ফারাক্কার ১০৯ গেট খুলল ভারত, বন্যাঝুঁকিতে বাংলাদেশের যেসব জেলা
ঢাকা: ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার (২৬ আগস্ট) গেট খুলে দেয়া হয়। এতে একদিনে বাংলাদেশে ঢুকবে…
শিল্পি, মুরারই, বীরভূম (তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী) : রাজনীতিকে ঘিরেই যেন তিনি রচনা করেছেন তার জীবনের রেখা চিত্র। যাত্রা সহজ নয়, বিঘ্নের কাঁটায় ভরা সেই পথ, তবুও দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয়ের নিষ্ঠা সাধনায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাজনীতিতে আলো ছড়িয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিনয়ের প্রতীক, বাঙালী বাবু তথা আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।
ভারতবর্ষের রাজনীতিতে প্রণব মুখার্জির কৃতিত্ব সর্বজনবিদিত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রণব মুখার্জি একজন প্রাজ্ঞ ও কীর্তিমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যুগান্তকারি অবদান রেখেছেন। তাঁর কূটননৈতিক দক্ষতায় রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রভূত সুনাম অর্জন করে।
তিনি স্বদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম পথিকৃত। প্রখর স্মৃতিশক্তিধর, স্বাধীনচেতা, স্পষ্টভাষী, অটুট মনোবল এবং ঈর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ছিলেন সবার নিকট অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
বীরভূমের অজপাড়া গাঁ থেকে রাষ্ট্রপতিভবন এই যাত্রা পথ নিশ্চয়ই তাঁর জন্য কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না। রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ ধরে শেখড় থেকে ক্ষমতার চূড়ায় পৌঁছেছেন। নিজের বাংলা উচ্চারণে বীরভূমের টান থাকায় এ নিয়ে তাকে মাঝে মধ্যে ব্যঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে। যা তিনি বিনয়ী সহজাত স্বভাবে হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি অগণিত মানুষের পেয়েছেন অফুরন্ত ভালোবাসা। প্রণব মুখার্জির মতো বিদগ্ধ রাজনীতিবিদের জন্মস্থানের একজন রাজনৈতিক কর্মী হতে পেরে ভীষণ গর্ব অনুভব করি।
গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির জ্যেষ্ঠ পুত্র অভিজিৎ মুখার্জি তাঁর পিতার প্রয়াত হওয়ার খবর টুইট করে জানান। সংবাদটা শোনার জন্য হয়তো মানসিক প্রস্তুতি ছিল তার পরিবারের ও ভারতসহ বাঙালি জনগোষ্ঠীর। কারণ তার মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত, দোসর হয়েছিল করোনাভাইরাস। তারপর থেকেই ছিলেন গভীর কোমায় ছিলেন তিনি। আর এই ধরনের অবস্থা থেকে সাধারণত মানুষ ফিরে আসে না। বরং ফিরে আসাটাই মিরাকেল। অবশ্য সেই মিরাকেলটা আর তার সাথে ঘটেনি।
অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় টুইট করে খবর দেয়া মাত্রই শোকাহত গোটা দেশ। নিস্তব্ধ তার জন্মভিটে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের কীর্ণাহার। শোকস্তব্ধ বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের বাঙালি সমাজ। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে- ভারতবর্ষের রাজনীতির এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মৃত্যুর পরে কিছু লোক তাকে বাঙালী বিদ্বেষী হিসেবে তুলে ধরবার চেষ্টা করছেন। আমি সেই সব দাদা দিদিদের উদ্দেশ্যে বলছি- আমি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, আমি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একজন আদর্শের সৈনিক, আমি অনুব্রত মন্ডলের একজন কর্মী। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হলো গুণীজনকে সম্মান দাও। আপনারা যারা প্রণব বাবুকে বাঙালী বিদ্বেষী তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন তারা স্রেফ বিকৃত মস্তিস্কের। ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু অসুস্থ মত সমাজের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার আগে শেষ তিন বছর অর্থাৎ ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লোকসভার নেতা ছিলেন। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও মোদিজীও প্রণব মুখার্জিকে সম্মান করতেন। নানা বিষয়ে তার উপদেশ নিতেন। এত কিছুর পরও শেকড়কে ভুলেননি কখনও। দিল্লির ক্ষমতার এত বছর বিচরণ করেও খাঁটি বাঙালিই থেকে গিয়েছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। সেই ধুতি-পাঞ্জাবিই ছিল প্রিয় পোশাক। পুজার সময়ে বীরভূমে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে পারিবারিক দুর্গোৎসবে তন্ত্রধারক হওয়াই ছিল তার জীবনের নিয়ম।
প্রণব মুখার্জি হচ্ছেন একমাত্র ভারতীয় বাঙালি যিনি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ছাপ রেখেছেন, রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। যেকোনো সংকটময় মুহূর্ত থেকে উত্তরণে তার তৎপরতায় বারবার ঋদ্ধ হয়েছে ভারতের রাজনীতি। শ্রমে, গুণে, নৈপুণ্যতা, দক্ষতা দিয়েই তিনি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অনন্য উচ্চতায় আসীন থাকলেও কংগ্রেসের কতিপয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সংর্কীর্ণতা এবং বাঙালী বিদ্বেষী হীন মানসিকতার কারণে প্রণব মুখার্জিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ভারতীয় রাজনীতিতে তার মতো শিক্ষিত, মার্জিত, সংস্কৃতিবান ও বিচক্ষণ রাজনীতিক খুব কম এসেছেন। যখন যে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, সব পদেই তিনি যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ঠিক যেমন করে সব দায়িত্ব দক্ষতার সাথে যত্নে সাথে সামলাচ্ছেন আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রণব মুখার্জীর বিচরণ, অবস্থান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। রাজনীতিতে তার অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়।
নতুনসময়২৪ডটকম/শিল্পী
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au