প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “সরকারি তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর ও…
এরশাদ হোসেন, কেরানীগঞ্জ থেকে: দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে চাদাবাজি, কাউটাইল খেয়াঘাটের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ ইজারাদারদের বিরুদ্ধে।
রাজধানীর কোল ঘেঁষে ফতুল্লার ওপার কেরানীগঞ্জ কাওটাইল ব্রাহ্মণগাঁও জাজিরা ও মোল্লা বাজারের অসংখ্য ছাত্র /ছাত্রী, নারী-পুরুষের যাতায়াত কাওটাইল খেয়াঘাট দিয়ে ফতুল্লা তথা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ চলাচল। এক সময় এই ঘাটে পারাপারের জন্য ছোট ছোট নৌক দিয়ে নদী পাড় হত। কালের পরিবর্তনে আধুনিকায়নে এখন সাধারণ মানুষ ইঞ্জিনচালিত মাঝারি সাইজের ট্রলারে পারাপার হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে নদী পার, নৌ দুর্ঘটনা এড়ানো, বড় ঢেউ প্রতিরোধে অনেক উপকার ও যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে । শত শত মানুষ সিএনজি, ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশা, অবৈধ দোকান, মাদক বিক্রি, ছোট ছোট ঘর তুলে ব্যবসার মতো অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে পুরানো এই কাওটাইল খেয়াঘাটে। সবই হচ্ছে সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও নেত্রীর নেতৃত্বে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। খেয়াঘাটে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে স্থানীয় নেত্রী হাজার হাজার টাকা আদায় করছে প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে। এসব কারণে থানা আওয়ামী লীগ যেমন অসন্তোষ তেমনি প্রতিদিন নাজেহাল হচ্ছে নিরীহ মানুষ, অটোরিকশা ও সিএনজি চালক।১২ জুলাই কেরানীগঞ্জের কাওটাইল ব্রাহ্মণগাঁও জাজিরা ও মোল্লাবাজারে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কাওটাইল খেয়াঘাট দিয়ে ফতুল্লা পারাপার হওয়া যাত্রী আমজাদ হোসেন, বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর ও নৌকার মাঝি আব্দুল করিম এঅভিযোগ করেছেন। কাওটাইল খেয়াঘাট নিলামে নারায়ণগঞ্জের একজন ক্ষমতার নেতার লোকেরাই পেয়ে থাকে। প্রতি বছর ওপারের লোকদের কাছে এই ঘাটের ইজারাদার চলে যাচ্ছে। তাদের ইচ্ছে মতো ভাড়া নির্ধারণসহ খারাপ আচরণ করে যাচ্ছে পারাপার হওয়া প্রতিটি যাত্রীদের সাথে এসব মানুষের অভিযোগ শোনার কেউ নেই। আজ ট্রলার দিয়ে রিজার্ভ পার হওয়ার সময় ত্রিশ টাকা চাইলে আমরা জিজ্ঞাসা করায় মাঝি বলল ঘাট জমা বাড়াইছে। আগে দশ টাকার জায়গায় বিশ টাকা,ঘাট জমা বাড়ানোর কারনে এখন বিশ টাকা দিতে হবে ।
মাঝি আরো বলেন, আমরা তাদের নির্দেশ পালন করি। না হলে আমরা জমা কিভাবে দিব। যাত্রী খালেক মিয়া বলেন,আমাদের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আদায় করছে অতিরিক্ত টাকা। লোকাল পারাপারের জন্য সাধারণ মানুষের জনপ্রতি তিন টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা করা হয়েছে। আবার ইজারাদাররা কোন বস্তা বা হাতে ব্যাগ দেখলে জোর করে ব্যাগের বা বস্তার ভাড়া দিতে বাধ্যকরে। কোন কোন সময় যাত্রীদের সাথে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। রাত দশটার পর প্রায়ই পাঁচ টাকার পরিবর্তে দশ টাকা করে ভাড়া আদায় করে মাঝিরা । এসব ইজারাদারদের সাথে ও স্থানীয় কয়েকজন নাম ভাঙ্গানো নেতার জোক সাজাস রয়েছে , সাধারন মানুষের ইচ্ছার বিপরীতে করে থাকে। আর কত সহ্য করব।
সরেজমিনে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখা যায় , কাওটাইল খেয়াঘাট দিয়ে ঢাকার ফতুল্লায় যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ট্রলারে ওঠানামা করছে। মূল ঘাটের সড়কে মুখের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা চোখে পড়ে। মুল সড়কে উঠতে সড়কের প্রদান ফটক একেবারে সুরু নৌকা থেকে নামাটা দায়, কেউ কেউ আবার সুরু পথে উঠতে গিয়ে পরে যায়। এ খেয়াঘাটের যাত্রীদের পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। ঘাটের পাশেই নদী দখল করে গড়ে উঠেছে হাইস্প্রিট লঞ্চ কোম্পানির ডকইয়ার্ড। ঘাটের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়ায় দেয়া হয়েছে চায়ের দোকান, রিকশার গ্যারেজসহ বেশ কয়েকটি দোকান।
