বিধি-নিষেধের মধ্যেও পুরনো রূপে ফিরছে রাজধানী!
ঢাকা: দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে চলমান বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। চলমান কঠোর এ বিধিনিষেধের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে শপিংমল ও দোকানপাট খোলায় রাজধানীতে বেড়েছে জনসমাগম।
বিধিনিষেধে শুধু গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়কে বেড়েই চলছে যানবাহনের চাপ।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা, নতুন বাজার, বিশ্বরোডের মোড়, বনানী, কুর্মিটোলা, মাটিকাটা, কালশী মোড়, মিরপুর ১৪, ১৩, ১২, ১১, ১০, ৭, ৬, ২ ও ১ নম্বর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কর্তব্যরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাদামাটাভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব এলাকায় তেমন কোনো যানবাহন গতিরোধ করতে দেখা যায়নি। ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে ‘লকডাউনের’ ১৩তম দিন। সকাল ৯টার দিকে রাজধানীতে অফিসগামী মানুষের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় কমে যায় মানুষ ও যানবাহন।
অফিসগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফাইজুল আহমেদ বলেন, ‘এ লকডাউনে গণপরিবহন বাদে রাস্তায় সবকিছুই চলাচল করছে। অফিস-আদালত, দোকানপাট ও শপিংমল খুলে গেছে। ঢাকা যেন আগের রূপে ফিরতে শুরু করেছে। বাড়ছে মানুষ ও যান্ত্রিক কোলাহল। ’
মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. কবির বলেন, সকাল থেকে ভালোই বিক্রি করেছি। মানুষ এখন ঘর থেকে যখন তখন কেনাকাটা করতে বের হয়। তবে আজ একটু গরম বেশি থাকায় দুপুরে ক্রেতা কম। ’
বনানীতে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. শুভ বলেন, ‘সকালে অফিস টাইমে রাস্তায় বের হলে বুঝার উপায় নেই দেশে ‘লকডাউন’ চলছে। অফিস শুরুর সময় আর ছুটির সময় রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এ সময় রাস্তায় চেক পোস্টগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সকালে আর বিকেলে রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন বেশি দেখা যায়। দুপুরের দিকে গরম থাকায় মানুষ কম বের হচ্ছে। রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা দেখে মনে হয় আগের রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী।
এর আগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার জনসমাগম এড়াতে প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে এ নিষেধাজ্ঞা আরও দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল।
এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের অফিস ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।