দুহাত-হারানো কামরুলের জীবন গল্প,সকলের সাহায্য সহানুভূতিতে বাঁচতে চান
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন যুদ্ধে হার না মানা কামরুল অসহায়ত্ব্য চরমে। ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের আইয়ুব আলী শেখের ছেলে মোহ কামরুল হাসান (৩৪)। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী ছিলেন। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই জীবন যাপন করছিলেন কামরুল।এরপর হঠাৎ ই ঘটে যায় নির্মম এক দূর্ঘটনা যা কামরুল কখনো কল্পনাও করেননি।
ইলেকট্রিক মিস্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি মাঝে মাধ্যেই ফরিদপুর বিদ্যুৎ অফিসের জন্য দিন-মজুর হিসেবে লাইনের কাজে যেতেন। একদিন কাজে গিয়ে ভয়াবহ দূর্ঘটনার শিকার হন কামরুল,১১ হাজার ভোল্টের মেন লাইনে কাজ করছিলেন কামরুল, হঠাৎ ই বিদ্যুৎ অফিস ওই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় এরপরই কামরুলের দুই হাত বিদ্যুৎতায়িত হয়ে পুড়ে যায়।তারপর চিকিৎসায় তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়।
সংসারে তার দুটি সন্তান। মেয়ে মোছাঃ জিনিয়াস আক্তার (৮) প্রতিবন্ধী ও ছেলে মোঃ জিহাদ শেখ (৪)।
কামরুলের বাবা পেশায় একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মেহনতি কৃষক,কামরুলের মা গৃহিনী, ছোট ভাই অনেক কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে গেলেও এখন তা প্রায় বন্ধের পথে। সঙ্গে রয়েছেন কামরুলের বৃদ্ধা দাদী যার চিকিৎসাও এখন অর্থের অভাবে বন্ধ।
৮ সদস্যের ভোরন পোষন সহ যাবতীয় খরচ চালাতেন কামরুল ও তার বাবা কিন্তু বর্তমানে কামরুলের বাবার পক্ষে একা সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।অপর দিকে কামরুল হাসান হাত-হীন জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।কোন ভাবেই যেন একটু সুখের দেখা পাচ্ছেন না।

দুহাত-হারানো কামরুলের জীবন গল্প,সকলের সাহায্য সহানুভূতিতে বাঁচতে চান
উল্লেখ্য, দূর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ অফিস থেকে তার চিকিৎসা সেবার ব্যয় ও দোকান করার জন্য কিছু নগদ অর্থ প্রদান করা হলে তা দিয়ে সে বাড়ির সামনে একটি ছোট্র দোকান করেছে। হাত না থাকায় পা দিয়ে অতি কষ্টে কাজ করে জীবন-যাপন করছেন।
কামরুলের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভারাক্রান্ত কন্ঠে প্রতিবেদককে বলেন,আমার বর্তমান জীবনটি অপ্রত্যাশিত যা আমি কখনোই চাইনি।
এ যাবৎ মানসিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার ভেতর দিয়েই চলছে আমার জীবন। আমার দুটি হাত নেই ইচ্ছে থাকলেও পারছিনা ভালো কোন কর্ম করতে বলেই দুচোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো কামরুলের। তিনি আরো বলেন,আমার কষ্টটা আমিই বুঝি সবাই তো আশ্বাস ও শান্তনা দেয় কেও সাহায্যের হাতটি বাড়ায় না। দেশে অনেক সামাজিক সহযোগী সংগঠন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে সহযোগীতার জন্য।
কামরুল বলেন,আগে গেরদা ইউনিয়নের মধ্যে ছিল আমার বাড়ি এখন বর্ধিত পৌরসভার মধ্যে পড়েছে, ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকেও কোন প্রকার সহযোগীতা পাইনি আমি।বর্তমানে মহামারী দুর্যোগে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ যা নুন আন্তে পান্তা ফুরাই।লোক মারফত নিজ নামের ফেসবুক আইডিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছি ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে।সর্বশেষ তিনি অর্থশালী ও বিত্তবানদের অনুরোধ করে বলেন,আমিও বাঁচতে চাই আপনাদের সাহায্যের হাতটিতেই হয়তো আমি আমার জীবনের নতুন একটি পথ খুঁজে পাব।
কামরুল হাসান তার ফেসবুক আইডির বায়োতে লিখে রেখেছেন সেই দিনটির কথা। লিখেছেন জীবনের শেষ কর্ম দিবস ১৫ আগষ্ট ২০১৮
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: কামরুল হাসান ০১৮৮৫৭২১৪৩৩ (বিকাশ ব্যক্তিগত)
নতুন সময়/ সাফিয়ান স্বাধীন