একপাশে পড়ে আছে ময়লার স্তূপ এ কারণে দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। ঘাটের পাশে রয়েছে একটা জামে মসজিদ সেটিও দখল থেকে রক্ষা পায়নি। ঘাট এলাকায় দোকানঘর স্থাপিত হওয়ায় সড়কের দুপাশ দখল হয়ে গেছে। ফলে সড়ক সরু হওয়ায় যানজট সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে ঘাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে। ইজারাদার ইজারা নিলেও তার নিজের কোন গুদারা নেই যা বৈধ ইজারাদার ইজারা নেওয়ার সময় নিজের গুদারা থাকা বাধ্যতা মুলক। কোন্ডা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মহিলা
আওয়ামী লীগের নেত্রী, সাধারণ সম্পাদিকা রাবেয়া ইয়াসমিনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন নাম না বলা শর্তে অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় আলেক মিয়া এবং তার ভাই জাহাঙ্গীর কাওটাইল ঘাট দখল করে স্থায়ী স্থাপনা তুলেছেন । ফারুকসহ কয়েকজনকে এসব স্থাপনায় দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে অর্ধলক্ষ টাকা আদায় করছেন। একটি ঘর দখলে রেখে সেখানে রাতে নানা অপকর্ম ও ব্যবসা পরিচালনা করছে। জাহাঙ্গীর খেয়াঘাটের একটি ঘরে বসে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে দেদারসে । এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আলেক মিয়া এবং তার ভাই জাহাঙ্গীরকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
অন্য দিকে খেয়াঘাটের সিএনজি চালক মোতালেব, লোকমান,আয়নাল,লিটন, শরীফ ও আকতারসহ কয়েকজন সিএনজি চালক অভিযোগ করে বলেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা রাবেয়া ইয়াসমিন খেয়াঘাটের রাস্তা দখল করে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে প্রতিদিন শতাধিক সিএনজি ও অটো রিকশার থেকে বিশ টাকা করে চাঁদা করছে। বাহিরের কোন সিএনজি আসলে তাদের কাছ থেকে ৫০-১০০ আদায় করতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে গাড়ি আটক থেকে শুরু করে চলে নানা রকম নির্যাতন। এ ব্যাপারে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কাওটাইল খেয়াঘাটে মাটি ভরাট করে ঘাটের জায়গা বড় করেছি। আমার দুইটা কিডনি নষ্ট তাই প্রতিমন্ত্রী আমাকে এই ঘাট দেখা শোনা ও চাঁদা তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন । তিনি প্রতিদিন বিশ টাকা করে চাঁদা আদায় করার কথা স্বীকার করেন। কেন টাকা তুলছে তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
কোন্ডা ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ পলাশ বলেন, কাওটাইল খেয়াঘাট দখল করে আওয়ামী লীগের নাম করে মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নাম বিক্রি করে। স্থানীয় যাত্রীরা অভিযোগ করেছে আলেক মিয়া ঘাট দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলেছে যাত্রীদের চলাচলে ব্যগাত ঘটিয়েছে, তার থেকে মুক্তি পেতে চায়। তার ভাই জাহাঙ্গীর মাদক বিক্রি ও দেহ ব্যবসাসহ শত শত অপকর্ম করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তিনি জানান,এরা আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তাদেরকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ চিনেন না। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলে।
কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাওটাইল খেয়াঘাট দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উঠানো বা অসামাজিক কার্যকলাপের ব্যাপারে আমার জানা নেই, ঘটনা সত্য হলে আমি আপনাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং বিষয়টি আমি নিজেও খতিয়ে দেখব। নদীবন্দরের পাশে একটি ব্যস্ততম খেয়াঘাটে এত দুর্ভোগের কারণ জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন,এরকম বিষয়টি তার জানা নাই তদন্ত করে সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
নতুন সময়/টিআই/ঢাকা
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au