করোনাভাইরাস: কানাডায় বর্তমান ও আগাম পরিসংখ্যান
ঢাকা: কানাডায় বর্তমানে ঝুঁকি থাকা সত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার জন্যই এ পরিকল্পনা। যদিও এখনও অনেকেই বাড়িতে থেকে অফিস করছেন। তবে তা ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তবে তা নির্দিষ্ট সংখ্যক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। গত দুই মাসের তুলনায় লোকজন এখন ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে বেশি। প্রচুর সংখ্যক লোক ও গাড়ির সমাগম ঘটেছে রাস্তাঘাটে।
বিভিন্ন অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে। কানাডায় এখন গ্রীষ্মকাল থাকায় অনেকেই সতর্কতার সঙ্গে বের হচ্ছে বিভিন্ন পার্ক ও রাস্তায়। যদিও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কানাডায় দিন দিন বেড়েই চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩হাজার ৭২৬ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ হাজার ৬৩৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫১ হাজার ৭৩৯ জন।
কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, কানাডার চিফ পাবলিক হেলথ অফিসার ড. থেরেসা ট্যাম এবং তার সহযাগী ডা. হাওয়ার্ড এনজু ৪ জুন আগামীতে কানাডায় কি হবে এমন মডেলিং পরিসংখ্যান এর উপরে ব্রিফিং করেছেন। ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে, কানাডায় আগামী ১৫ ই জুনের মধ্যে ৯৭ হাজার ৯৯০জন থেকে ১০ লাখ ৭ হাজার ৪৫৪ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এবং একই সময়ের মধ্যে ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৪০০ মানুষ মারা যেতে পারে।
ট্যাম ও এনজু আরও জানান , গত ১৪ দিনে কানাডায় মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৯০ % বেশি আক্রান্ত হয়েছে অন্টারিও এবং কুইবেকে।
সিবিসি নিউজ আরো জানিয়েছে, কানাডার মধ্যে প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড, উত্তর- পশ্চিম অঞ্চল এবং ইউকনে কোনও সংক্রমণ ঘটেনি এবং নুনাভাতে আজ পর্যন্ত কোন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি । কানাডায় মোট মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই ৬০ বা তার বেশি বয়সের । ৬০ বা তার বেশি বয়সের বয়সের ৭১ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৭৪২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৬১ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৭২১ জনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। বৃদ্ধদের কেয়ার হোমগুলোতে করোনায় ৭,৪৯৫ জন অর্থাৎ ৮২ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে ।
কানাডার শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কানাডিয়ান জনসংখ্যার উপর করোনাভাইরাসের যে প্রত্যাশিত প্রভাব আগামীতে ফেলবে সে সম্পর্কে এটি তৃতীয়বারের মতো আপডেট দিয়েছেন।
অন্যদিকে কানাডায় ৩৭ মিলিয়ন সিরিঞ্জ সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক একটি কোম্পানিকে দিয়েছে। ভ্যাকসিনেশনের জন্য এই সিরিঞ্জ এর প্রয়োজন হয়। কানাডা হঠাৎ করে এতো বিপুল সংখ্যক সিরিঞ্জ কিনছে কেন? ফেডারেল সরকারের পাবলিক সার্ভিস এবং প্রকিউরমেন্ট মিনিস্টার অনিতা আনন্দ মঙ্গলবার বলেছেন, আমরা আমাদের প্রস্তুত রাখছি। যখনি ভ্যাকসিন হবে তখনি যেনো কানাডার নাগরিকরা ভ্যাকসিন পেতে পারে তার প্রস্তুতি।
একদিকে অর্থনীতি সচল রাখা আর অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবকিছু মিলে এখনো কানাডার অধিবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।