নতুন সময় ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন এবং নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সাথে ঢাকায় জিসিএ এর নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর,আগারগাঁও, ঢাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়টি জলবায়ু পরিবর্তন জনিত জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় কার্যকর অভিযোজন সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার, সিটি মেয়র, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সুশীল সমাজের সাথে কাজ করবে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১৯ অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ণ। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল গ্রুপ অব টুয়েন্টি (ভি২০) ফিনান্স মিনিস্টার্স এর সভাপতি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
জিসিএ বাংলাদেশ অফিস মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় অভিযোজনের ক্ষেত্রসমূহ শক্তিশালীকরণ এবং সমগ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিসমূহ দূর করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদারকরণে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালীন সময়ে এটি জলবায়ু ভিত্তিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা সিভিএফ এবং ভি২০ এর সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এটি ডেল্টা জোটের সচিবালয় হিসেবেও কাজ করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ অফিস সুনীল অর্থনীতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গীকৃত এ ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর প্রথম সারির একটি দেশ বাংলাদেশ”। তিনি আরো বলেন যে “শিশু, নারী, বয়স্ক মানুষ এবং বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না”। তিনি এই হুমকি মোকাবেলা এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নির্ধারিত অবদান(এনডিসি) সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব বান কি মুন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে একটি জনগোষ্ঠি কতটা উদ্ভাবনী হতে পারে বাংলাদেশ তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জিসিএ বাংলাদেশের মাধ্যমে তাঁদের মূল্যবান শিক্ষা গ্রহণ করে বাকি বিশ্ব নতুন জলবায়ু বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।”
নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে বলেন, “আমাদের দেশগুলো জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব সম্পর্কে খুব সচেতন। পাশাপাশি আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের উপযুক্ত ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে এখন অভিযোজন কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে হবে। এর জন্য টাকা খরচের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা স্বল্পমেয়াদী খরচের চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকর হবে।
গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক ভার্কুইজেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু সহিষ্ণুতা জোরদারকরণে অনেক উদ্ভাবনী সমাধান রয়েছে। এই অঞ্চলের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার জন্য তাদের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি প্রয়োজন। সমাধান হিসেবে জিসিএ এর ভূমিকার মাধ্যমে জিসিএ বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে সবচেয়ে কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য মন্ত্রীরাও এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিনোপ টেন্ডি দরজি; মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হোসেন রশীদ হাসান, নেপালের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহকারী মালিক আমিন আসলাম খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জিসিএ বোর্ডের সদস্য একে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন ও বক্তব্য রাখেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আঞ্চলিক গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন বাংলাদেশ (জিসিএ বাংলাদেশ) এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করে। প্রেস কনফারেন্স এ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি এবং পরিবেশ, বনও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমদ শামীম আল রাজীকে অফিসের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার বিষয়ে কাজ করতে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনের বেইজিং-এ আরেকটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। এটি এশিয়ার দ্বিতীয় আঞ্চলিক কার্যালয়।