প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
মোঃ রুবেল মিয়া, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : করোনায় যখন সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত তখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যায় জনজীবনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অসহনীয় কষ্ট আর ভোগান্তি। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব মানুষের কষ্টের কোন শেষ নাই। অনাহারে আর খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন অনেকে।
একদিকে করোনার ভয়াভহ মহামারীতে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশী এবং অর্থনৈনিক ঘাটতিতে দেশ এখন অচলা অবস্থার সম্মুখীনে।
সেই বিপদ না কাটতেই আবার যুক্ত হয়েছে আরেক দূর্যোগ বন্যা। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া অসহায় মানুষ গুলোর আত্মচিৎকার সরজমিনে কাছে না গেলে কেউ বুজবে পারবে না।
করোনা ভাইরাসে কয়েক মাস আগেও যে শ্লোগান ছিল বাহির থেকে ঘরে অবস্থান কর আর এখন ঘর থেকে বাহিরে আসতে হচ্ছে জিবন বাঁচাতে। এখন ভয় করোনার নয় ভয় হচ্ছে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া। সাধারন মানুষ গুলো ধারনা করছে আলোচিত সেই (১৯৮৮ / ৯৮) বন্যার মত পানি হওয়ার সম্ভাবনা।
ভারতের আসাম থেকে বন্যার পানি বাংলাদেশের উত্তরা অঞ্চল দিয়ে প্রবেশে ওজানের পানি এবং কয়দিন যাবৎ অতি বৃষ্টির ফলে এই বন্যার পানির বৃদ্ধির কারণ।
গত ২৪ ঘন্টায় টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলায় সেই পানির প্রভাবে তলিয়ে গেছে শতাধিক বাড়ি ঘর, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি,মাছের খামার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ও কমিউনিটি ক্লিনিক চিকিৎসালয় ।
জন প্রতিনিধির সূত্রে, মির্জাপুর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ১১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ বিশাল জনগোষ্ঠী পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মির্জাপুর পৌর এলাকার ২নং/ ৪নং/৫নং ওয়ার্ডের প্রায় শতভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি। তারমধ্যে ২ নং ওয়ার্ডে গার্মেন্টস কর্মী সুলতানের বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং একই ওয়ার্ডে এশিয়া খ্যাত কুমুদিনী হাঁসপাতালের ভিতরেও এখন পানি ঢুকে গেছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি বলে জানা গেছে।সরজমিনে মির্জাপুর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকাসহ উল্লেখ্যযোগ্য হল মহেড়া, ভাদগ্রাম, লতিফপুর, বহুরিয়া, আনাইতারা, বানাইল, ভাওড়া, জামুর্কী, উয়ার্শী, তরফপুর ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পানিতে বাড়ি ঘর তলিয়ে যাওয়া আশ্রয়হীন হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

বসত ভিটা ছেড়ে বাঁচাতে পরিবার ও গরু ছাগল নিয়ে ব্রীজে উপরে অবস্থান!
তারমধ্যে গৃহপালিত পশু ও ধান নিয়ে বিপাকে পড়া কৃষকরা পানিতে ঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় কারনে ব্রিজের উপর ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন ফতেপুর ইউনিয়নের হাঁড়ভাঙ্গা গ্রামের সামাদ, রফিক, জহুরুদ্দদির ১৪ জন সদস্য সহ অনেক পরিবার।
দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে খাদ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চরম সংকটে। একই ইউনিয়নের বহনতলী গ্রামের বিমল সরকার বলেন, বরাবরের মতো এবারও বেশকিছু বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তারমধ্যে হিলড়া উত্তর পাড়ার প্রধান রাস্তা এখন নদী গর্ভে।
সকল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন,, পরিস্থিতি নিয়ত্রনে প্রথমে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যামুক্ত রয়েছে সেগুলোকে আমরা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করেছি।
খাদ্য সংকট মোকাবেলায় প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ২৭ টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে এবং সামনে সরকারি বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে। যেখানে যতটা প্রয়োজন সেখানে (ইউপি) চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে চাল দেয়া হচ্ছে। পানি বন্দি মানুষ যারা আশ্রয়হীন তাদেরকে নৌকা যোগে হলেও ত্রাণ সামগ্রী পোছিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন বাণবাসী মানুষের পাশে থাকতে হটলাইন নাম্বার,,,,01300748287,,,, সেবা চালু করেছি এতে করে মানুষের অনেকটায় উপকারে আসবে।
নতুন সময়/টিআই
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au