সেই মাইকেলের শুধু আফতাব নগরেই আছে ২৯ ফ্ল্যাট!
সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোর চলছে দুদকে,তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাওয়ের সাব রেজিস্ট্রার…
রাফসান জনি টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: এলাকাবাসীর কাছে শেখ পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তি শেখ সেলিম ও শেখ ফাহিমের রেফারেন্স এর কথা বলে এবং সেটাকে মিথ্যা শক্তিতে রূপারন্তিত করে মুক্তিযোদ্ধা চাচার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করছে তার আপন ভাতিজা রোকনুজ্জামান ও তার গ্যাং। রোকনুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধা চাচার পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যার কারণে নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে মো: শাহজাহানের ছেলে-মেয়ে ও পরিবার।
জানা যায়, রোকনুজ্জামান বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করেন। সেখানে তার (বসের) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ পরিবারের পরিচয় আছে এমনটাই জানিয়ে এবং মৌখিকভাবে নিজেই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি চাচার জমি দখলের পায়তারা করছেন। স্থানীয় একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এই জমি দখলের জন্য প্রতারণার কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন শেখ পরিবারের ভিজিটিং কার্ড এবং তা ফটোকপি করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তা প্রচার করা। ওইসব কার্ড দেখিয়ে তিনি স্থানীয় কিছু লোকজন হাতে নিয়ে এসব অপরাধ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এবং গ্রামবাসীকে তাদের ভিজিটিং কার্ডের ফটোকপি করে দেখাচ্ছেন। সেই সঙ্গে তার বাবাও এসব ভিজিটিং কার্ড ফটোকপি করে গ্রামবাসীকে বিভ্রান্ত করেন।
রোকনুজ্জামান ও তার বাবা আ: করিমের এমন কার্যক্রমের কারণে গ্রামবাসী ফটোকপি করা কার্ড দেখে তাদের উপর বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। অনেকেই রোকনুজ্জামানকে প্রতারক হিসেবে ধারণা করছেন এবং তারা বলছেন চাচার জমি অন্যায় ভাবে দখল করে নেওয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে প্রতারণা করছে তারা।
তথ্য মতে, অভিযুক্ত প্রতারক রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এ কার্ডের মুলকপি ও ফটোকপি করে স্থানীয় কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র ও এমপির কাছে দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং তাদের কাছে শেখ পরিবারের নাম বিক্রি করার পায়তারা করেন। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার এসব প্রতারণা বুঝতে পেরে বিষয়টি আমলে নেননি।
জানা যায়- রোকনুজ্জামান মানুষের মাঝে ক্ষমতার আতঙ্ক জানান তৈরি করে তার মুক্তিযোদ্ধা আপন চাচার জমি দখলের মিশন নেওয়ার জন্য এই পথ বেছে নিয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল-৪ আসন এলাকা কালিহাতী থানার উত্তর চামুরিয়া গ্রামের মরহুম বছীর উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র মোঃ আব্দুল করিম এর সন্তান রোকনুজ্জামান। এর আগে তিনি এমন প্রতারণা অনেকের সঙ্গেই করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে গাল গল্প দিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিজেকে জাহির করেছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সে শেখ পরিবারের সদস্যদের নাম, পদবী, ক্ষমতা এবং অফিসিয়াল ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করে গ্রামের লোকদের মধ্যে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ওয়ারিশান সম্পত্তি ভাগ বন্টনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে প্রভাবিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
এসব অসৎ উদ্দেশ্যে এই অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে এ এলাকার সংসদ সদস্য সোহেল হাজারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং ওয়ারিশান সম্পত্তি বন্টন বিষয়ে অসত্য তথ্যের মাধ্যমে সংসদ সদস্যকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে সোহেল হাজারী প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর রোকনুজ্জামানকে ধমক দেন এবং এইরূপ ধৃষ্টতা যাতে আর দেখাতে না আসে সেই জন্য কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল হাজারী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, তার নাম রোকনুজ্জামান কি না সেটা আমার মনে নেই। তবে সে বড় শ্রেণীর মানুষের কথা বলে দেখা করতে এসেছিল হয়তো। এমনটা বুঝতে পেরে আমি তার বিষয়ক খোঁজখবর নিয়ে তাকে ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং বলেছি কারও ভিটাবাড়ি দখল করা আমার কাজ নয়।আমি সকলের জনপ্রতিনিধি।
