প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
জিল্লুর রহমান জয় : বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম। গত দুই বছর ধরে পেঁয়াজ, লবইকাণ্ডে বিরক্ত সাধারণ মানুষ। সে বছর সব রেকর্ড ছাপিয়ে পেঁয়াজ ও লবন বিক্রি হয়। একের পর এক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে দেশব্যাপী হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায় ভোজ্যতেলের। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সয়াবিন ও খোলা তেলের দাম বেড়ে যায়। সর্বশেষ ৫ মে বোতলজাত সয়াবিন তেল ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ে যথাক্রমে ৩৮ ও ৪৪ টাকা লিটার প্রতি। এরপর থেকেই শুরু হয় অরাজকতা। অবৈধ মজুদদাররা বেশি দামে বিক্রির আমায় তেল মজুদ। রাজশাহীতে বেশ কয়েক স্থানে অভিযান চালিয়ে সেসব জব্দ করছে প্রশাসন।
সয়াবিন-সরিষার পর এবার ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম বেড়ে উঠেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। এর আগে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি। মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে উঠে ৪০ টাকা। তারপর দিন গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। ক্রেতারা বলছেন, এখনি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম থামাতে না পারলে এবারো মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারণে পেঁয়াজের দাম আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের পকেট কেটে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবে। অথচ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম সেভাবে বাড়েনি বলেই শোনা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দেশি নতুন পেঁয়াজ উঠার পর থেকে রাজশাহী মহানগরসহ আশেপাশের উপজেলায় ১৫ থেকে ১৮ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু হয়। কোথাও ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতেও দেশি ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এবার পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি ও বাজারে আমদানি বেশি থাকার প্রায় গত ২ মাস ধরে রাজশাহীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজ ১৫ থেকে ২০ কেজিতেই বিক্রি হয়।
প্রায় ১ থেকে দেড় মাস পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার পর পবিত্র মাহে রমজান মাস শুরু হলে সেই দেশি পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে শুরু করে। এ সময় বাজার ও পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে ফেরি অনেক বিক্রেতায় ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলে পেঁয়াজের দাম আরো ৫ টাকা বেড়ে কেজিতে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি শুরু হয়। ঈদের পরও ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়। তারমধ্যেই খবর আসে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। বন্ধের পরও ৩০ টাকা কেজিতেই বেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিলো।
গত ২ দিন আগে অর্থ্যাৎ বুধবার থেকে হঠাৎ করে রাজশাহীর বাজারে ৪০ কেজিতে পেঁয়াজ কিনতে হয় ক্রেতাদের। মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। শুক্রবার সেই পেঁয়াজের দাম আরো বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়। নগরের বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার পর্যাপ্ত পেঁয়াজ ছিল। তারপরও দামে কমতি ছিলনা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ৪০ টাকা এবং গতকাল শুক্রবার ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ ছিলনা।
হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্রেতারা বলছেন, এখনি পেঁয়াজের দামের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে এর দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে আরো বেড়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পেঁয়াজের দাম নজরদারি এবং ন্যায্য মূল্যে বিক্রির জন্য বাজার মনিটরিং করার দাবি জানিয়েছেন।
আ: রহিম নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট আমদানি রয়েছে তারপরও কেন দাম বাড়বে তা মাথায় আসছেনা। ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম এত বাড়ার কথা নয়। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বেশি নিতে না পারে সেজন্য এখনই নজর দেওয়া উচিত।
আরেক ক্রেতা জসিম বলেন, দেশে একের পর এক জিনিসপত্রের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোন জিনিসের কম তাতো জানা নেই। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে সবকিছুর উপর প্রভাব পড়েছে। এমনভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ খাবে কী? তাই সরকারের উচিত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা। যাতে কেউ অবৈধভাবে জিনিসপত্র মজুদ করে ক্রেতাদের জিম্মি করে বেশি দাম আদায় করতে না পারে। শুধু এই দুই ক্রেতাই নয় প্রায় ক্রেতা পেঁয়াজসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক হাসান মারুফ বলেন, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে তা শুনেছি। এখন আমরা তেল নিয়ে কাজ করছি। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের আমদানি রয়েছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছিনা। শীঘ্রই বাজার মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au