রাকিবুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি : বর্তমান সময়ে দেশ পরিচালনা সহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রতিনিধিত্ব করছেন নারীরা । তথ্য প্রযুক্তির সম্ভাবনার এ যুগে নারীর পথচলা আরো সুগম হয়েছে । পাশাপাশি ঘর-সংসার-বাচ্চা সামলেও অধিকাংশ নারী অনলাইন বিজনেস এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ।অনলাইন বিসনেস প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে দিনাজপুরে “Dinajpur girls club” নামক ১২হাজার সদস্য বিশিষ্ট ফেইসবুক গ্রুপ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে । দিনাজপুরের গার্লস ক্লাব, ফেইসবুক গ্রপে ১ম বর্ষে পদার্পণ। অথনৈতিক স্বাবলম্বীসহ নারী জাগরনেও তাদের আরো এগিয়ে নিতে গ্রুপটি কার্যকরী ভুমিকা পালন করছে বলে দাবী করছেন গ্রুপের পরিচালক ও সদস্যরা ।
গ্রুপ এর ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর শহরের ঘাসিপাড়ায় টেষ্ট ফুড রেষ্টুরেন্ট এ অনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এ্যাড. জাকিয়া তাবাস্সুম জুই এমপি ।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন রোজ গ্লামার ফ্যাশন হাউজ ও বিউটি পার্লার এর স্বত্তাধীকারী শাহানাজ বেগম রোজী ।
আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন “Dinajpur girls club”গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা এ্যাডমিন আফরিন মউ ও আফরোজ মাহমুদ বন্যা ।
গ্রুপ এর মডারেটর আসমা মুন,রেনেসা আলম,সিলভি মুন.তাসপিয়া রহমান,আনোয়ারা স্বপনা ।
এসময় গ্রুপের পরিচালক বৃন্দ বলেন প্রতিষ্ঠা লঘ্ন থেকেই আমাদের গ্রুপ এর মুল উদ্দেশ্য ছিল নারী জাগরনে ও তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটানো ।জানিনা আমরা কাঙ্খিত স্বপ্নে কতদুর এগোতে পেরেছি কিন্তুু গ্রুপ সদস্যবৃন্দের সময়ের সাথে পরিবর্তন দেখে আমরা অনেক খুশি ।আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন ভাবে তাদের প্রতিভা বিকষিত করছেন ।অনেকের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরতে শুরু করেছে । গ্রুপ থেকে ভবিষ্যতে দিনাজপুরের নারী ভালো কিছু করবে ও বিশ্বজুড়ে সুনাম বয়ে আনবে বলে দাবী করেন গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা এ্যাডমিনবৃন্দ ।
করোনাকালীন এ সময়ে দুস্থ নারীদের মানসিক ও আর্থিক সাপর্ট দিচ্ছেন গ্রুপের পরিচালকবৃন্দ। গ্রুপের ফান্ডকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৮০জন নারীদের পরিস্থিতির সাথে ভেঙ্গে পরতে দেননি তারা ।
গ্রুপের একজন সদস্য হাসিনা মাহমুব বলেন খুব অল্প সময় হল আমি এই গ্রুপ এ জয়েন্ট করেছি ।গ্রুপ এর পরিচালকদের দিকনির্দেশনা ও সদস্যবৃন্দের কার্যক্রম অনুসরন করে খুব অল্প বিনিয়োগ করে অনলাইনে বিভিন্ন হাতের কাজ করা দরজা জানালার কাপড়,কারুকার্জ সম্মিলিত নকশা করা পাপোছ,বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করি ।প্রথম প্রথম একটু বুষতে কষ্ট হলেও এই গ্রুপ থেকে আমার সর্বচ্চো প্রডাক্ট সেল হয়েছে ৪০হাজার টাকার ।বর্তমানে আমাকে অনুসরন করে আরো ৫জন নারী কাজ করছেন এবং তারাও নিজেদের মোটামুটি সাবলস্বী হতে পেরেছেন ।আরেকজন সদস্য সাকিরা সোহেলি বলেন আমি বর্তমানে বাইরের দেশের প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করছি এবং গ্রুপ এর মাধ্যমে ৬৫হাজার টাকার সেল করতে পেরেছি ।
প্রুপ এর আরেক সদস্য মনি রহমান বলেন ছাত্রজীবন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ।জীবনের প্লাটফর্মে নিজেকে দাড় করানোর ইচ্ছায় পথচলা তেমন মসৃন ছিলনা ।কলেজ লাইফ অতিবাহিত করতে করতে নিজের স্বপ্ন গুলোকেও এগুতে থাকি আমি ।কিন্তু হঠাত করোনার এ ছন্দপতনে আমি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি ।এরি মাঝে হঠাত এক আপুর মাধ্যমে আমি দিনাজপুর গার্লস গ্রুপ এ জয়েন হই ।বর্তমানে আমি এ গ্রুপের মাধ্যমে নিজের হাতে সুতো দিয়ে নকশা করা ওড়না,বুটিকস,থ্রি পিস নিয়ে কাজ শুরু করি এবং ব্যাপক সাড়া পাই ।বর্তমানে আমি জীবনলক্ষে পৌছানোর আশার আলো দেখতে পাচ্ছি ।