জানা যায় যে, ওয়ারিশান সম্পত্তি বন্টনের বিষয়ে মরহুম বছির উদ্দিনের তিন পুত্র সন্তানের মধ্যে অনেক আগে থেকেই নিজ নিজ অংশের স্থান অলিখিতভাবে মীমাংসিত ছিল। সেই মোতাবেক তার দ্বিতীয় পুত্র মরহুম আব্দুল হালিম পৈত্রিক ভিটার পশ্চিম পার্শ্বে দালান কোঠা নির্মাণ করেন।
মৃত বছির উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মোঃ শাহজাহান (মুক্তিযোদ্ধা) এর নির্ধারিত স্থান ছিল ভিটার উত্তর পার্শ্বে তার ঘরসহ । যেহেতু পৈত্রিক ভিটার ঠিক পূর্বপার্শ্বে তার নিজ নামে ক্রয় করা সম্পত্তি রয়েছে এক দাগে বারো ডেসিমাল এবং তার স্ত্রী ও পিতা-মাতার কবরও রয়েছে জায়গাটিতে। সেই কবরসহ জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন রোকনুজ্জামান ও তার পিতা আ: করিম। সে বড় ভাইয়ের কাঁধের উপর ভর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড় ভাইয়ের আশীর্বাদেই তার আজ ব্যাংকের চাকরি হয়েছে বলে গ্রামবাসীর দাবি। অবশেষে তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহানকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করার অপচেষ্টা করছে জমি দখলের কারণে।
তথ্য মতে জানা যায়, আব্দুল করিমের নিজস্ব কেনা সম্পত্তি রয়েছে পৈতৃক ভিটার দক্ষিণ পার্শ্বে। সঙ্গত কারণেই তার ঘর দেবার কথা ছিল পৈতৃক ভিটার দক্ষিণ পার্শ্বে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি মীমাংসিত অবস্থাতেই ছিল। যে কারণে মৃত আব্দুল হালিম জীবিত থাকা অবস্থায় এসব বিষয় নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব কারো মধ্যেই ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আব্দুল করিম মীমাংসিত বিষয়টির খেলাফ করার কারণে নতুন এক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
রোকনুজ্জামান ভাগীদার নয় অংশীদার তার বাবা।সেই লক্ষ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধার উল্লেখিত ভাগের জমিটি এখন জোরপূর্বক এবং যেকোনো মূল্যে মো:শাহজাহানের নির্ধারিত স্থানটি দখল করে নিজেই ঘর তুলতে চাইছে অভিযুক্তরা। ঘর তুলতে মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান বাদি হয়ে মামলা করলে তাকে এবং তার ছেলে-মেয়েকে মারধরের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন রোকনুজ্জামান রাসেল শাহজাহান তালুকদার ও করিমসহ সুযোগসন্ধানীরা।
সেই সঙ্গে তার বড় ভাই এবং তার সন্তানদেরকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পায়তারা, ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এইরকম অন্যায়, জুলুম এবং হিংসাত্মক আচরণ করার জন্য সে তার ছেলে রোকনুজ্জামানকে হাতিয়ার স্বরূপ ব্যবহার করছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কোলাহলের কারণে মুক্তিযোদ্ধা মো:শাহজাহানের পরিবারের অনেকটা ক্ষতি হতে পারে। যে কোন সময় তারা বড় ধরনের ক্ষতির সংকটে পড়তে পারে ।
গ্রামবাসীর দাবি, এই ঘটনার মূল খলনায়ক মোঃ আব্দুল করিম। তিনি তার বড় ভাই মো: শাহজাহানের জন্য নির্ধারিত স্থান দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করার জন্য তার আরেক ভাই মরহুম আব্দুল হালিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র তাইফুর রহমান ওরফে রাসেল গংদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। অথচ একটিবারের জন্যও তিনি মোঃ শাহজাহানের সাথে হিংসাত্মক মনোভাব ত্যাগ করে কোন শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসেননি। বরং অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রমান্বয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান তার ভিটাবাড়ি রক্ষা করার জন্য এরই প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে গেল ২৬ শে এপ্রিল ২০২৩ কালিহাতি পৌরসভার মেয়র অফিসে বাদী হয়ে মোঃ আব্দুল করিম, রোকনুজ্জামান এবং তাইফুর রহমান রাসেল গংদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন (অভিযোগ নং ২২৬)।
মেয়র অফিসে অভিযোগের পর, বিষয়টি মেয়র আমলে নেন। মেয়র ঘটনাটি আমলে নেওয়ার কারণে তারা স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধিকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মেয়র এসব বিষয়ে অনেকটা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং সতর্ক রয়েছেন বলে মেয়র অফিসের বিভিন্ন তথ্য মতে জানা গেছে।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেয়র রাসেল গংদের সঙ্গে করে করিম এবং তার পুত্র রোকনুজ্জামানকে নিয়ে পারিবারিক একটি আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাজাহান ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে চাচাতো ভাই রোকনুজ্জামান ও তার গ্যাং এর লোকজনের কারণে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
নতুন সময়/টাঙ্গাইল
স্বত্ব © নতুন সময় - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au