প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকার বি-ব্লক ৩৬ নাম্বার বাড়ির ভাড়াটিয়া মুয়াজ (৭) নামে মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাশের প্রভাবশালী বাড়ি মালিক মোসলেম খাঁন বিরুদ্ধে।
গত ২৮ জুন বিকালে মাদ্রাসা ছাত্র মুয়াজ পাশের বাড়ির খোলা ছাদে ঘুড়ি উড়াতে উঠলে বাড়ী মালিক মোসলেম খাঁন তাকে ধরে কিল, ঘুষি, লাথি, মারে এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশুটি। মারধরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
শিশুটির বাবা মারধরের ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে,মোসলেম খানের বড় ছেলে মোহাম্মদ সেলিম , তাহের মোল্লা, মোশারফ হোসেন ও হামিদ শিশুটির পরিবার কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ,মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
অসহায় ভুক্তভোগী মুয়াজ ও বাবা বিচারহীনতায় ভুগছেন। শিশুটির বাবা আলাউদ্দিন বিচার চাইলে মোসলেম খাঁন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী বাড়ি মালিককে সাথে নিয়ে শিশুটির বাবা কে ভয় ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
মুয়াজের বাবা আলাউদ্দিন জানান,গত শুক্রবার ২৮ জুন বিকেলে মাদ্রাসা ছাত্র মুয়াজ তার বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়াতে গেলে তিনি আমার বুকের ধনকে মেরে আহত করে। এতে মুয়াজ ৩দিন যাবত ঘরে ব্যথায় ও জ্বরে ভুগছেন। মোসলেম খাঁন কালীগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। এলাকার কিছু প্রভাবশালী এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ৭দিন মুয়াজের বাবাকে থানা যেতে দেননি বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে।তারা মুয়াজ এর পিতাকে প্রান নাশের হুমকিদেন অভিযুক্ত মোসলেম খানের লোকজন। বাধ্য হয়ে তিনি ৪ জুলাই রাতে মোসলেম খানের নামে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে মাদ্রাসার পড়ে । করোনার কারণে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় মুয়াজ বাড়িতেই থাকেন । সেই দিন মুয়াজ মোসলেম খাঁন এর বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়াতে উঠে। ছাদে উঠার কারনে এ আচারন করেন। আমি গরিব বলে এলাকায় বিচারকরা আমার পক্ষে রায়তো দূরের কথা উল্টো আমাকে হুমকিদেয় তাদের কাছে কোন বিচার পাইনি। আমার ছেলে এখন অসুস্থ্য। রোজগার না থাকায় আমি তাকে ভালো চিকিৎসা করাতে পারি নাই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, মডেল টাউন বি ব্লক এর ৩৫ নং বাড়ির মালিক ঘাতক মোসলেম খাঁন পূর্ব থেকেই বাজে স্বভাবের মানুষ। বিনা কারণেই ঝগড়া বিবাদ করে সাধারণ মানুষকে গালিগালাজ, কোন কারন ছাড়াই মারধর করে ।
মুয়াজের বাবা একজন গৃহশিক্ষক।সে টিউশনি করে সংসার চালান। মডেল টাউন এলাকার বি ব্লক এর হাজী লিটন সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি একজন ভালো ও ভদ্র মানুষ। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় এসে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।
শিশু মুয়াজ বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার কারণে আমি ঘুড়ি উড়াতে মোসলেম খাঁন এর বাড়ির ছাদে উঠেছি। তিনি প্রথমে আমার ছোট ভাইকে মারে এবং পরে আমাকে ওর চেয়ে বেশি মারে। এতে আমার পিঠে প্রচণ্ড ব্যাথা। নড়াচড়া করতে পারিনা। আমিও উনার শাস্তি চাই।
ঘাতক মোসলেম খাঁনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে, মারধরের ঘটনাটি সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,বাড়ির ছাদে উঠেছে তাই শিশুটিকে মেরেছি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মাইনুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন , এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au