধবা মহিলাদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়। নারীলোভী, ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার এহেন কর্মকান্ডে ইউনিয়নবাসী সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিডিও ও অডিও রেকর্ড প্রমান স্বরুপ সংরক্ষিত আছে বলে তারা জানান। পাশাপশি তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইউনিয়নবাসী মন্তব্য করেন। পূর্বে ও ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী, বাগুডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা শিকদার (৭৫) বলেন, আমার ও শরিকদের নামীয় পর্চার ৭ শতক জমির দাখিলা কাটতে আমি দেড় মাস যাবৎ ঘুরতেছি। নায়েব সাহেব বলেছেন ২১শত টাকা লাগবে নতুবা হবেনা। অনেক অনুরোধ করে ৪৫০ টাকায় রাজি করিয়েছি তাও শুধু ঘুরাচ্ছে। অথচ আগের নায়েব এই জমির দাখিলায় ১৫০ টাকা নিয়েছিল। আমি বৃদ্ধ মানুষ এভাবে আসা যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়।

এই ঘটনা সাংবাদিকদের বলায় নায়েব আমাকে জালিয়াত বলেছে। কেন আমায় উনি জালিয়াত বললেন, এর যথাযথ প্রমান উনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি। আমি আমার এ অপমানের সুষ্ঠ বিচার চাই। সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে অনেক ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। চরসিংগাতী গ্রামের মুরসালিন, জানান, তিন/চার মাস আগে ৫০০ টাকা নিয়ে তাকে একটি ভুয়া দাখিলা দিয়েছেন, বল্লাহাটি গ্রামের মামুন মোল্যা, জানান, বাসায় বসে আমায় দাখিলা কেটে দিয়েছে ২৭০০ টাকা লেখা কিন্তু নিয়েছে ৫৫০০ টাকা, পাখিমারা গ্রামের ডাঃ বোরহান জানান, দাখিলায় লেখা ৩৬০০ টাকা কিন্তু নিয়েছে ৯৫০০ টাকা, এভাবে পহরডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমান, মেহেদী হাসান, ও লাভলু শেখ, সরসপুরের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম, বল্লাহাটির মুরাদ মোল্যা প্রমুখ অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীরা এর উপযুক্ত বিচারসহ ওই নায়েবের অপসারন দাবী করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা প্রথমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে তিনি আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা প্রশাসক জনাব মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ততাধীন আছে। তদন্তে দোষী প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই শাখার আরও খবর

এমএলএসের টুর্নামেন্ট সেরা মেসি, গড়েছেন শিরোপা জয়ের রেকর্ড

খেলা: ‘এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন।’ এর আগেও বহুবার এই বাক্যটা ব্যবহার হয়েছে বহু নামের সাথে। তবে মেসির মতো পেরেছেন ক’জন? যিনি শুধু জয় করেননি,…

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৯ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৯ জুন দেশে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালন করা…

কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

সেলিম আহমেদ,সিনিয়র রিপোর্টার: কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সভা ১৪ মে রোববার দুপুরে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয় দক্ষিণ বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সিনিয়র…

গোপালগঞ্জে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, নিহত ৪

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) সকাল…

তুষারধসে পর্বতারোহী নিহত ১০

ভারতের উত্তরাঞ্চলে হিমালয়ে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১০ পর্বতারোহী মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৮ জন। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকালে উত্তরাখণ্ডে হিমালয়ের একটি সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে ৪১…

নো আর ওয়াইড বলেই শেষ বাংলাদেশের আশা

খেলা: দুই দলের জন্যই মরন লড়াই। মৃত্যুকুপে দাঁড়িয়ে। জয় মানেই টিকে থাকা। হার মানেই রিটার্ন টিকেট নিয়ে বিমানে চড়ে দেশে ফিরে যাওয়া। এমন সমীকরণের ম্যাচে…

আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়!

নাটোরের গুরুদাসপুরের মামুন হোসেন(২২) এবং খাইরুন নাহার(৪৪)এর বিবাহ নিয়ে মিডিয়াতে বহু ভিডিও ভাইরাল…কিন্তু আজ খাইরুন নাহারের আত্মহত্যা নিয়ে লাফালাফি নেই কেন?? মিডিয়া কত সস্তা হয়ে…

শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা বললেন পুলিশ সুপার

নাটোরের গুরুদাসপুরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার ভোরে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ…

স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au